ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১১ কার্তিক ১৪২৮ আপডেট : ৫৬ মিনিট আগে

হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ও ঠিকাদারের নামে দুদকের মামলা

  কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৪১

হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ও ঠিকাদারের নামে দুদকের মামলা
ছবি: প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ও ঠিকাদারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে সমন্বিত জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন।

চিকিৎসাসেবায় বিভিন্ন ধরণের মেডিকেল ইকুইপমেন্ট বা চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ক্রয়ে সরকারি ক্রয়নীতি সঙ্ঘনসহ পরস্পর যোগসাজশে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক, ঠিকাদার ও মহাখালীস্থ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক মেরামত সহকারি ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে ১ কোটি ১০ লক্ষ ৩৫ হাজার ৯৭০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এ মামলা করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় কুষ্টিয়া জেলা দায়রা জজ বিশেষ আদালতের বিচারক শেখ আবু তাহেরের আদালতে দুদক প্রধান কার্যালয় ঢাকার উপ-সহকারী পরিচালক শহিদুর রহমানের দেয়া এজাহারটি আদালত আমলে নিয়ে আগামী সপ্তাহে শুনানিসহ আদেশের দিন ধার্য করেন।

দুদকের করা এই মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা শহরের হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা মৃত আহাম্মদ আলী মল্লিকের ছেলে ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের (অবসরপ্রাপ্ত) তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবু হাসানুজ্জামান (৬১), আশুলিয়া নিশ্চিতপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত. মওলানা কেরামত আলীর ছেলে এবং ঢাকা মহাখালীস্থ স্বাস্থ্য দপ্তরের সাবেক অ্যাসিস্টেন্ট রিপিয়ার এন্ড ট্রেনিং ইঞ্জিনিয়ার (অবসরপ্রাপ্ত) এ এইচ এম আব্দুল কুদ্দুস (৬১) এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স প্যারাগন এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ডাকরা গ্রামের বাসিন্দা আমির হামজার ছেলে জাহেদুল ইসলাম (৩২)।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ‘২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবায় বিভিন্ন ধরণের মেডিকেল ইকুইপমেন্ট বা চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়নীতি লঙ্ঘন ও পারস্পারিক যোগসাজশে আর্থিক সুবিধা কুক্ষিগত করার লক্ষ্যে ৯টি খাতের অনুকুলে বাজারমূল্যের কয়েকগুন বেশি মূল্য ধার্যপূর্বক সরকারের অতিরিক্ত টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য সেবা খাতে কর্মরত কর্মকর্তা হিসেবে নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারের মাধ্যমে ৫টি বিল ভাওচার দাখিল করে বিপুল পরিমান রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, যা দ:বি: ৪০৯/১০৯ ধারা তৎসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।’

সমন্বিত জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন সজেকা কুষ্টিয়ার কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আল মুজাহিদ মিঠু মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুদকের সব মামলাই চূড়ান্তভাবে আদালতে দাখিলের আগে খুব বিচক্ষণতার সাথে তদন্তকারী কর্মকর্তারা তদন্ত করেন এবং শুধুমাত্র যেসব ক্ষেত্রে সত্যতা আছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়, সেগুলিই মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। এই মামলার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আদালত আগামী সপ্তাহে যে আদেশ দেন সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন সংশ্লিষ্ট দুদক কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত