ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ আপডেট : ৬ মিনিট আগে

পানকৌড়িদের মিলনমেলা হয় শিমুল গাছটিতে

  আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)

প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৫:১০  
আপডেট :
 ০২ জানুয়ারি ২০২২, ১৯:৩১

পানকৌড়িদের মিলনমেলা হয় শিমুল গাছটিতে
ছবি: প্রতিনিধি
আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)

মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে একটি বিশাল আকারের শিমুলগাছ। বিকেলের সোনালি রোদে গাছটির ডালে ডালে পানকৌড়িদের মিলনমেলা হয়। একটি গাছে একসঙ্গে এত পানকৌড়ি দেখে পথচারীদের চোখ জুড়িয়ে যায়। প্রাণ জুড়ায় ওই গাছের মালিক ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলা থেকে কাঠালডাঙ্গী যাওয়ার সড়ক ঘেঁষা কেউটান গ্রামের যাদব রায়েরও।

তিনি বলেন, পাখিদের সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব। আর এখানে এতো পাখি আসে বলেই প্রতিদিন দূর-দুরান্ত থেকে কত মানুষ দেখতে আসে। দেখে ভালো লাগে। প্রতিবছর শীতে এলেই ওরা আসতে শুরু করে এখানে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুলিক নদীর পাশে সব গাছ ছাড়িয়ে মাথা উঁচু করে আছে একটি শিমুলগাছ। সেই গাছের ডালে ডালে শুধু পানকৌড়ি আর পানকৌড়ি। পাখিগুলোর নিরাপদ অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে গাছটি। পাখিগুলোর কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। এই দৃশ্য দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকে ভিড় করেছে অনেক মানুষ।

তবে স্থানীদের অভিযোগ, আগের মতো এবারে একটু কম দেখা মিলছে এই পাখিদের। কারণ ইদানিং কিছু মানুষ হাতে বন্ধুক নিয়ে এসে পাখিগুলো শিকার করছেন। পাখিগুলো শিকার না করার জন্য বলা হলেও তারা কোনো কথা শোনে না। সেইসঙ্গে পানকৌড়ি শিকার বন্ধের দাবি জানান স্থানীয়রা।

কেউটান গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ারুল ইমলাম বলেন, রাতে পাখিগুলো শিমুল গাছটিতেই থাকে। সকাল হলেই পাখিগুলো বেড়িয়ে পড়ে খাদ্যের খোঁজে। আবার সন্ধ্যা হলেই ফিরে আসে গাছটিতে। দেখতে অনেক সুন্দর লাগে। এই পানকৌড়ি পাখিগুলো শিমুল গাছটিকে তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল মনে করে বাস করছে। এক সময় এ গাছটিতে প্রচুর পরিমাণে পাখি ছিল। কিন্তু পাখি শিকারীদের কারণে তার সংখ্যা অনেকাংশে কমে গেছে। তাদের নিরাপত্তা দিতে হবে।

রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম বলেন, পাখিগুলোর কারণে ঐ এলাকার সৌন্দর্য ফিরে পায়। পাখি আমাদের পরিবেশ রক্ষায় প্রচুর ভূমিকা রাখে। তাই পানকৌড়ি পাখিগুলোর নিরাপত্তা সহকারে পরিচর্যা করলে পাখির সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। শিমুল গাছটি যেন নিরাপদে থাকতে পারে সেজন্য প্রশাসনকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল সুলকান জুলকার নাইন কবির স্টিভ বলেন, পাখি আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য ধরে রাখে। তাই পাখিদের প্রতি সকলকে সহনশীল হতে হবে। শিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পাখিগুলোর নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনিক তৎপরতা আরো জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ জার্নাল/পিএল

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত