সার সঙ্কটে দিশেহারা কৃষক

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ২২:০২ | অনলাইন সংস্করণ

  রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

সার কেনার জন্য দীর্ঘ লাইন। ছবি: প্রতিনিধি

চলতি রবি মৌসুমে দেশের বেশকিছু স্থানের মতো ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে সারের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সার সঙ্কটে কৃষকরা তাদের চাষাবাদ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এছাড়া ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা ইউরিয়ার সঙ্গে বোরনসহ অন্যান্য সার নিতে বাধ্য করছেন বলে অভিযোগ।

কৃষকদের অভিযোগ, সার ডিলাররা সারের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে চলতি রবি মৌসুমে সময়মত কৃষককরা সার না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

হরিপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কৃষিকাজে যুক্ত জামালউদ্দীন বলেন, চলতি মৌসুমে গম, ভুট্টা ও আলুর ক্ষেতে বিভিন্ন প্রকার সার প্রয়োগ করতে হচ্ছে।  ডিলারদের কাছে গিয়ে সময়মতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাগণ সারের কৃত্রিম সঙ্কট দেখিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে বেশি দামে সার বিক্রি করছে।

তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত বিক্রিমূল্য এমওপি (পটাশ) সার প্রতি বস্তা ৭৫০ টাকা, ইউরিয়া ৮০০ টাকা ও টিএসপি ১১০০ টাকা। তবে বাজার থেকে কৃষকদের ক্রয় করতে হচ্ছে পটাশ (এমওপি) ৯৭০ থেকে ১০৫০ টাকায়, ইউরিয়া ৮৫০ টাকায় ও ডিএপি ১ হাজার থেকে ১৩০০ টাকায়।

কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা নিয়মিত সারের বাজার মনিটরিং না করার ফলে সারের কৃত্রিম সঙ্কট দেখা দিয়েছে ও কৃষকদের বাড়তি টাকা দিয়ে সার ক্রয় করতে হচ্ছে- এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেয়া হচ্ছে। সারের বেশি দাম নেয়াকে কেন্দ্র করে খুচরা সার বিক্রেতা বাবলু মিয়ার সঙ্গে কয়েকজন স্থানীয় কৃষকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডাও হয়।

কৃষকদের দাবি, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা সারের কৃত্রিম সঙ্কট দেখিয়ে সব ধরণের সারের দাম বেশি নিচ্ছে। খুচরা বিক্রেতা ও ডিলারদের কাছে ইউরিয়া সার কিনতে চাইলে তারা ইউরিয়ার সঙ্গে বোরনসহ অন্যান্য সার নিতে বাধ্য করছেন। এতে কৃষকরা অনেকে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বৃহস্প্রতিবার সকালে উপজেলার আমগাঁও ইউনিয়নে জামালউদ্দীন নামে এক বিএডিসি সার ডিলারের কাছ থেকে ১ বস্তা এমওপি (পটাশ) সার ১ হাজার টাকা দিয়ে কেনেন আনন্দ চন্দ্র বণিক নামে এক কৃষক। সারের দাম বেশি নেয়ার বিষয়ে জানতে বিএডিসি সার ডিলার জামালউদ্দীনকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আমগাঁও ইউনিয়নের আরেক কৃষক আবু সায়েম জানান, ডিলার ও খুচরা সার বিক্রেতারা কৃত্রিম সার সঙ্কট দেখিয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রতি বস্তা এমওপি (পটাশ) সার ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা নিচ্ছে। আমরাও বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দাম দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে।

সারের অতিরিক্ত দাম নেওয়ার কারণে কয়েকদিন পূর্বে উপজেলার কয়েকটি সার ডিলারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে৷ তবুও থামছেনা ডিলারদের অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করা।

হরিপুর উপজেলার বিএডিসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি মাইনুদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, আমাদের বিএডিসি ডিলারদের বরাদ্দ থেকে কেটে বিসিআইসি অনুমোদিত ডিলারদের নামে বরাদ্দ দেয়ার কারণে সার সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার রুবেল হোসেন বলেন, এ সপ্তাহের মধ্যে সার সঙ্কটের বিষয়টি কেটে যাবে। দুই-তিনদিনের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার আমদানি হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে