সেই সক্রিয় শিবিরকর্মী ফের নৌকার মাঝি!

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

আলাউদ্দিন আলাল মাস্টার

ঠাকুরগাঁওয়ে এক সময়ের সক্রিয় শিবিরকর্মী আলাউদ্দিন আলাল মাস্টার এবারও নৌকার মাঝি হয়েছেন। এমনই অভিযোগে সমালোচনার ঝড় উঠেছে খোদ তৃনমূল আওয়ামী লীগে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন আওয়ামী লীগসহ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা।

চতুর্থ ধাপে ইউপি নির্বাচনের উদ্দেশ্যে ঠাকুরগাঁও সদরের ১৭ নং জগন্নাথপুর ইউনিয়ন থেকে এই আলাল মাস্টার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দেবেশ চন্দ্র শর্মা ও সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার রায় স্বাক্ষরিত বেশকিছু নথিপত্র ও অভিযোগনামা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে পাঠানো হয়।

সেই অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, আলাল মাস্টার এক সময় সক্রিয় শিবিরকর্মী ছিলেন। পরে ২০০৯ ও ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি ইউনিয়ন জামাতের জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগদান করেন। বিএনপির দলিয় সমর্থন নিয়ে ২০১২ সালের ইউপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। এরপর ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির হয়ে ভোটকেন্দ্র ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ রয়েছে, আলাল মাস্টার বিভিন্ন আওয়ামী লীগ কর্মী ও ভোটারদের ওপরে নির্যাতন করতেন। এরপর ২০১৫ সালে সুকৌশলে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। পরে ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে হঠাৎ তিনি আওয়ামী লীগে নৌকা প্রতীক পেয়ে যান এবং নির্বাচিত হন।

এরপর আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী নিয়ে আলোচনা শুরু হলে ২০১৯ সালে প্রকাশিত রংপুর বিভাগের ৩৮৯ জন অনুপ্রবেশকারীর তালিকায় তার নাম উল্লেখ করা হয়।

আলাল মাস্টার জামায়াত শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন- এর সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম বলেন, সে ছাত্রজীবনে ছাত্র শিবিরের সাথে যুক্ত ছিলেন। আলালের সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তাকে জগন্নাথপুর ইউনিয়নে জেনারেল সেক্রেটারির দায়িত্ব দেয়া হয়।

আলাল মাস্টারের বিষয়ে অভিযোগ পাঠানোর বিষয়ে কথা হয় জগন্নাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি দেবশ চন্দ্র শর্মার সাথে। তিনি বলেন, আলাল মাস্টারতো সুবিধাবাদী লোক। যেই দল ক্ষমতায় থাকবে, সেই দলের হয়ে যাবে। তার ভাই জেনারুল এখনও ইউনিয়ন বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক। তার বেশিরভাগ কর্মী বিএনপি জামাতের। উনি এই মেয়াদে আওয়ামী লীগ কর্মীদের সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত রেখে বিরোধীদের নিয়ে কাজ করেছেন। আবার উনি নৌকার প্রতীকে নির্বাচনে গেলে আওয়ামী লীগ এই ইউনিয়নটি হারাতে পারে এমন শঙ্কায় আছি।

ওই ইউনিয়নের তৃনমূল আওয়ামী লীগ কর্মী মিজানুর বলেন, আলাল বাদে যে কাউকে নৌকা দেয়া হোক। আমরা পাশে থাকবো। কিন্তু আলাল মাস্টার আর না। তিনি এবার টিআর, কাবিখা ও বয়স্ক ভাতার বেশিরভাগ সুযোগ-সুবিধা দিয়েছন বিএনপিপন্থীদের। এতে আমরা বঞ্চিত হয়েছি। তার বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ থাকার পরেও কীভাবে সে নৌকা পায় তা বুঝতে পারি না। এবার প্রয়োজনে নির্বাচন করবো না, তবুও তার তার নির্বাচনে আমরা থাকবো না।

বিএনপির সাথে যুক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী আলাল মাস্টার বলেন, আমি বিএনপির সমর্থন করতাম। জামাত শিবিরের সাথে, এটা অনেক আগের কথা। এই বিষয়ে আমি বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অরুণাংশু দত্ত টিটু বলেন, হ্যা আলাল মাস্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি আমি জানি। যারা নৌকা প্রতীক চেয়ে পায়নি, তারাই এসকল অভিযোগ নিয়ে ঘুরছে। তিনি এর আগেও নৌকার প্রতীকে নির্বাচন করে জয় পেয়েছেন। হয়তো সেই কারণেই কেন্দ্র থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে