ঢাকা, রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯ আপডেট : ৬ মিনিট আগে

বঙ্গবন্ধু রবীন্দ্রনাথের গভীর অনুরাগী ছিলেন: ঢাবি উপাচার্য

  ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ০৮ মে ২০২২, ১৩:২৮

বঙ্গবন্ধু রবীন্দ্রনাথের গভীর অনুরাগী ছিলেন: ঢাবি উপাচার্য
ছবি: প্রতিনিধি
ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘মানবতার সংকট ও রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে।

রোববার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এই ‌অনুষ্ঠান পালিত হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে পরিচালিত অনুষ্ঠানে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. ভীষ্মদেব চৌধুরী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

এ সময় ড. ভীষ্মদেব বলেন, ‘মানবতার সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের সহায় রবীন্দ্রনাথ। এ কারণে ১৫০ বছর পরও রবীন্দ্রনাথ প্রাসঙ্গিক। রবীন্দ্রনাথ তার জীবদ্দশায় দুটো বিশ্বযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তার জীবনাবসান ঘটে। মৃত্যুর আগে সমৃদ্ধ, প্রাজ্ঞ, স্থিত রবীন্দ্রনাথ এই ভয়াবহ আগামীকে প্রত্যক্ষ করেছেন বর্তমানের পটে দাঁড়িয়ে। তিনি দেখেছেন পশ্চিমা বিশ্ব কীভাবে বিজ্ঞানকে ব্যক্তিস্বার্থে, গোষ্ঠিস্বার্থে, রাজনৈতিক স্বার্থে, জাতিগত সংকীর্ণতা থেকে ব্যবহার করেছে।’

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের পাতায়, পুরানের রাজ্যে, বিশ্ব সাহিত্যের যে ক্লাসিক সেখানে আমরা যুদ্ধের কথা জেনেছি। ট্রয় নগরীর যুদ্ধ, পাণিপথের যুদ্ধ তারও আগে কারবালার যুদ্ধের কথা আমরা জেনেছি। কিন্তু স্বার্থান্বেষী মানুষ যখন একে অপরের প্রতিপক্ষ হয়ে মানবতার সংকটকে একটা বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিলো তখন রবীন্দ্রনাথ এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে একেবারে সরাসরি সোচ্চার হয়ে ওঠেননি। কিন্তু মনোজাগতিক যে পরিবর্তন সে পরিবর্তন তাঁর সাহিত্যে তিনি তা রূপ দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন।’

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, ‘সংকট অনেক; বিজ্ঞানের সংকট, প্রযুক্তির সংকট, অর্থের সংকট, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সংকট, মানুষের মধ্যে সম্পর্কের সংকটসহ নানা ধরণের সংকট আছে। যে সংকটের কথাই আমরা বলি না কেন, সবগুলোর কেন্দ্রবিন্দু হলো মানুষ। কেন্দ্রীয় সংকট মানবতার সংকট একটি পুঞ্জিভূত, একীভূত অথবা অন্তর্ভুক্তিমূলক সংকট। রবীন্দ্রনাথ মানবতার সংকটের কথা বলেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রবীন্দ্রনাথের গভীর অনুরাগী ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় বাঙালি গণমানুষ সম্মিলিতভাবে একটি কঠিন সংকটকে উদ্রিয়ে যে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছে, এটি বঙ্গবন্ধুর কাছে একটি পরম তৃপ্তির বিষয়। রবীন্দ্রনাথকে ধারণ করেন বলেই বঙ্গবন্ধু তখন বলেছিলেন, কবিগুরু তুমি দেখো, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি বাঙালি কিন্তু মানুষ হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ অন্য প্রসঙ্গে কথাগুলো বললেও সেদিন বঙ্গবন্ধুর এই কথা দ্বারা তার রবীন্দ্রনাথের প্রতি অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’

‌আলোচনা সভায় ‌অন্যান্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী, রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকার, বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষকগণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ ও নৃত্যকলা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত