ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২৩ আশ্বিন ১৪২৯ আপডেট : ১২ মিনিট আগে

ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার প্রলোভনে কিশোরী অপহরণ!

  নিজস্ব প্রতি‌বেদক

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২২, ১৫:২৭

ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার প্রলোভনে কিশোরী অপহরণ!
ছবি-নিজস্ব
নিজস্ব প্রতি‌বেদক

রাজধানীর তেজগাঁও এলাকা থে‌কে অপহৃত একজন কি‌শোরী উদ্ধারসহ অপহর‌ণে জ‌ড়িত তিনজন‌কে গ্রেপ্তার ক‌রে‌ছে পু‌লিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. সায়ের আলম পাভেল (৩৪), মো. শেখ আলমগীর (২৩) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৫)।

পুলিশ জানায়, ওই কিশোরীকে অপহরণ করে টাঙ্গাইলে জাহাঙ্গীরের বাসায় রাখা হয়। পাভেল ইতোপূর্বে আরও দুই মামলার আসামি। এ থেকে পুলিশ ধারণা করছে, গ্রেপ্তারকৃতরা নারী পাচারকারী চক্রের সদস্য। তবে পরবর্তী তদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শুক্রবার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি এইচ এম আজিমুল হক বলেন, গত ১৪ আগস্ট নবম শ্রেণি পড়ুয়া ওই কিশোরীকে প্রলোভন দেখিয়ে বাসা থেকে অপহরণ করা হয়। এরপর জাহাঙ্গীর ভিকটিমের বাবার কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অন্যথায় মেয়েটিকে পতিতালয়ে বিক্রি করার হুমকি দেন। বিষয়টি পুলিশকে জানালে মেয়েকে চিরতরে গুম করে দেয়ারও হুমকি দেয়া হয়।

একপর্যায়ে ১৮ আগস্ট মেয়েটির বাবা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা ক‌রেন। প‌রে তাৎক্ষণিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে মির্জাপুর থেকে ভিকটিমকে উদ্ধারসহ দুইজনকে ও পরে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ছোটভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে অপহরণ করা হয় জানিয়ে তেজগাঁও‌য়ের ডি‌সি ব‌লেন, গ্রেপ্তার আলমগীর তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ডে রং মিস্ত্রির কাজ করেন। কাজের সুবাদে আলমগীরের সঙ্গে পাভেলের পরিচয় হয়। আলমগীরের মাধ্যমে পরিচয় সূত্রে ওই এলাকার এক তরুণীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন পাভেল। তরুণীর বাবা-মায়ের কাছেও বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যান। কিন্তু পাভেল প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয় এবং তরুণীর বাবা-মায়ের কাছে অপমানিত হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। ওই তরুণীর বিয়ে হয়ে গেলে পাভেল তার ছোটবোনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে।

ডি‌সি আরও বলেন, একপর্যায়ে নিজের কথিত লন্ডন প্রবাসী ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে স্কুল পড়ুয়া ওই কিশোরীকে বাসা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যান পাভেল। এরপর তাকে ঢাকা থেকে নিয়ে টাঙ্গাইলে জাহাঙ্গীরের বাসায় রাখে। এরপর জাহাঙ্গীর ভিকটিমের বাবাকে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করে।

এইচ এম আজিমুল হক বলেন, পাভেল এমনভাবে তাকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, তার ভাইকে বিয়ে করার আশায় ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। আমরা মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ওই ভাইকে দেখেছে কি-না। সে বলেছে কখনো দেখেনি, শুধু ছবি দেখেছে। পাভেলের এই ভাইয়ের কথা বলা প্রতারণারই অংশ হতে পারে।

গ্রেপ্তার পাভেল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জা‌নি‌য়ে‌ছেন, বাবা-মায়ের প্রতি আক্রোশ থেকেই ভিকটিমকে পতিতালয়ে বিক্রি করে দিতে অপহরণ করে নিয়ে যায়। আমরা ধারণা করছি, তারা নারী পাচারকারী চক্রের সদস্য, যারা নানা কৌশলে মেয়েদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। তবে পরবর্তী তদন্তে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া যাবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত