ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

ফেসবুকে প্রেম: ভারতে পাচার করে দেহ ব্যবসা

  আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২২ মে ২০২২, ১১:৪৬

ফেসবুকে প্রেম: ভারতে পাচার করে দেহ ব্যবসা
ছবি: সংগৃহীত
আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট প্রতিনিধি

সোহেল নামে এক ছেলের সাথে ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করেন এক নারী। বিয়ের আগে ও পরে ২ বার ভারতে পাচার করা হয়েছে শাম্মি (ছদ্মনাম) নামের ওই নারীকে।

ভারতে যাওয়া ও পালিয়ে আসার সময় দুই বার তাকে ধর্ষণ করেন পাচারদলের সদস্যরা। টাকার জন্য তাকে আটকিয়েও রাখেন তারা। সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে এসে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানায় আশ্রয় গ্রহণ করেন শাম্মি।

এ ঘটনার মুল হোতা সোহেল মিয়া হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বেতাপুর গ্রামের কিবরিয়ার ছেলে।

এ ঘটনায় পাটগ্রাম থানা পুলিশ শনিবার দিনভর অভিযান চালিয়ে পাচারদলের সদস্য আশরাফুল ইসলাম, মোকছেদুল হক, চম্পা বেগম নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছেন।

পাটগ্রাম থানা সুত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ৩ বছরে পুর্বে পরিচয় ও প্রেম। তারপর প্রেমিক হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বেতাপুর গ্রামের কিবরিয়ার ছেলে সোহেল প্রেমিকা শাম্মিকে (ছদ্মনাম) অবৈধ ভাবে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। সেখানে প্রেমিকা শাম্মিকে দিয়ে জোর পুর্বক দেহ ব্যবসা করেন প্রেমিক সোহেল। ৮/৯ মাস পর ভারতের কলকাতা থেকে কৌশলে একই পথে দেশে পালিয়ে আসে শাম্মি। কিছু দিন পর দেশে আসেন সোহেল। এরপর চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জ আদালতে সোহেল-শাম্মির বিয়ে হয়। ইতোমধ্যে শাম্মি গর্ভবতী হয়।

তারপর আবারও প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করেন প্রেমিক থেকে স্বামী হওয়া সোহেল। শাম্মিকে পাচারের জন্য আবারও পাচারকারীদের সাথে যোগাযোগ করে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে পাঠিয়ে দেয় স্বামী সোহেল।

গত ১৩ মে ভোরে পাচারকারীরা তাকে ওই উপজেলার দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করে দেয়। এ সময় শাম্মিকে ধর্ষণ করেন ওই পাচার দলের সদস্য মোকছেদুল।

শাম্মি ভারতে প্রবেশের পর বুঝতে পারেন তার স্বামী তাকে পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। ১৫ মে রাতে আবারও শাম্মি কৌশলে দেশে দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ফিরে আসেন।

দেশে ফেরার পর এবার আশরাফুল ইসলাম নামে অপর এক পাচারকারী দলের সদস্য তাকে ধর্ষণ করেন। টাকার জন্য শাম্মিকে ১৫ মে থেকে আটকিয়ে রাখেন পাচার দলের সদস্যরা। সেখান থেকেও কৌশলে পালিয়ে পাটগ্রাম থানায় আশ্রয় গ্রহণ করে শাম্মি।

পাটগ্রাম থানার ওসি ওমর ফারুক এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ ইতোমধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার মুল হোতা প্রেমিক থেকে স্বামী হওয়া সোহেলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত