ঢাকা, বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

মতলববাজির উন্নয়ন চলছে: সুজন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২২, ১৯:৫৫

মতলববাজির উন্নয়ন চলছে: সুজন
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট: নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নিজস্ব জ্বালানি সক্ষমতা তৈরির বদলে সরকার হাত গুটিয়ে বসে থাকায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। দেশের গ্যাসক্ষেত্রে প্রচুর সম্ভাবনা থাকার পরও উত্তোলন না করে একটি গোষ্ঠীকে লুটপাটের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরূল ইমাম। প্রবন্ধে বলা হয়, দেশের নিজস্ব জ্বালানির অনুসন্ধান ও উত্তোলন না করা এবং বিদেশি জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো জ্বালানি সংকটের কারণ। ২০১৭ সাল থেকে দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে বার্ষিক গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ কমছে। অতি গ্যাস সম্ভাবনাময় দেশ হওয়ার পরও বিশ্বের অন্যান্য গ্যাসধারক বেসিনের থেকে বাংলাদেশে অনুসন্ধান কূপের সংখ্যা অনেক কম।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘মতলববাজির উন্নয়ন চলছে। যা করা উচিত নয়, তা করা হচ্ছে। যেগুলো করার কথা নয়, সেগুলো করা হচ্ছে। চাচা-ভাতিজাতন্ত্র, মামা-ভাগিনাতন্ত্রে একটি গোষ্ঠী বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দেশে চার কোটির বেশি মানুষ নিম্নবিত্ত। জ্বালানিসংকটে তারা আরও বিপদে পড়বেন।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি না হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় সংকট তৈরি হয়। দেশের জ্বালানিসংকট আকস্মিক নয়। এখন যা ঘটছে, তা তৈরি হওয়ার মতো পরিকল্পনাই নেয়া হয়েছিলো। এ সংকটের কারণে একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠী লাভবান হচ্ছে।

জ্বালানিবিশেষজ্ঞ বিডি রহমতউল্লাহ বলেন, ১৯৯৫ সাল থেকেই বলা হচ্ছে, বছরে মোট জ্বালানি চাহিদার ৫ শতাংশ মেটানো হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয় না। তিনি বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ বানালে পকেটে পয়সা বেশি আসে, বিদেশে টাকা বেশি পাচার করা যাবে। সে কারণে এদিকে নজর রয়েছে। জ্বালানি খাতে জনবান্ধব কোনো প্রকল্প নেয়া হচ্ছে না।

জ্বালানিসংকটকে পুঁজি করে সরকার পকেট ভরছে বলে মন্তব্য করেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘আগে বলত খাম্বা আছে, বিদ্যুৎ নেই। এখন তো বিদ্যুতের কারখানা আছে, জ্বালানি ও সঞ্চালন নেই। সরকার এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, জ্বালানিসংকট নিয়ে প্রশ্ন তোলারও সুযোগ নেই। ন্যূনতম জবাবদিহি নেই।’

বাংলাদেশ জার্নাল/রাজু

  • সর্বশেষ
  • পঠিত