ঢাকা, শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

মায়ের পরকীয়ায় বাঁধা, প্রেমিক দিয়ে মেয়েকে খুন!

  চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫১

মায়ের পরকীয়ায় বাঁধা, প্রেমিক দিয়ে মেয়েকে খুন!
তাহমিনা সুলতানা রুমি ও তার প্রেমিক আব্দুল হান্নান। ছবি: প্রতিনিধি।
চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে আলোচিত নওরোজ আফরিন প্রিয়া (২১) হত্যা মামলায় প্রিয়ার মা তাহমিনা সুলতানা রুমি ও তার পরকীয়া প্রেমিক আব্দুল হান্নান প্রিয়াকে হত্যা করেছে বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তাহমিনা সুলতানা রুমি আদালতে এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এর আগে মেয়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মা নিজেই বাদি হয়ে শাহরাস্তি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গত বুধবার বিকেলে রুমির পরকীয়া প্রেমিক হান্নানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের আহাম্মদ নগর ছোটপোদ্দার বাড়িতে নওরোজ আফরিন প্রিয়াকে (২১) কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

এর আগে প্রিয়া কুমিল্লায় তার শ্বশুরবাড়ি থেকে বাপের বাড়ি বেড়াতে এসেছিল। প্রিয়ার একটি শিশু কন্যা রয়েছে।

শাহরাস্তি মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, নিহত প্রিয়ার মা তাহমিনা সুলতানা রুমি ও তার পরকীয়া প্রেমিক উপজেলার দেবকরা গ্রামের মৃত মুনসুর আলী ভূঁইয়ার ছেলে আব্দুল হান্নান (৩১) প্রিয়াকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে।

জানা যায়, মা তাহমিনা সুলতানা রুমির পরকীয়া প্রেমিক হান্নানের বাড়ি তাদের বাড়ির পাশেই। প্রিয়ার বাবা ইসমাইল হোসেন দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার সুবাদে গত ছয় বছর আগে প্রিয়ার মায়ের সঙ্গে হান্নানের পরকীয়ার সম্পর্ক হয়।

পরিবার ও এলাকার লোকজন বিষয়টি জানতে পারলে এ বিষয়ে একটি মামলাও করা হয়। পরে রুমির স্বামী ইসমাইল হোসেন স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কের বিষয়ে সৌদি আরব থেকে জানতে পেরে তার সাথে ছাড়াছাড়ির সিদ্ধান্ত নিলে স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকটি শালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়।

এরপর হান্নান বিদেশে পাড়ি জমান। গত এক মাস আগে হান্নান আবার দেশে ফিরে আসেন। মেয়ে পরকীয়ায় লিপ্ত না হওয়ার জন্য প্রায়ই মাকে বাধা দিতো। ফলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

ঘটনার সময় নিহতের মা তাহমিনা সুলতানা রুমি প্রিয়ার মেয়ে আনহার জন্য ঔষধ আনতে পাশের বাড়িতে স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক গৌরাঙ্গের কাছে গিয়েছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন। সেখান থেকে ফিরে তিনি ঘরে প্রিয়ার রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান।

শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান জানান, তাহমিনা সুলতানা রুমি ও তার পরকীয়া প্রেমিক আব্দুল হান্নান মিলে প্রিয়াকে খুন করেছে। মায়ের পরকীয়া জেনে ফেলায় ২ জনে পরিকল্পনা করে প্রিয়াকে তাদের পথ থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্যই এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ জানান, মামলার অভিযুক্ত ও মূল পরিকল্পনাকারী মামলার বাদি তাহমিনা সুলতানা ওরফে রুমি ও হান্নানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ঘটনায় জড়িত তার কথিত প্রেমিকের সঙ্গে আসা অপর দুইজনকে চেনেন না বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন নিহত প্রিয়ার মা তাহমিনা সুলতানা।

এক্ষেত্রে আমরা তার কথিত প্রেমিক আব্দুল হান্নানকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অপর দুই আসামিকে শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা করবো। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত