ঢাকা, রোববার, ২২ মে ২০২২, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ আপডেট : ৬ মিনিট আগে
ব্রেকিং নিউজ
  •   দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হাজী সেলিমের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত

মাউশিতে করোনার হানা

  আসিফ কাজল

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১৭:১৮

মাউশিতে করোনার হানা
আসিফ কাজল

ডিসি সম্মেলনে যোগ দেয়ার কথা ছিলো মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) প্রফেসর শাহেদুল খবির চৌধুরীর। নিয়ম মাফিক করোনা টেস্ট করেন তিনি। কিন্তু ফলাফল দেখে অবাক হন। কারণ টেস্টের ফলাফল পজেটিভ আসে তার। ফলে তিনি যোগ দিতে পারেননি ডিসি সম্মেলনে।

মাউশি কর্মকর্তারা বলেন, স্যারের কোনো উপসর্গ ছিলো না। কিন্তু এরপরও করোনা সংক্রমণের টেস্টে তার পজেটিভ ফলাফল এসেছে। এখন তিনি বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। ভালো আছেন।

শুধু মহাপরিচালক নন, ভবনের একাধিক কর্মকর্তা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত তিন দিনে একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে ভবনেও নেমে এসেছে স্থবিরতা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারী অনেকের উপসর্গ আছে। আবার অনেকের উপসর্গ নেই। কিন্তু টেস্ট করা হলে অনেকের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়বে। এর মধ্যেই মাউশিতে চলছে ট্রেনিং প্রোগ্রাম। ফলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যালয় শাখার উপপরিচালক মো. আজিজ উদ্দিন বিদেশে যাওয়ার জন্য লিয়েনে দুই মাসের ছুটি নিয়েছেন। উদ্দেশ্য ছিলো পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পাড়ি দেবেন অস্ট্রেলিয়া। শেষ কদিনে তিনিও নিয়মিত অফিস করেছেন। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার আগে বাধ্যতামূলক করোনা টেস্টে তার ফলও পজেটিভ আসে। ফলে বিদেশ যাওয়া হয়নি তার। এখন তিনি বাসায় আছেন।

এ বিষয়ে আজিজ উদ্দিন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, কোভিড-১৯ পজেটিভ হওয়ায় বাসায় কোয়ারেন্টিনে আছি। সবসময় মাস্ক পরে থাকার পরও পজেটিভ হয়েছি। এখন বের হতে পারছি না, এজন্য খারাপ লাগছে।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধুমাত্র বিদ্যালয় শাখায় দুই জন কর্মকর্তা কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। উপসর্গ রয়েছে অনেকের। এর মধ্যে কিছু কর্মকর্তা অফিসে আসছেন। কেউ আবার ছুটিতে গেছেন।

সূত্র জানায়, বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার সহকারী পরিচালক চন্দ্র শেখর হালদার করোনা উপসর্গে ভুগছেন। তিরি জ্বর ও ঠাণ্ডায় আক্রান্ত। ভবনের নিচ তলার আইসিটি বিভাগের সহকারী পরিচালকের শরীরে করোনা উপসর্গ দেখা দিয়েছে। সোমবার অফিস করেননি তিনি। অফিসে কলেজ শাখার উপপরিচালক মো. এনামুল হক হাওলাদারও যোগ দেননি। এছাড়াও গড়ে ১০-১৫ জন করোনা উপসর্গে ভুগছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের মধ্যে যারা সুস্থবোধ করছেন তারাই অফিসে এসেছেন। যারা অসুস্থ তাদেরকে অফিসে আসতে মানা করা হয়েছে। কামাল নামের সেসিপের একজন কর্মকর্তাও করোনা পজেটিভ হয়েছেন। কিন্তু আজ সোমবারই তাকে বদলির আদেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অর্ধেক জনবল দিয়ে অফিস চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মাউশি পরিচালক (বিদ্যালয়) বেলাল হোসাইন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমার জানা মতে ৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকের শরীরে উপসর্গ আছে। তাদেরকে টেস্ট করতে বলা হয়েছে।

কিভাবে মাউশি চলছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশনা অনুযায়ী অর্ধেক জনবলে অফিস চলছে। এ বিষয়ে মৌখিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ৫০ শতাংশের মধ্যেও যদি কেউ অসুস্থবোধ করে বা জ্বর আসে তাকেও অফিসে আসতে হবে না। কিন্ত সবাইকে অনলাইনে শতভাগ কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানান তিনি।

বাংলাদেশ জার্নাল/একে/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত