উত্তরা দুর্ঘটনা: নিহত রুবেলকে স্বামী পরিচয় দিলেন কয়েক নারী!

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২২, ২২:০১ | অনলাইন সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরায় বিআরটি প্রকল্পের গার্ডার চাপায় নিহতদের একজন আইয়ুব আলী হোসেন রুবেল (৫৫)। রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে যখন ছিলো তার মরদেহ, তখন সেখানে তার স্ত্রীর সংখ্যা নিয়ে দেখা দেয় বিভ্রাট। কয়েকজন নারী দাবি করেন, তারা রুবেলের স্ত্রী। 

মঙ্গলবার হাসপাতালে রুবেলের মরদেহ দেখতে যাওয়া পাঁচ নারী নিজেদেরকে রুবেলের স্ত্রী দাবি করেছেন। এছাড়া আরও এক তরুণী রুবেলের অন্য এক স্ত্রীর ঘরের মেয়ে বলে দাবি করেছেন। ওই তরুণী রুবেলের আরও এক স্ত্রীর নাম দিয়েছেন। তিনি মারা গেছেন। তাদের কথায় রুবেলের সাত স্ত্রী থাকার বিষয়ে জানা গেছে। কোনো স্ত্রীর সঙ্গে অন্য স্ত্রীর যোগাযোগ ছিল না।

যদিও সোমবার দুর্ঘটনার পর আহত রেজাউল করিম হৃদয়ের মা রেহানা বেগমের স্বামী হিসেবেই রুবেলের পরিচয় জানা গিয়েছিলো। 

হাসপাতালের মর্গের সামনে নিজেকে রুবেলের মেয়ে দাবি করা নিপা আক্তার নামের একজন তরুণী সাংবাদিকদের বলেন, আমার মায়ের নাম নার্গিস আক্তার। মায়ের সাথে বাবার ডিভোর্স হয়ে যায়। আমার মা পরে অন্য জায়গায় বিয়ে করেন। আমি মৃত্যুর খবর পেয়ে বাবাকে শেষবারের জন্য দেখতে এসেছি।
 
তিনি বলেন, আমার বাবার প্রথম স্ত্রী টিপু আক্তার সন্তান হওয়ার সময় মারা যান। এখানে খন্দকার বিউটি আক্তার, পুষ্পা বেগম, রেহানা, সাহিদা, সালমা আক্তার পুতুল নামে মোট পাঁচজন স্ত্রী উপস্থিত আছেন। 

নিহত রুবেলের অন্য স্ত্রী সাহিদা বলেন, মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সে আমাদের সাথেই থাকতো। একটি বিয়ের দাওয়াত আছে বলে সে ঢাকায় আসে। যে গাড়িতে সে গতকাল ছিল সেটা আমার টাকায় কেনা। আমাদের ওখানে নাম দেয়া আছে নুর ইসলাম, সে মানিকগঞ্জের সিংগাইরের ভোটার। গাড়ির যে টাকা পেমেন্ট করেছিল, তার ড্রাইভিং লাইসেন্স, সবখানেই নুর ইসলাম লেখা। এখন একজন বলছে তার নাম আইয়ুব আলী, আবার বলছেন রুবেল। নুর ইসলামের বাবার নাম দেয়া তারা চাঁদ মন্ডল। গাড়ির কাগজেও তার নাম নুর ইসলাম। সে প্রত্যেক ঈদ আমাদের সাথেই করত, আমাদের কাছেই থাকত সে।  

তিনি আরও বলেন, আজ সে এত টাকার মালিক হয়েছে... আমি তাকে ডিপিএস ভেঙে টাকা দিয়েছি। তার সবকিছু আমার টাকায় করা। আমার দুই সন্তান শহিদুল ইসলাম ও রত্না আক্তার। আমরা মরদেহ সিংগাইরে দাফন করতে চেয়েছিলাম। সবার সম্মতিক্রমে প্রথম জানাজা সিংগাইরে আমাদের ওখানে হবে, সেখান থেকে তার বাবা-মায়ের কবরের পাশে মেহেরপুরে দাফন করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে হাসপাতালে মর্গের সামনে আসা রুবেলের আরেক স্ত্রী সালমা আক্তার পুতুল বলেন, আমার সাথে রুবেলের ২০১৪ সালে বিয়ে হয়। আমি মৃত্যুর খবর পেয়ে তাকে দেখতে মর্গে এসেছি। এসে শুনলাম সে নাকি এখন পর্যন্ত ৭টি বিয়ে করেছে। পুতুল রুবেলের নামে একটি প্রতারণার মামলা করেছিলেন। 

তার কাছ থেকে রুবেল জমি কেনার কথা বলে ১১ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে দাবি করে পুতুল বলেন, গত ১১ অগাস্ট রুবেলের সঙ্গে তার সর্বশেষ দেখা হয়েছিল।

পুতুল বলেন, যেহেতু সে মারা গেছে তাই আমার কোনো অভিযোগ নেই। তাদের সিদ্ধান্তে যেখানে দাফন করতে চায়, সেখানে করতে পারে।

খন্দকার বিউটি আক্তার নামে আরেক নারী বলেন, আমিও তার স্ত্রী, তার সাথে আমার যোগাযোগ ছিল। খবর পেয়ে আমি মর্গে এসেছি। যে মরে গেছে তার দাবি করে আর কী লাভ? সবাই আছে, সিদ্ধান্ত হয়েছে তাকে মেহেরপুরে দাফন করা হবে।

এদিকে দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া হৃদয়ের মা রেহানা দাবি করেন, তার স্বামী আরেকটি বিয়ে করেছেন, এটা তার জানা ছিলো। কিন্তু সেই পরিবারের কারও সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না।

অপরদিকে নিপাকে চেনার কথা স্বীকার করে রুবেলের ভাই ইয়াহিয়া সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্নজনের স্ত্রী-সন্তান দাবির বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে বসে পরে সিদ্ধান্ত নেবেন।

নাম বিভ্রাট ও স্ত্রী-সন্তান দাবির বিষয়টি নিয়ে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/সুজন/এমএম