ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ আপডেট : ৯ মিনিট আগে

বন্ধ হচ্ছে মাংস আমদানি

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ২০:৫০

বন্ধ হচ্ছে মাংস আমদানি
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাংস আমদানি বন্ধে কৌশলগত নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে যাতে মাংস আমদানি না হয় সেক্ষেত্রে আমরা কৌশলগত নীতি নির্ধারণ করেছি। কারণ আমাদের দেশে পর্যাপ্ত গবাদিপশু রয়েছে। যেহেতু দেশেই পর্যাপ্ত মাংস উৎপাদন হচ্ছে তাহলে কেন বিদেশ থেকে আমরা মাংস আনব? পর্যায়ক্রমে সেগুলো বন্ধের দিকে আমরা যাচ্ছি। সরকার এ ব্যাপারে সক্রিয় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘তবে সব সময় শুধু সরকারের উপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। সরকার বেসরকারি খাতকে উদ্বুদ্ধ করছে, উৎসাহিত করছে, সহযোগিতা দিচ্ছে। এ খাত সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা আমরা চাই।’

শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরণে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদিত সামগ্রী যাতে বিদেশে রপ্তানি করা যায় সেজন্য আমরা বিশ্বের উল্লেখযোগ্য দেশগুলোতে বাজার সৃষ্টির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বেশ কয়েকটি দেশ আমাদের দেশ থেকে মাছ-মাংস আমদানির ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে।

‘এ বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। প্রাণিজাত খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে যারা জড়িত আছেন তাদের নিশ্চিত করতে চাই যে, বিশ্ববাজারে আপনাদের উৎপাদিত সামগ্রী ছড়িয়ে দিতে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘করোনাকালে খামারিদের উৎপাদিত সামগ্রী যাতে মুখ থুবড়ে না পড়ে সেজন্য দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমরা ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় ব্যবস্থার মাধ্যমে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম বিক্রির ব্যবস্থা করেছি। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

‘বিদেশ থেকে আমদানিকৃত মাছের বা প্রাণীর খাবার বিমানবন্দর, নদীবন্দর বা সমুদ্রবন্দরে যাতে আটকে না থাকে সেজন্য আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করে মৎস্য ও প্রাণিজাত পণ্য সামগ্রীর পরিবহন স্বাভাবিক রেখেছি। লক্ষ্য ছিল উৎপাদনকারীরা যাতে বিপদে না পড়ে এবং উৎপাদিত সামগ্রী বিক্রি করতে পারে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ খাতে শুধু উৎপাদন বৃদ্ধিই নয় বরং উৎপাদিত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। বহুমুখীকরণ করতে না পারলে এ খাতকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। দুধ ও মাংস থেকে বহুমুখী ব্যবহার উপযোগী উপকরণ তৈরির সুযোগ রয়েছে।

দুধ উৎপাদন ও বিপণন সমস্যা সমাধানে সরকার কুলিং সেন্টার করে দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘খামারিদের মিল্ক সেপারেটর মেশিন সরবরাহ করছে, উৎপাদিত দুধ সরবরাহের জন্য খামারিদের গ্রোথ সেন্টারের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেয়া হচ্ছে।

এভাবে প্রাণিসম্পদ খাতে সম্পৃক্তদের সুবিধা দেয়ার জন্য সরকার ব্যাপক আকারে পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন ও বিস্তারে শুধু কাজ করলেই হবেনা, এর গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আ'র/এএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত