ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ আপডেট : ৬ মিনিট আগে

তীব্র গ্যাস সংকটে দুর্ভোগ ধামরাইবাসীর

  মোঃ রুহুল আমিন, ধামরাই (ঢাকা)

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ১৯:০৯

তীব্র গ্যাস সংকটে দুর্ভোগ ধামরাইবাসীর
ছবি- সংগৃহীত
মোঃ রুহুল আমিন, ধামরাই (ঢাকা)

ঢাকার ধামরাইয়ে গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর। শিল্প মালিক ও গৃহবধূসহ প্রাই সকলেই দৈনন্দিন কাজে গ্যাস ব্যবহার করতে গিয়ে পড়ছেন চরম বিপাকে। অভিযোগ রয়েছে, শিল্প প্রতিষ্ঠান, বাসা বাড়ি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও সঠিকভাবে মিলছে না গ্যাস। গ্যাস সংকটে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানকে লোকসান গুণতে হচ্ছে।

তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের অব্যবস্থাপনার কারণে এ সংকট তৈরি হয় বলে অভিযোগ জানিয়েছেন শিল্প মালিকরা।

এদিকে,উপজেলায় কয়েক সপ্তাহ যাবত গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর ফলে বাসা বাড়িতে ও খাবার হোটেলগুলোতে রান্নার জন্য কাঠের লাকড়ি, কেরোসিন অথবা বোতলজাত এলপি গ্যাস ব্যবহার হতে দেখা গেছে।

ধামরাইবাসী জানান, সারাদির তো গ্যাস থাকেই না, আবার রাতে কিছুটা পাওয়া গেলেও তার প্রেসার থাকেনা। বাধ্য হয়ে বেশির ভাগ বাসা বাড়িতে বিকল্প জালানি হিসাবে সিলিন্ডার গ্যাস, কেরোসিন, মাটির চুলা ব্যবহার করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ গ্যাস সংকট উওরণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ধামরাইয়ে দেশের বিখ্যাত অ্যালুমিনিয়াম ও কাস্টিংকড়াই কারখানা বিক্রম পুরকাস্টিং, ঢাকাকাস্টিং, নিউমক্কাসহ অনেক শিল্প কারখানার গ্যাস সংকট দীর্ঘ দিনের।

এদিকে সাভার ও মানিকগঞ্জ তিতাস গ্যাস অফিস সূত্র জানায়, গ্যাস ক্ষেত্রে উৎপাদন কম হওয়ায় সাময়িক সময়ের জন্য এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছে গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ধামরাই এলাকায় দেড় শতাধিক শিল্প কারখানা ছাড়াও ১০ থেকে ১২টি সিএনজি স্টেশন এবং অর্ধ শতাধকি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৬ হাজার। গ্যাস সংকটের কারণে সকলেই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

ধামরাই পৌরশহরের একাধিক গৃহিণী বলেন, ভোর পাঁচটার আগে উঠেও গ্যাস পাওয়া যায় না। দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির মধ্যে আছি। দিনের বেলায়ও একই অবস্থা। সকালের রান্না করতে প্রায় তিন ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়। সকালের খাবার খেতে হয় দুপুরের দিকে আর দুপুরের খাবার ৫ টার দিকে। সকালের খাবার বেশির ভাগ হোটেল থেকে নিয়ে আসা হয়।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিতাসের এক কর্মকর্তা জানান, গ্যাস ফিল্ড এবং সঞ্চালন লাইনে সমস্যার কারণে গ্যাসের চাপ থাকে না।

তিতাস গ্যাস মানিকগঞ্চের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (ধামরাই উপজেলাসহ) হাদী মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে আমাদের সবকিছু পিছিয়ে পড়েছে। কিন্তু উৎপাদন বৃদ্ধি না থাকায় এ অঞ্চলে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। উৎপাদন বাড়লে এ সংকট আর থাকবে না।

বাংলাদেশ জার্নাল/পিএল

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত