ঢাকা, রোববার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯ আপডেট : ১ মিনিট আগে

টাঙ্গাইলে বাসে ধর্ষণ: আরও দুই আসামির স্বীকারোক্তি

  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২২, ২০:৪৮  
আপডেট :
 ১১ আগস্ট ২০২২, ২১:২২

টাঙ্গাইলে বাসে ধর্ষণ: আরও দুই আসামির স্বীকারোক্তি
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের আলোচিত ঈগল এক্সপ্রেসের চলন্ত বাসে ডাকাতি ও পালাক্রমে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আরও দুইজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বুধবার বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নওরিন করিম তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। টাঙ্গাইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর তানভীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জবানবন্দি দেয়া দুইজন হলেন, মূল পরিকল্পনাকারী রতন হোসেন (২১) এবং আব্দুল মান্নান (২২)। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ১১ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন।

আদালত সূত্র জানায়, রতন হোসেন, আব্দুল মান্নান, খন্দকার মো. হাসমত আলী ওরফে দীপু এবং মো. জীবন ডিবি হেফাজতে ৩ দিনের রিমান্ডে ছিলেন। রিমান্ড শেষ হওয়ায় বৃহস্পতিবার তাদেরকে আদালতে তোলা হয়। এর মধ্যে রতন ও মান্নান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। রিমান্ড শেষ হওয়া অপর দুইজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে বুধবার বাবু হোসেন (২১) এবং সোহাগ মন্ডল (২০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

এ ঘটনায় রোববার রাতে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরে সোমবার রাতে ডিবি পুলিশের কাছে তাদেরকে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে টাঙ্গাইলের জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। গত শনিবার রাতে ৩ জন ডাকাত সদস্য আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে বাসে ধর্ষণ: ৪ জনের স্বীকারোক্তি, ৬ জন রিমান্ডে

উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট রাতে কুষ্টিয়া থেকে ঈগল এক্সপ্রেসের একটি বাস অন্তত ২৪ জন যাত্রী নিয়ে নারায়ণগঞ্জের দিকে রওনা হয়। পরে রাত ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের একটি হোটেলে খাবারের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। সেখান থেকে যাওয়ার পর ৩ দফায় ১০ জন যাত্রী সেজে বাসে ওঠেন ডাকাতদলের সদস্যরা। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে বাসের যাত্রীরা ঘুমানোর এক পর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের নাটিয়াপাড়া এলাকায় ডাকাতদলের সদস্যরা অস্ত্র নিয়ে পুরো বাসের নিয়ন্ত্রণ নেন।

প্রথমে পুরুষ যাত্রীদেরকে তাদের পোশাক খুলে হাত মুখ বাধা হয়। নারী যাত্রীদেরকে বাসের পর্দা ও সিটের কভার খুলে মুখ এবং হাত বেঁধে ফেলা হয়। পরে অস্ত্রের মুখে বাসের চালক ও হেলপারকে জিম্মি করা হয়। টাঙ্গাইলের গোড়াই এলাকা থেকে বাসটিকে ইউর্টান করে এলেঙ্গা হয়ে ময়মনসিংহ রোড ধরে যেতে থাকে।

এরই মধ্যে যাত্রীদের কাছে থাকা মোবাইল, টাকা, কানের দুল, হাতের বালা, গলার চেইন লুট করে নেয়া হয়। পরে ৫ থেকে ৬ জন ডাকাত দলবদ্ধভাবে গাড়িতে থাকা এক নারীকে ধর্ষণ করে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া জামে মসজিদের পাশে বালুর ঢিবির কাছে বাসের গতি থামিয়ে পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ধর্ষণ: আরও দুইজনের স্বীকারোক্তি

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত