ঢাকা, শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

পায়ে শিকল পড়িয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষকের অমানবিক নির্যাতন

  রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৪৭

পায়ে শিকল পড়িয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষকের অমানবিক নির্যাতন
শিক্ষার্থীর পায়ে শিকল পড়িয়ে শিক্ষকের নির্যাতন। ছবি প্রতিনিধি
রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের পায়ে শিকল পড়িয়ে নানাভাবে নির্যাতনের ঘটনায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পানপাড়া বাজার দারুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসায়।

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে মাদ্রাসায় গিয়ে এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এমন সংবাদ উপজেলাব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলামকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

শুক্রবার সকালে স্থানীয় মোহাম্মদীয়া বাজার পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে স্বল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে শহীদুল ইসলাম উপজেলার পানপাড়া বাজারে দারুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসা নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুরু করে। শহীদুলের নিজ বাবা মফিজুল ইসলামকে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, নিজ স্ত্রী রাশেদ বেগম ও নিজের নিকট আত্বীয়কে নিয়ে একটি পরিচালনা কমিটি করে ১১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা দিয়ে মাদ্রাসাটি পরিচালনা করে আসছিলেন।

এর সুবাদে শিক্ষক গত ১১ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের ছাত্র আরমানের পায়ে শিকল পড়িয়ে সপ্তাহব্যাপী তার উপর নির্যাতন চালায়। এছাড়াও একই বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হোসেনকে দিয়ে শহীদুল শরীর ম্যাসেজ করিয়েও বর্বর নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে বিষয়গুলি জানাজানি হলে শহীদুল শিক্ষার্থী আরমান ও জাহিদের পরিবারের কাউকে কথা না বলার পরামর্শ দেন।

শিক্ষার্থী জাহিদের পিতা জানান, বাচ্চাদের আরবি শিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষ করার জন্য মাদ্রাসায় পড়তে দিয়েছি। হুজুরের এমন কর্মকাণ্ডে অনেক কষ্ট পেয়েছি। এখন ভাবছি জাহিদকে সেখান থেকে নিয়ে আসবো।

শিকল পরা আরমান হোসেনের পরিবারের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম জানান, ঘটনা সঠিক নয়। মূলত আমার মাদ্রাসা থেকে কিছুদিন আগে শিক্ষক আশেক এলাহী তারেককে চাকরিচ্যুত করার কারণে তার সহযোগী আবদুল কাইয়ুমসহ পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। এছাড়াও ভবিষ্যতে আমার এ মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে গেলে তারেক ও কাইয়ুম আরেকটি নতুন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার লক্ষেই আমার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্রের জাল তৈরি করেছেন।

রামগঞ্জ মোহাম্মদীয়া বাজার পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন জানান, গোপন সংবাদে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটা গত ২১দিন আগের ঘটনা। বিষয়টি তদন্ততাধীন রয়েছে। তদন্ত ছাড়া বিস্তারিত বলা যাবে না।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত