ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

ওরা কোথায়? কেউ কি বেঁচে নেই?

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২২, ১৪:৫০

ওরা কোথায়? কেউ কি বেঁচে নেই?
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি পৌঁছানোর উৎসব মুহূর্তে রূপ নেয় মৃত্যুশোকে। বিয়ের সাজে রাজধানীর উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি নববধূ রিয়া মনি ও তার স্বামী রেজাউল করিম হৃদয়। প্রিয়জন হারানোর শোকে নির্বাক তারা। বলা যায়, অলৌকিকভাবে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরেছেন রিয়া-হৃদয় যুগল।

হাসপাতালে স্বজনদের কাছে এক প্রশ্ন বারবার করছিলেন হৃদয়, ‘ওরা কোথায়? ওরা কি কেউ বেঁচে নেই? কাউকে হাসপাতালে দেখছি না কেনো?’ এমন প্রশ্নে হঠাৎ এক স্বজন হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। এরপরই হৃদয় বুঝতে পারেন প্রাইভেটকারে থাকা বাকি পাঁচ প্রিয়জনের কেউই আর বেঁচে নেই। তখন হৃদয় আর্তনাদ করে বলেন, ‘বেঁচে রইলাম, এমন দুর্ভাগা কেনো? ওদের কাছে এখনই নিয়ে চলো। আর বাঁচতে চাই না।’

হাসপাতালের অন্য এক বিছানায় নির্বাক হয়ে বসে আছেন রিয়া মনি। কোনো কথা নেই তার মুখে। শুধু অঝোরে কাঁদছেন।

হাসপাতালে আহাজারি করছেন রিয়া ও হৃদয়ের পরিবারের অন্য সদস্যরাও।

এদিকে হৃদয়ের মা আমেনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'শনিবার ছেলের বিয়ে দিলাম। পরিবারের সবাই কত আনন্দ করলো! আজও বৌভাতের অনুষ্ঠানে কত ফুর্তি হয়েছে! আচমকা স্বামীকে হারালাম!'

এর আগে সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে উত্তরার জসীমউদ্দীন এলাকায় ক্রেন থেকে পড়ে বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ফ্লাইওভারের গার্ডারে প্রাইভেটকার চাপা পড়ে। এ ঘটনায় ওই নবদম্পতির পাঁচ স্বজন নিহত হয়েছেন। অনুষ্ঠান শেষে স্বজনরা নবদম্পতিকে নিয়ে কনের বাবার বাড়ি যাওয়ার পথে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পরিবারটি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হৃদয়ের ডানপায়ে আঘাত লেগেছে। রিয়া মনির কোথাও আঘাত লাগেনি। তবে তারা শঙ্কামুক্ত হলেও মানসিকভাবে বেশ বিপর্যস্ত।

দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পুরো প্রাইভেটকার দুমড়েমুচড়ে গেছে। গাড়ির পেছনের সিটে পড়ে আছে একটি ছোট্ট পুতুল। প্রাইভেটকারে থাকা দুই শিশুর সবচেয়ে প্রিয় পুতুলটা আছে অক্ষত!

এদিকে এ ঘটনায় সোমবার রাতে নিহত ফাহিমা আক্তার ও ঝরণা আক্তারের ভাই মো. আফরান মণ্ডল বাবু বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন। মামলায় ক্রেনের চালক, প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোহসীন বলেন, উত্তরায় ক্রেন দুর্ঘটনায় নিহত দুই বোনের ভাই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত দোষীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

দুই পরিবারের স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রিয়ার স্বামী হৃদয়ের খিলক্ষেতের কাওলায় মুদি দোকান আছে। বৌভাত উপলক্ষে কনেপক্ষের লোকজন গতকাল কাওলায় হৃদয়ের বাসায় যান। দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষে উৎসবের আমেজে আবার নতুন বউকে গাড়িতে করে আশুলিয়ায় তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছিলো তার শ্বশুরপক্ষ। বউ ও তার স্বজনদের বহনকারী প্রাইভেটকার চালাচ্ছিলেন রিয়ার শ্বশুর। তার বায়িং হাউসের ব্যবসা ছিলো।

বাংলাদেশ জার্নাল/মনির/রাজু

  • সর্বশেষ
  • পঠিত