ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে

হবিগঞ্জ জেলায় বন্যার পরিস্থিতি ভয়াবহ

  হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৪ মে ২০২২, ০৫:২৩

হবিগঞ্জ জেলায় বন্যার পরিস্থিতি ভয়াবহ
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

সিলেটের পর এবার হবিগঞ্জেও কুশিয়ারা ও খোয়াই নদীর পানি ঢুকেছে লোকালয়ে। নবীগঞ্জ উপজেলা, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা, চুনারুঘাট উপজেলা এবং লাখাই উপজেলায় বন্যার দ্রুত গতিতে বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি নবীগঞ্জ উপজেলার অবস্থা খারাপ হয়ে পড়েছে।

নবীগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক তথ্যে জানা যায়, দুটি নদীর পানি লোকালয়ে ঢোকায় তিনটি গ্রামের দেড় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ৫৪টি পরিবারকে আশ্রয়ণ কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে।

এর আগে নবীগঞ্জের দীঘলবাক ইউনিয়নের গালিমপুর ও সিলেট অংশের শেরপুরে সোমবার দুপুরে বাঁধ উপচে পানি ঢোকে। কুশিয়ারার বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। গালিমপুর, পাহাড়পুর ও পারকুল গ্রামের দেড় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

ইতোমধ্যে ৫৪টি পরিবারকে স্থানীয় একটি আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি পরিবারগুলোকেও অন্যত্র নেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের।

এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মহিউদ্দিন জানান, কুশিয়ারা নদীতে পানি বাড়ছে। ইতোমধ্যে তিনটি গ্রামের বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাদের পর্যায়ক্রমে আশ্রয়ণ কেন্দ্রে নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ তালুকদার বলেন, সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কুশিয়ারার পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পারকুল ও ফাদুল্লাপুর বাজার অংশে বাঁধ নিচু হওয়ার কারণে গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। তবে নিচু জায়গাগুলোতে বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের পাহাড়পুর, পারকুল, ফাদুল্লাপুর এলাকায় নদীর বাঁধ অনেক নিচু। যে কারণে গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। পানি আরও বাড়লে নতুন করে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হবে।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিন্টু চৌধুরী, জেলা প্রকৌশলী আব্দুল বাতিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মহিউদ্দিন, উপজেলা প্রকৌশলী সাব্বির আহমেদ, হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মিনহাজ আহমেদ শোভন, দীঘলবাক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছালিক মিয়া নদী-তীরবর্তী এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত