ঢাকা, শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে
শিরোনাম

মিতু হত্যার বিচারকাজ প্রভাবিত করতেই বাবুলের মামলার আবেদন: আদালত

  চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:২৪

মিতু হত্যার বিচারকাজ প্রভাবিত করতেই বাবুলের মামলার আবেদন: আদালত
আদালত প্রাঙ্গন। ফাইল ফটো
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

রিমান্ডে নির্যাতনের অভিযোগে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের করা মামলার আবেদন খারিজ করেছেন আদালত। কারণ হিসেবে আদালত বলেছেন, মিতু হত্যা মামলার বিচারকাজ প্রভাবিত করতেই বাবুল আক্তার মামলার আবেদন করেছেন। তার অভিযোগগুলোও অসত্য বলে মনে হয়েছে আদালতের।

রোববার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুননেছা শুনানি শেষে আবেদনটি খারিজ করার সময় এসব পর্যবেক্ষণের কথা জানান।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী বিচারকের বরাতে বলেন, ‘হেফাজতে নির্যাতনের যে অভিযোগ বাবুল আক্তার করেছেন তা এক বছর ৪-৫ মাস আগের। এরই মধ্যে তিনি জামিন শুনানিতে অসংখ্যবার আসলেও কখনও এসব অভিযোগ তোলেননি। মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এই অভিযোগ তুলেছেন বাবুল আক্তার।’

তিনি বলেন, ‘বাবুল আক্তার নিজের আবেদনেও বলেছেন তাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা স্যার ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। আদালতের প্রশ্ন হলো একজন এসপিকে একজন পরিদর্শক কীভাবে শারিরীকভাবে নির্যাতন করতে পারে? তাছাড়া তদন্ত কর্মকর্তা নিজেও একসময় বাবুলের অধীনে কাজ করেছেন। মূলত মিথ্যা ও অবাস্তব অভিযোগ এনে মিত্যু হত্যা মামলার তদন্তকে প্রভাবিত করতেই এসব অভিযোগ করেছেন বাবুল আক্তার। এছাড়া তিনি যেসব ধারায় অভিযোগ এনেছেন সেটাও সঠিক হয়নি বলে আদালত বলেছেন।’

এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর কারাগারে থাকা বাবুলের পক্ষে তার আইনজীবী মামলা নেয়ার আবেদন করেছিলেন। আবেদনে গত বছরের ১০ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত বাবুলকে পিবিআই চট্টগ্রাম কার্যালয়ে হেফাজতে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ করা হয় এবং হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে মামলার আবেদন করা হয়।

মামলায় নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩-এর ১৫ (১) ধারা এবং সংশ্লিষ্ট আইনের ৫ (২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, রিমান্ডে থাকাকালে তদন্ত কর্মকর্তাসহ অন্যরা বাদীকে গালিগালাজ ও অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেন। এভাবে ১৭ তারিখ পর্যন্ত স্বীকারোক্তি আদায়ের উদ্দেশে সারাক্ষণ চোখ বেঁধে, হ্যান্ডকাপ পরিয়ে, না ঘুমাতে দিয়ে, গোসল করতে না দিয়ে, পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না দিয়ে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও লাঞ্ছনাকর আচরণ করে তাকে শারীরিক ও মানসিক কষ্ট দিয়ে নির্যাতন করা হয়।

মামলায় আসামি করা হয়েছে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার, সংস্থাটির চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের এসপি নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের এসপি নাঈমা সুলতানা, পিবিআইয়ের সাবেক পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা ও এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম এবং সংস্থাটির চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক কাজী এনায়েত কবিরকে।

মামলার আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ১০ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত মামলার বাদী বাবুল আক্তারকে পিবিআই জেলা অফিস ও মেট্রো রুমে আটকে রাখা হয়। এ সময় আসামিরা বাদীকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি না দিলে বিপদ আছে বলে হুমকি দেয়। এছাড়া পরিবারের বিপদ আছে বলেও শাসায়। ওই বছরের ১২ মে তারিখে তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়। এ সময় হ্যান্ডকাপ পরিয়ে এবং চোখ বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদের নামে স্বীকারোক্তি দিতে রাজি করানোর জন্য বাবুল আক্তারের সঙ্গে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও লাঞ্ছনাকর আচরণ করা হয়।

এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারসহ সাত জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আগামী ১০ অক্টোবর মামলাটির ধার্য তারিখ রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে করে তিন দুর্বৃত্ত মিতুকে ঘিরে ধরে। প্রথমে তারা তাকে গুলি করে। এরপর কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। ওই সময় মিতুর স্বামী বাবুল আক্তার পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে যোগ দিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।

এ ঘটনায় নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন বাবুল আক্তার। মামলাটি চট্টগ্রামের নগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে ৩ বছর ১১ মাস তদন্তে থাকার পর গত বছরের মে মাসে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়।

তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। এরপর মিতু হত্যাকাণ্ডে বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে গত ১২ মে মিতুর বাবা মোশারফ হোসেন পাঁচলাইশ থানায় এজাহার দায়ের করেন।

এজাহারে মিতুর স্বামী সাবেক এসপি বাবুল আক্তার, কিলিং স্কোয়াডের সদস্য মো. কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুসা, এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা, মো. মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খায়রুল ইসলাম ওরফে কালু ওরফে কসাই কালু, মো. সাইদুল ইসলাম সিকদার ওরফে সাকু মাইজ্যা ও শাহজাহান মিয়াকে আসামি করা হয়েছিলো। যদিও এদের মধ্যে ২ জন পুলিশের সঙ্গে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন এবং বর্তমানে জেলে আছেন দুইজন। পুলিশের তথ্যমতে, কিলিং স্কোয়াডের নেতৃত্বদানকারী মুসা পলাতক রয়েছেন।

এছাড়া স্ত্রী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বাবুল আক্তারকে পাঁচদিনের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। রিমান্ড শেষে প্রথমে আদালতে জবানবন্দি দেয়ার কথা থাকলেও পরে জবানবন্দি দেননি বাবুল। ২৯ মে থেকে বাবুল আক্তার ফেনী কারাগারে আছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত