ঢাকা, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ আপডেট : ১৪ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১২ মে ২০২১, ১১:২৩

প্রিন্ট

মিতু হত্যা: মামলা করবে মিতুর পরিবার

মিতু হত্যা: মামলা করবে মিতুর পরিবার
ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় তার স্বামী পুলিশের সাবেক এসপি বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সম্পৃক্ততা মেলায় হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে আইনিভাবে বাদীকে গ্রেপ্তারের সুযোগ না থাকায় আদালতে তাকে হাজির করার পর নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পর মঙ্গলবার সকালে বাবুল আক্তার চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে যান। সেখানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক (মেট্রো) সন্তোষ কুমার চাকমাসহ ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের একটি টিম বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখছে পিবিআই।

এর আগে গত সোমবার পিবিআইয়ের ঢাকা অফিসে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনকে ডেকে নিয়ে কথা বলেন কর্মকর্তারা। মোশাররফ হোসেন মেয়ে হত্যার জন্য বাবুল আক্তারকে দায়ী করে আসছিলেন।

পিবিআইয়ের উপ-মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মামলার বিষয়ে বাদী আগেও এসেছিলেন। গতকালও চট্টগ্রামে পিবিআই অফিসে গিয়েছেন। তিনি নিজে থেকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে গিয়েছেন। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।

সূত্রে জানা যায়, যেহেতু বাবুল আক্তার নিজেই মিতু হত্যা মামলার বাদী তাই সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের সুযোগ নেই৷ তাই দ্রুত মিতুর পরিবারের পক্ষ থেকে আরেকটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। সেই মামলা দায়েরের পর বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বুধবার আগের মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে মিতুর পরিবার বাবুল আক্তারকে আসামি করে হত্যা মামলা করতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মাহমুদা খানম মিতুকে। ওই সময় পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার অবস্থান করছিলেন ঢাকায়। চট্টগ্রামে ফিরে তিনি পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলায় তিনি বলেন, তার জঙ্গি-বিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রী আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারেন। তবে সপ্তাহ দুয়েকের মাথায় মিতু হত্যার তদন্ত নতুন মোড় নেয়।

বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ অব্যাহতভাবে হত্যাকাণ্ডের জন্য বাবুল আক্তারকে দায়ী করে থাকেন। তবে পুলিশের তরফ থেকে কখনোই এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি।

শুরু থেকে চট্টগ্রামের ডিবি পুলিশ মামলাটির তদন্ত করে। তারা প্রায় তিন বছর তদন্ত করেও অভিযোগপত্র দিতে ব্যর্থ হয়। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পিবিআইকে দেয়।

মিতু হত্যার পর বাবুল আক্তার প্রথমে ঢাকার মেরাদিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে উঠেছিলেন। কিছু দিনের মাথায় ২০১৬ সালের ২৪ জুন বাবুল আক্তারকে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে এনে প্রায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই বাসায় পৌঁছে দেয়া হয়।

পরে পুলিশ জানায়, বাবুল চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পরে বাবুল আক্তার দাবি করেন, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি। পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের জন্য ৯ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে তিনি আবার আবেদন করেন। ৬ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বাবুলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে চাকরিচ্যুত করা হলো।’

বাবুল আক্তার পুলিশের চাকরি ছেড়ে প্রথমে আদ–দ্বীন হাসপাতালে যোগ দেন। সম্প্রতি তিনি চীন থেকে পানি পরিশোধনকারী যন্ত্র এনে বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত