ঢাকা, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ আপডেট : ৩ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১২ মে ২০২১, ১১:০২

প্রিন্ট

মাছ ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে মারলো খোকন

মাছ ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে মারলো খোকন
খোকন। ছবি: প্রতিনিধি

ধামরাই(ঢাকা) প্রতিনিধি

ঢাকার ধামরাই উপজেলার বালিথা এলাকায় মাছ না দেয়ায় মাছ ব্যবসায়ী মো. ছদর উদ্দিনকে (৫৫) গত রোববার সকাল ১০টার দিকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে খোকন। মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের লাশ ময়না তদন্ত করে নিহতের পরিবারের কাছে লাশ বুঝিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে শামীম হোসেন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

নিহত ছদর উদ্দিন উপজেলার বালিথা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত হানিফ বেপারির ছেলে। সে দুই সন্তানের জনক।

অপরদিকে খুনি খোকন (৪০) উপজেলার একই এলাকার মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।

জানা যায়, উপজেলার সূতিপাড়া ইউনিয়নের বালিথা গ্রামের মৃত হানিফ বেপারীর ছেলে ছদর উদ্দিন বেলিশ্বর গ্রামে খোকনের কাছ থেকে পুকুর ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছিলো। ছদর উদ্দীন সেই পুকুরের মাছ ধরে বিক্রি করে এবং খোকনের বাড়িতেও মাছ পাঠায়। তারপরও সে মাছ না দেয়ার কথা বলে গত রোববার সকালে লাঠি নিয়ে ছদর উদ্দীনের পুকুর পাশে উঁৎ পেতে থাকে। ছদর উদ্দিন পুকুর পারে গেলে খোকন তার সাথে বিক বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে খোকন তার হাতে থাকা তেলের কন্টিনার নিয়ে ছদর উদ্দিনের মাথায় আঘাত করে। পরে ছদর উদ্দিনের বুকে লাথি মারে এবং তার হাত টান দিয়ে ভেঙে ফেলে। ছদরের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে খোকন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়দের সহায়তায় ছদর উদ্দিনকে প্রথমে ইসলামপুর সরকারি হাসপাতালে নেয়া হলে পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভার সুপার ক্লিনিকে নেয়ার পর তাকে সেখান থেকেই ঢাকা নিওরো হাসপাতালে নেন। পরে গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়।

নিহতের লাশ পুলিশ ময়না তদন্ত করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। তবে পুলিশ এখনো খুনি খোকনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে নিহতের বাতিজা আলমগীর হোসেন জানান, বিএনপির সাবেক নেতা নব্য আওয়ামী লীগের হাইব্রিড নেতা রফিকুল ইসলাম নপুর আপন শ্যালা খোকনকে মাছ না দেয়ায় আমার চাচাকে হত্যা করেছে। নেতা নপু আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমার চাচার হত্যাকারীদের বিচার চাই। নপু বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য চেষ্টা করছে।

তবে রফিকুল ইসলাম নপু বলেন, আমি কাউকে হুমকি দেয়নি। এ নিয়ে কারো সাথে আমার কোন কথা হয়নি।

ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান বলেন, লাশ ময়না তদন্ত করা হয়েছে। পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত