ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ আপডেট : ১৯ মিনিট আগে

রাণীশংকৈলে ডায়রিয়ার প্রকোপ, সঠিক সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা

  আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)

প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১৩:৫৩  
আপডেট :
 ২৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬:৩০

রাণীশংকৈলে ডায়রিয়ার প্রকোপ, সঠিক সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা
ছবি: প্রতিনিধি
আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। যার অধিকাংশ শিশু। রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত ওষুধপত্রের সরবরাহ। চিকিৎসকদের হাসপাতালে না থেকে বেশিরভাগ সময় প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীরা। ফলে সঠিক সেবা পাচ্ছেন না বলে জানান তারা।

রাণীশংকৈল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক সপ্তাহ ধরে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যার মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৬ ডিসেম্বর ৭ জন শিশুসহ ১২ রোগী চিকিৎসাধীন ছিল। গত ২ সপ্তাহে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৭০-এ। যার মধ্যে শিশুর সংখ্যাই ছিল ৫০ জনের মত ।

এদিকে, রানীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া ছাড়াও নিউমোনিয়া কাশি শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। প্রতিনিয়ত শিশু বয়স্ক রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া এবং ওষুধপত্র হাসপাতালে সরবরাহ না থাকায় সংকট দেখা দিয়েছে।

রোগীর স্বজনদের দাবি ডায়রিয়া রোগীদের সঠিকভাবে খাবার স্যালাইনসহ অন্য কোনো ট্যাবলেট-ক্যাপসুল দেওয়া হয়না। এতে করে গরিব অসহায় রোগীদের পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে। পরিছন্নকর্মীরা হাসপাতালের ফ্লোর পরিষ্কার না করারও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী রোগীরা। রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের বাথরুম ও ফ্লোরগুলোর ময়লার দুর্গন্ধে সেখানে থাকা কষ্টকর । রোগীদের খাবারের মান নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।

রাণীশংকৈল ৫০ শয্যা হাসপাতালে বর্তমানে ১১ জন ডাক্তার রয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের হাসপাতালে না থেকে বেশিরভাগ সময় প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীরা।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ক্ষুদ্র বাঁশবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা সুমন পাটোয়ারি বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। অবকাঠামো অনুযায়ী উপকরণ নাই, অনেক মেশিন অচল হয়ে পড়ে আছে। ডাক্তার থাকে না, গেলে কোনো সেবা পাওয়া যায় না।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল ও যন্ত্রপাতির ঘাটতি থাকায় মেজর অপারেশনের সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল কর্মকর্তা থাকলেও কোনো সার্জন ও গাইনোকোলোজিস্ট না থাকায় মেজর অপারেশন ও সিজারের জন্য রোগীদের জেলা শহরে ছুটতে হয়।

এক্স-রে মেশিন নষ্ট এবং মেশিন থাকার পরও সনোলোজিস্ট ও ইসিজি অপারেটর না থাকায় রোগীদের এ পরীক্ষাগুলো বাইরে করাতে হচ্ছে। ফলে রোগীদের গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ। শুধু তাই নয়, ঘাটতি আছে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বেলাতেও। জনবল কম থাকায় ব্যাহত হচ্ছে সেবার মান। একাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। ফলে হাসপাতালের পরিবেশ অধিকাংশ সময় নোংরা ও অপরিষ্কার থাকে।

রোগীদের নিন্মমানের খাবার দেওয়ার বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুস সামাদ চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, খাদ‍্যের তালিকা দেওয়া আছে, আরএমও ডা. ফিরোজ আলম আছেন, তার সাথে যোগাযোগ করে মিলিয়ে দেখেন। যদি কোনো অনিয়ম থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ফিরোজ আলম বলেন, ‘শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এদের মধ্যে শিশুদের আক্রান্তের হার বেশি। শিশুদের যেন ঠাণ্ডা না লাগে সে বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। এ ছাড়া শিশুদের পুষ্টিকর খাবার বেশি বেশি দিতে হবে।’

হাসপাতালের ফ্লোর বাথরুম অপরিষ্কার, দুর্গন্ধে রোগীদের ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‌'পরিছন্নকর্মীর সংখ্যা কম বলেই এই অবস্থা। আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজ অর্থায়নে একজন পরিচ্ছন্নকর্মী নিয়োগ দিয়েছি। খুব শিগগির এসব সমস্যা আর থাকবে না।'

বাংলাদেশ জার্নাল/পিএল

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত