ঢাকা, বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯ আপডেট : ২ মিনিট আগে

ধর্ম অবমাননার মামলা থেকে শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে অব্যাহতি

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২২, ১৭:৪৪  
আপডেট :
 ১৭ আগস্ট ২০২২, ১৭:৫২

ধর্ম অবমাননার মামলা থেকে শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে অব্যাহতি
শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল
জার্নাল ডেস্ক

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও গণিতের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে ধর্ম অবমাননার মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুন্সিগঞ্জ আমলি আদালত-১-এর বিচারক জশিতা ইসলাম তাকে অব্যাহতির আদেশ দেন।

এর আগে বিজ্ঞানশিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ফৌজদারি দণ্ডবিধির দুটি ধারায় মামলা দেয়া হয় মুন্সীগঞ্জ সদর থানায়।

হৃদয় মণ্ডলের আইনজীবী শাহীন মোহাম্মদ আমানউল্লাহ ধর্ম অবমাননার মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ৮ আগস্ট পুলিশের দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে হৃদয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। গতকাল হৃদয় মণ্ডল আদালতে হাজিরা দিতে এলে বিষয়টি আবার আদালতে তোলা হয়। সেখানে মামলার বাদী ও বিবাদী উপস্থিত ছিলেন। বাদীর কোনো আপত্তি না থাকায় আদালতের বিচারক তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ দেন।

বুধবার হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর বলেন, আমি একজন শিক্ষক। একটি মিথ্যা অভিযোগে আমাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। ১৯ দিন জেল খাটতে হয়েছে। মানুষের চোখে ছোট হতে হয়েছে। ভেতরে চাপা কষ্ট ছিল। সব সময় অশান্তিতে ভুগতাম। অপরাধ না করেও অপরাধী ছিলাম। আজকে আমার ওপর আনা সব অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। সব দোষ থেকে মুক্ত হয়েছি। এখন মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াতে পারব। সবাইকে বলতে পারব, আমি অপরাধী নই। আমি অপরাধ করিনি। তিনি বলেন, জামিনে বেরিয়ে আসার পর তার বাড়ির ফটকে দাঁড়িয়ে হুমকি-ধমকি দেয়া হতো। ভয়ে তিনি ঘর থেকে বের হতেন না। তিনি জানান, প্রতিবেশীসহ সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে চাই। ২৪ বছর শিক্ষকতা করেছেন। সাড়ে পাঁচ বছরের মতো চাকরির বয়স আছে। বাকি জীবন সম্মান নিয়ে বাঁচতে চাই।

এর আগে মুন্সীগঞ্জ সদরের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০ মার্চ দশম শ্রেণির ক্লাসে বিজ্ঞানের বিভিন্ন দিক নিয়ে ক্লাসে আলোচনা করেন হৃদয় মণ্ডল। গোপনে তার অডিও ধারণ করে এক শিক্ষার্থী।

ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আহমেদের কাছে ওই শিক্ষকের নামে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ দেয়। প্রধান শিক্ষক কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে তিন দিনের মধ্যে শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে জবাব দিতে বলেন। তবে এর আগেই ২২ মার্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা জোটবদ্ধ হয়ে হৃদয় মণ্ডলের শাস্তির দাবিতে স্কুলে মিছিল বের করে।

বিদ্যালয় চত্বরের পাশের রিকাবীবাজার এলাকাতেও মিছিল হয়। প্রধান শিক্ষক পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের খবর দেন। স্কুলে গিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। তবে ভেস্তে যায় সেই আলোচনা। একপর্যায়ে হৃদয় মণ্ডলকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর রাতেই হৃদয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা করেন স্কুল সহকারী মো. আসাদ।

আসাদের মামলাটি ফৌজদারি দণ্ডবিধির ২৯৫ এবং ২৯৫(ক) ধারায় গ্রহণ করে মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশ।

ফৌজদারি দণ্ডবিধির ২৯৫ ধারায় ‘কোনো শ্রেণিবিশেষের ধর্মের প্রতি অবমাননা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে উপাসনালয়ের ক্ষতিসাধন করা বা অপবিত্র করার’ সংজ্ঞা ও শাস্তির প্রসঙ্গ রয়েছে।’ এতে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি এ ধরনের অভিপ্রায়ে বা এ ধরনের অবগতি সহকারে জনগণের যে কোনো শ্রেণির উপাসনালয় বা ওই যে কোনো ব্যক্তিবর্গের পবিত্র বলে বিবেচিত কোনো বস্তু বিনষ্ট করেন, ক্ষতিগ্রস্ত করে অপবিত্র করেন যে, তার দ্বারা তিনি জনগণের যে কোনো শ্রেণির ধর্মের প্রতি অবমাননা করবে বা জনগণের যে কোনো শ্রেণির অনুরূপ বিনষ্টকরণ, ক্ষতিসাধন বা অপবিত্রকরণকে তাদের ধর্মের প্রতি অবমাননা বলে বিবেচনা করার সম্ভাবনা রয়েছে, সে ব্যক্তি যে কোনো বর্ণনার সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে- যার মেয়াদ দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

অন্যদিকে ২৯৫(ক) ধারায় ‘কোনো শ্রেণিবিশেষের ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে আবমাননা করে ওই শ্রেণির ধর্মীয় অনুভূতিতে কঠোর আঘাত হানার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত বিদ্বেষাত্মক কাজের’ সংজ্ঞা ও শাস্তির প্রসঙ্গ রয়েছে।

এই ধারায় বলা হয়, ‘যে ব্যক্তি, বাংলাদেশের নাগরিকদের যে কোনো শ্রেণির ধর্মীয় অনুভূতিতে কঠোর অপমানিত করার অভিপ্রায়ে ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষাত্মকভাবে উচ্চারিত বা লিখিত শব্দাবলির সাহায্যে বা দৃশ্যমান কোনো বস্তুর সাহায্যে ওই শ্রেণির ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমানিত করে বা অবমাননা করার চেষ্টা করে, সে ব্যক্তি যে কোনো বর্ণনার সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে যার মেয়াদ দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

২৯৫ ধারায় ‘উপাসনালয়ের ক্ষতিসাধন করা বা অপবিত্র করা’ সংক্রান্ত অপরাধের বিষয়টি থাকলেও শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে বাদীর অভিযোগে এ-সংক্রান্ত কোনো দাবি নেই। এ ছাড়া ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলা গ্রহণের আগে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয়া হয়নি।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক দাবি করছেন, ‘পেনাল কোডের ২৯৫ ধরায় কেউ মামলা করতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগে। তবে এর সঙ্গে ২৯৫(ক) ধারা যোগ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগে না।’

এজাহারে ‘উপাসনালয়ের ক্ষতিসাধন করা বা অপবিত্র করার’ কোনো অভিযোগ না থাকলেও ওসির দাবি বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।

ধারা প্রয়োগের বিষয়ে ওসির দাবি ঠিক নয় বলে মনে করছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। তিনি বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, ব্লাসফেমির ধারায় মামলা করতে হলে সরকার বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে।’

ওসি বিষয়টি না জেনে বলছেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘এখন পুলিশ বলছে, যে দুটি ধারায় মামলা হয়েছে, তার একটিতে অনুমোদন লাগে, আরেকটিতে লাগে না। এ ধরনের কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।’

হৃদয় মণ্ডলের বক্তব্য নিয়ে ধর্ম অবমাননার মামলাই হতে পারে না বলে মনে করছেন এই আইন বিশেষজ্ঞ। বিষয়টির ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘এফআইআরে যে বক্তব্যগুলো এসেছে, এগুলো আদৌ ২৯৫ বা ২৯৫(ক) ধারায় পড়বে কি না এ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। প্রিভিলেজ কমিউনিকেশন বলে আইনে একটা টার্ম আছে।

‘প্রিভিলেজ কমিউনিকেশন হচ্ছে যেমন ধরুন আমার কাছে আপনি একটা মামলা নিয়ে এসেছেন, সে মামলা রাষ্ট্রস্বার্থের বিরুদ্ধে হতে পারে, ব্যক্তিস্বার্থের বিরুদ্ধে হতে পারে, কোম্পানিস্বার্থের বিরুদ্ধে হতে পারে। আপনি আমার সঙ্গে যে বক্তব্য শেয়ার করবেন, সেটা হবে আপনার সঙ্গে আমার প্রিভিলেজ কমিনিউকেশন। এখানে আপনার নিরাপত্তার বিষয়ে আছে। এখন আমি চাইলেই আপনার বক্তব্য শুনে মামলা করতে পারব না।’

তিনি বলেন, ‘ঠিক একইভাবে আমরা যখন কোর্টে শুনানি করি, তখন কোনো ভুল কথা বলে ফেললে তার জন্য আমার বিরুদ্ধে কেউ মামলা দিতে পারবে না। তার কারণ আমি কোর্ট প্রসিডিংয়ের মধ্যে থেকেই বলেছি। চাইলে কোর্ট ব্যবস্থা নিতে পারবে, কিন্তু কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে না।

‘একইভাবে জাতীয় সংসদেও বিভিন্ন কথাবার্তা হয়। সেখানে অনেক সময় আপত্তিকর কথাও হয়। সেখানে যে আলাপ-আলোচনা হয় তার পরিপ্রেক্ষিতে কিন্তু কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা করা যাবে না। তার কারণ তার প্রিভিলেজ আছে।’

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘এখন কথা হলো একজন শিক্ষক যখন ক্লাস রুমে শিক্ষাদানের অংশ হিসেবে কোনো কথা বলছেন বা আলাপ করছেন, সেটাও তার একটা প্রিভিলেজ কমিনিউকেশন।

‘যদিও এটা কোনো আইনের মধ্যে নেই, কিন্তু সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে আইনের ব্যাখ্যা দেয়া আছে। আইন বলতে দীর্ঘদিনের কাস্টম, ট্র্যাডিশনকেও কিন্তু আইনে স্বীকৃতি দেয়া আছে। কেবল সংসদের প্রণীত আইন, কোনো আদালতের রায় কিংবা অন্য কোনো কাগজ, দলিল, দস্তাবেজ হতে হবে তা নয়। দীর্ঘদিনের কাস্টম, ট্র্যাডিশন এগুলোও কিন্তু আইন হিসেবে গণ্য হবে।’

শিক্ষকরা পাঠদানের অংশ হিসেবে শ্রেণিকক্ষে কী বলবেন বা বলবেন না, সেটি কখনও মামলার বিষয়বস্তু নয় বলে মনে করেন এই আইন বিশেষজ্ঞ।

তিনি বলেন, ‘তবে সম্প্রতি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কিংবা তারও আগে ৫৭ ধারা, এ আইনগুলো আসার পর এক ধরনের উৎসাহ, ভিন্নরকমভাবে ব্যবহারের কারণে আইনগুলোর অপব্যবহার হচ্ছে। এটা অগ্রহণযোগ্য।’

২৯৫ ধারায় মামলা নেয়ার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেয়ার বাধ্যবাধকতার বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘পেনাল কোডে স্পষ্ট লেখা আছে- ২৯৫ ধারায় যদি মামলা করতে হয়, তাহলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড পাবলিসিটি বিভাগের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘২৯৫ যে জামিন অযোগ্য ধারা, সেই ধারায় মামলা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগে।’

২৯৫ ও ২৯৫(ক) ধারা একসঙ্গে প্রয়োগ করা হলে এই অনুমতি নেয়ার বাধ্যবাধকতা শিথিল হয় কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলিন, ‘পারমিশন বলতে হলো অবগতির একটা বিষয় থাকে। কোনো ক্ষেত্রে পারমিশন মৌখিক হতে পারে, কোনো সময় লিখিত হতে পারে।

‘আসলে যেভাবে অনুমতির বিষয়টি সহজ হয়, সেভাবেই নেয়া হয়। অনেক সময় যদি মনে করে যে এটা পারমিশন লাগবে না, ইমিডিয়েট ঘটনাটির জন্য আইনশৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটতে পারে, সে ক্ষেত্রে আগে মামলা নিয়েও অনুমতি নিতে পারে। বিষয়টা আসলে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।’

কোনো ব্যক্তি অপরাধ করেননি সে-সংক্রান্ত দণ্ডবিধির ধারা মামলায় প্রয়োগের সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘ল (আইন) এর স্পিরিট কী বলে সে বিষয়ে একজন আইন বিশেষজ্ঞ এবং পুলিশে যারা ল অফিসার আছেন তাদের মতামত না নিয়ে এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না।’

মামলায় অভিযোগ নিয়ে বিস্মিত বিজ্ঞানশিক্ষক হৃদয় মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘আমি যে স্কুলে শিক্ষকতা করি সেই স্কুলের কম্পাউন্ডের ভেতরে কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ই নেই। সেখানে আমি কী করে উপাসনালয় ভাঙচুর বা ভাঙচুরে উসকানি দেব! এ ছাড়া ধর্ম অবমাননার অন্য অভিযোগেরও কোনো ভিত্তি নেই।’ এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত