ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাঙালির আবেগের জায়গা: ডিএমপি কমিশনার

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২২, ১২:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ছবি: প্রতিনিধি

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, জঙ্গি হামলার আশঙ্কা না থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে বেশি নিরাপত্তাঝুঁকিতে থাকেন।
 
তি‌নি বলেন, বাংলদেশের কেনো, পৃথিবীর সকল প্রধানমন্ত্রীর চে‌য়ে বেশি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকেন শেখ হাসিনা। ওনার ওপর একাধিকবার হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। এ দিকটা মাথায় রেখে সবসময়ই তার নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে।

প্রধানমন্ত্রী যতোদিন থাকবেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব যতোদিন থাকবে, ততোদিন তিনি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আসবে। তাই যারা ষড়যন্ত্র করতে চায় তারা চাইলে ১০ বছর ধরে পরিকল্পনা করতে পারে। তাই বিষয়টা মাথায় রেখে, দেশীয়-আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয় মাথায় রেখে দৃশ্যমান নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার পাশাপাশি বেশকিছু অদৃশ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। 

রোববার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাৎবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি নিয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর কেন্দ্রিক নেয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবা‌দিক‌দের তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাঙালির আবেগের জায়গা। ১৫ আগস্টের কষ্ট এবং শোকের সঙ্গে পালন করতে হাজার হাজার মানুষ ৩২ নম্বরে আসেন। সে অনুযায়ী এখানে নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ এবং প্রণয়ন করা হয়েছে। ভেন্যুগুলো ডগ স্কোয়াড ও মাইন ডিটেক্টরের মাধ্যমে সুইপিং করা হয়েছে। পুরো এলাকা সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি করা হবে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, লেকে নৌ পুলিশ ও নৌ বাহিনীর পেট্রোল টিম থাকবে। দৃশ্যমান প্রতিটি জায়গায় নিরাপরাপত্তা বলয় থাকবে। গত কয়েকদিন ধরে আশে-পাশের প্রতিটি আবাসিক হোটেল ও মেসে একাধিকভার নিরাপত্তা তল্লাশি চালনো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানীতে যাবেন, তাই সেখানেও একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

তি‌নি ব‌লেন, রাসেল স্কয়ারের দিক দিয়ে জনসাধারণ প্রবেশ করবেন এবং পশ্চিম দিক দিয়ে বের হয়ে যাবেন। চারদিকে নিরাপত্তা বেষ্টনীর সঙ্গে সঙ্গে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যারিকেড থাকবে। নির্ধারিত রুটম্যাপ অনুসরণ করে এলে সবাই কম সময়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে চলে যেতে পারবেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে সবাইকে ব্যাগ কিংবা বাক্স না নিয়ে আসার অনুরোধ জা‌নি‌য়ে শ‌ফিকুল ইসলাম ব‌লেন, রোড লাইনিং, রুফটপে পুলিশ সদস্য মোতায়েনসহ সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। সিটিটিসিও তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। বোম্ব ডিসপোজাল ও সোয়াত টিম প্রস্তুত র‌য়ে‌ছে।

মোবাইল পেট্রোল থাকবে, মানুষজন যাতে ৩২ নম্বরে ঢুকার আগে যথাযথ নিরাপত্তা তল্লাশি হয়, সেজন্য আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। অনুরোধ করবো ব্যাগ বা ব্যাকপ্যাক নিয়ে যেন কেউ না আসেন। এখানে স্থাপিত কন্ট্রোলরুম থেকে সবকিছু মনিটরিং করা হবে। যাতে সার্বক্ষণিক আমরা দেখতে পারি এবং যখন যেখানে প্রয়োজন ব্যবস্থা নিতে পারি।

তিনি বলেন, কোভিডের ঝুঁকি চলে গেছে বলতে পারি না। যারা এখানে আসবেন অনুরোধ করবো ন্যূনতম নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে যেন একটি মাস্ক পরে আসেন। কারণ এখানে লাখ লাখ লোক জমায়েত হবে।

সাংবা‌দিক‌দের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সব গোয়েন্দা সংস্থা থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো হামলার তথ্য নেই। সারাদেশে পুলিশ আগস্ট মাসে সমস্ত দিক থেকে সতর্ক থাকে, কারণ এটি কলঙ্কিত মাস। এ মাসে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাসহ সারাদেশে ৫০০ স্পটে বোমা হামলা, প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে। সবকিছু বিবেচনা নিয়ে যতোটা বেশি সম্ভব সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে।

লাদেশ জার্নাল/সুজন/রাজু