দুই শিশু ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাপানি মায়ের কাছে থাকবে

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১১:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

  জার্নাল ডেস্ক

সংগৃহীত ছবি

জাপান থেকে আসা দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের মা নাকানো এরিকোর কাছে থাকবে। 

 তবে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে যেকোনো সময় শিশুদের সঙ্গে তাদের বাংলাদেশি বাবা ইমরান শরীফ দেখা করতে পারবেন। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী আদেশ দেবেন আপিল বিভাগ।

বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ আজ রোববার এ সিদ্ধান্ত দেন। একই সঙ্গে আবেদনের শুনানি ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।

৩ জানুয়ারি আপিল বিভাগ ওই দুই শিশু কার সঙ্গে থাকবে, তা জানিয়ে ২৩ জানুয়ারি দিন রেখেছিলেন। আবেদনকারীপক্ষকে (শিশুদের মা) ২৩ জানুয়ারির মধ্যে নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় আজ বিষয়টি ওঠে।

আদালতে শিশুদের বাবার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। শিশুদের মায়ের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি।

শুনানিতে ফিদা এম কামাল বলেন, ৩ জানুয়ারির আদেশ সংশোধন চেয়ে করা আবেদন রয়েছে।

আদালত বলেন, ‘প্রধান বিচারপতিসহ আমরা বিষয়টি শুনেছি। তাকে ছাড়া বিষয়টি শোনা বোধ হয় সঠিক হবে না।’

আইনজীবী ফিদা এম কামাল বলেন, ‘একটু তাড়াতাড়ি যদি শুনানি করা যেত, শিশুরা ভুগছে। একটি অ্যাপার্টমেন্ট ছিল। মা একটি হোটেলে নিয়ে গেছে। বাচ্চাদের খুব কষ্ট হচ্ছে।’

আদালত বলেন, ‘এটি আমরাও বুঝতে পারছি। উনি (প্রধান বিচারপতি) হাসপাতালে। দুই সপ্তাহ দিচ্ছি, আগের মতো থাকবে। ৬ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি আসবে।’ 

২০০৮ সালের ১১ জুলাই এরিকো ও ইমরানের বিয়ে হয়। তাদের তিন মেয়েসন্তান রয়েছে। 

গত বছরের ১৮ জানুয়ারি এরিকোর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন ইমরান। এরপর ২১ ফেব্রুয়ারি দুই মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন তিনি। ছোট মেয়ে জাপানে রয়েছে। 

ইমরানের কাছ থেকে ১০ ও ১১ বছর বয়সী দুই মেয়েশিশুকে ফিরে পেতে ঢাকায় এসে গত ১৯ আগস্ট রিট করেন এরিকো। পরে ছোট মেয়েকে ফিরে পেতে আরেকটি রিট করেন ইমরান। 

এরিকো ও ইমরানের পৃথক রিটের ওপর শুনানি নিয়ে দুই শিশু তাদের বাবা ইমরানের হেফাজতে থাকবে বলে গত ২১ নভেম্বর হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছিলেন। এর বিরুদ্ধে এরিকো আপিল বিভাগে আবেদন করেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ