ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২৩ আশ্বিন ১৪২৯ আপডেট : ৪ মিনিট আগে

সিরিজ বোমা হামলার বিচার শেষ হয়নি ১৭ বছরেও

  সুজন কৈরী

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২২, ০০:২৯

সিরিজ বোমা হামলার বিচার শেষ হয়নি ১৭ বছরেও
সুজন কৈরী

আজ ১৭ আগস্ট। দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার ১৭তম বার্ষিকী। ১৭ বছর আগে এই দিনে মুন্সিগঞ্জ ছাড়া দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে পাঁচ শতাধিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিয়েছিলো জামাত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। সেই ঘটনায় করা ১৫৯ মামলাগুলোর মধ্যে এখনো ৪১টি বিচারাধীন রয়েছে।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলার (মুন্সীগঞ্জ ছাড়া) ৪৩৪ স্থানে একযোগে বোমা হামলা চালায় জেএমবি। সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সারাদেশের বিভিন্ন থানায় ১৫৯টি মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় ৫৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। হামলার ১৮ বছরের মধ্যে ১১৮টি মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। ৪১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে এসব মামলায় ৭৩৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়। ১৯৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয় আদালত। গ্রেপ্তার আসামীদের মধ্যে ২৮১ জনকে অভিযোগ থেকে খালাস দেয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড রায় দেয়া হয়েছে ১৫ জনকে।

ঢাকা মহানগর আদালত সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর এলাকায় বোমা হামলার ঘটনায় ওই সময় ১৮টি মামলা দায়ের হয়। এই ১৮টি মামলায় পুলিশ ও র‌্যাব ৯১ জনকে গ্রেপ্তার করে। ৫৬ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ চার্জশিট দেয়। অনেক মামলায় আসামিদের নাম ও ঠিকানা কিছুই নেই বা ছিলো না। সাক্ষীদেরও ঠিকমত পাওয়া যায়নি। অনেক সাক্ষী সাক্ষ্য দিতেও আসেননি। বেশির ভাগ সাক্ষীর ঠিকানাও পরিবর্তন হয়েছে। এ কারণে ১৪টি মামলায় মাত্র ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয় আদালত। বাকি ৪টি মামলা বিচারাধীন পর্যায়ে আছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ঢাকার আদালতে ১৮টি মামলা ছিলো। বর্তমানে ৪টি মামলা বিচারাধীন আছে। সেগুলোও সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

মামলার বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, সাক্ষীদের অনুপস্থিতিই মূল কারণ। অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষীদের পাওয়া যায়নি। সাক্ষীদের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। পুলিশও চেষ্টা করছে সাক্ষীদের খুঁজে বের করতে। চাঞ্চল্যকর এসব মামলা চাইলেই তো শেষ করে দেয়া যায় না। তারপরও সাক্ষী যা হয়েছে, বা আরও কয়েকটা সাক্ষী নিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করে এ বছরের মধ্যে বিচার কাজ শেষ করার চিন্তাভাবনা আছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, র‌্যাবের অভিযানেই জেএমবির আমির শায়খ আবদুর রহমান, সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, খালেদ সাইফুল্লাহ, আবদুল আউয়াল, আসাদুল ইসলাম আরিফসহ শীর্ষ জঙ্গি নেতারা গ্রেপ্তার হয়। তাদের বিচারের মুখোমুখিও করা হয়েছে। তাদের ফাঁসির রায়ও সরকার কার্যকর করেছে। জঙ্গিরা এখন সাইবার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, জাতিগতভাবে বাংলাদেশ জঙ্গিবাদকে পছন্দ করে না। এ কারণে আমরা খুব অল্প সময়ে জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। জঙ্গি কার্যক্রম থেকে ফিরিয়ে এনে তাদেরকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে করাও হয়েছে। তাই বলে এটা নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না। অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সমন্বয় করে জঙ্গিদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। আমরা সাইবার ওয়ার্ল্ডে খোঁজখবর ও নজরদারি করছি। এটা নিয়ে আমরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছি।

এদিকে দেশব্যাপী জেএমবির সিরিজ বোমা হামলা মামলার আসামি মো. আল মাসুমকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তিনি ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি। সোমবার মধ্যরাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার চন্দ্রা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১৪।

মঙ্গলবার র‌্যাব-১৪ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তার মাসুম গৌরীপুর উপজেলার মাওহা লক্ষিণগর এলাকার বাসিন্দা ডা. আব্দুস সালামের ছেলে। তিনি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদীনের সদস্য।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা মামলার আসামি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র সদস্য আল মাসুম পরিচয় গোপন করে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত