ঢাকা, শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ আপডেট : ২২ মিনিট আগে

ঢাকার ৬৯ শতাংশ করোনা রোগীরই ওমিক্রন

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১৬:৩২  
আপডেট :
 ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১৬:৩৬

ঢাকার ৬৯ শতাংশ করোনা রোগীরই ওমিক্রন
প্রতীকী ছবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ঢাকায় জানুয়ারি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের ৬৯ শতাংশের শরীরে ওমিক্রন ধরন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থা আইসিডিডিআর’বি।

আইসিডিডিআর'বির (আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা সংস্থা, বাংলাদেশ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্ততপক্ষে ওমিক্রনের তিনটি সাব-টাইপ ঢাকা শহরে ছড়িয়ে পড়েছে।

সংস্থাটি জানুয়ারি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে ৩৭৯ জন কোভিড-১৯ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে এসব তথ্য জানতে পেরেছে। তাদের মধ্যে ২৬০ জনই ওমিক্রন ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্ত হয়েছেন, শতকরা হিসাবে তা ৬৯ শতাংশ।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সর্বশেষ ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হয় ৬ই ডিসেম্বর। সে সময় ৭৭ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে পাঁচ জনের শরীরে ওমিক্রন পেয়েছিল আইসিডিডিআর,বি। বাকিরা ছিলেন ডেল্টা ধরনে আক্রান্ত।

কিন্তু জানুয়ারি মাসে সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন ডেল্টার চেয়ে ওমিক্রন ধরন বেশি শনাক্ত হচ্ছে।

বর্তমানে বিশ্বের একশোর বেশি দেশে ওমিক্রন ধরন ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনটি করোনা ভাইরাসের অন্য ধরনের চেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে বিজ্ঞানীরা বলছেন।

আইসিডিডিআর,বির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে গত বছরের জানুয়ারি থেকে মধ্য মার্চ পর্যন্ত করোনার আলফা ধরনের আধিপত্য ছিল।

গত বছরের মার্চ মাসে বেটা ধরন শনাক্ত হয়। মে মাসের মধ্যেই সেই ধরনে আক্রান্তের সংখ্যা অন্যগুলো ধরনকে ছাড়িয়ে যায়।

২০২১ সালের মে মাস নাগাদ ডেল্টা ধরন শনাক্ত হয় বাংলাদেশে। সেই বছরের জুন মাস নাগাদ আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয় ডেল্টা ধরন।

সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ওমিক্রন শনাক্ত হয়। এরপর থেকে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

আইসিডিডিআর’বি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, তারা ২৯ জন ওমিক্রন আক্রান্তের টেলিফোন সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, যাদের মধ্যে পুরুষ ১৩ জন; নারী ১৬ জন। এদের মধ্যে ২৪ জনই কোভিড-১৯ দ্বিতীয় ডোজের টিকা পেয়েছেন; তিনজন পেয়েছেন প্রথম ডোজের টিকা।

তাদের কারও মধ্যে হালকা উপসর্গ দেখা গেছে, কারও মধ্যে কোন উপসর্গই দেখা যায়নি। এই ২৯ জন আক্রান্তের একজনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।

এদের একজন শুধুমাত্র সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন। অন্য কেউই দেশের বাইরে ভ্রমণ করেননি।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত রোববারের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৬ লাখ ৮৫ হাজার ১৩৬ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন; এ ভাইরাস প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ২৮ হাজার ২২৩ জনের।

তবে গত সপ্তাহেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছিল, তখন পর্যন্ত ডেল্টা ধরনের আধিপত্য বেশি।

কিন্তু জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ঢাকার একজন বিজ্ঞানী বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, পরবর্তী তিন থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে পুরো বাংলাদেশে ওমিক্রন ধরন ছড়িয়ে পড়বে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিরাময় ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন গত ৪ জানুয়ারি বিবিসি বাংলাকে বলেন, এখনও মানুষ ডেল্টা ধরনেই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু ওমিক্রনের সংক্রমণ শক্তি বেশি হওয়ায় আরও বেশি সংখ্যক লোক আক্রান্ত হবেন।

তারপর মোটে তিন সপ্তাহ পেরিয়েছে। যদিও বাংলাদেশে খুব বেশি সংখ্যক নমুনার জিন বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা নেই। তারপরও যা নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে তাতে ওমিক্রনের আধিপত্যই এখন দেখা যাচ্ছে।

ওমিক্রনকে বিজ্ঞানীরা বর্ণনা করেন সুপারস্প্রেডার ভ্যারিয়ান্ট হিসেবে। বাংলাদেশে প্রতিদিন যেভাবে শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে মনে হচ্ছে নতুন এই ঢেউয়ে ভাইরাসটি বিদ্যুতের গতিতেই ছড়াচ্ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/ টিটি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত