ঢাকা, শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ আপডেট : ৩ মিনিট আগে
শিরোনাম

দুর্গাপূজা: ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৯:১৫

দুর্গাপূজা: ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা
ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা। ছবি: ইলিয়াস সাজু।
নিজস্ব প্রতিবেদক

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে চারদিকে চলছে নানা আয়োজন। ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা।

ভক্তদের হৃদয় ছুঁতে কারিগরদের প্রতিযোগিতা চলছে মণ্ডপে মণ্ডপে। সামর্থ্য অনুযায়ী স্থানীয় ও অন্য জেলা থেকে কারিগর এনে প্রতিমা তৈরি করছেন পূজার আয়োজকরা।

শনি ও বেববার রাজধানীর বিভিন্ন মন্দির ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

রমনা কালী মন্দিরে প্রতিমার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। খড় দিয়ে কাঠামো তৈরির কাজ, বেনায় মাটির প্রলেপ দেয়া ও শুকানোর কাজ শেষ। এখন মাটির প্রলেপের ওপর সাদা রঙ দেয়ার কাজ করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। শুকিয়ে গেলে রঙ আর তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হবে দেবীর প্রতিচ্ছবি। এর বাইরে মন্দির আঙিনা পরিষ্কার ও পূজামণ্ডপ নির্মাণের কাজ চলছে।

প্রতিমা তৈরির কারিগর রবিন পাল বলেন, প্রতিমা তৈরি ও শুকানোর কাজ শেষ হয়েছে। এ কাজে সহযোগিতা করছেন আরো একজন। সাদা রঙের কাজ শেষ করার পর রঙ-তুলি দিয়ে দেবীর প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলার কাজ শেষ করা হবে।

তিনি আরও জানান, রাজধানীর আজিমপুর, বারিধারা, কলাবাগান, ফার্মগেটের তেজকুনিপাড়াসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় তাদের তৈরি প্রতিমা পাঠানো হবে। পাশাপাশি রমনা কালী মন্দিরেও একটি প্রতিমা স্থাপন করা হবে। তারা মোট ছয়জন কাজ করছেন এখানে।

শ্রী শ্রী রমনা কালী মন্দির শ্রী মা আনন্দময়ী আশ্রম পরিচালনা পরিষদের সভাপতি উৎপল সাহা বলেন, প্রতিমার কাঠামো নির্মাণ, মাটির প্রলেপ দেওয়া ও শুকানোর কাজ শেষ হয়েছে। এখন রঙের কাজ চলছে। পাশাপাশি চলছে মণ্ডপ নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক কাজ।

রাজধানীর রমনা কালী মন্দির ছাড়াও রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, বাংলাবাজার নর্থব্রুক হল রোডের জমিদার বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানেও প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। বেশিরভাগ প্রতিমাতেই চলছে রঙ তুলির কাজ।

হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, রোববার মহালয়া তিথির মধ্য দিয়ে মর্তলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে দেবী দুর্গাকে। মাতৃত্ব ও শক্তির প্রতীক দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আহ্বান জানানোর মাধ্যমে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। মহালয়ার মাধ্যমে দেবী দুর্গা পা রাখেন মর্ত্যলোকে, ছয় দিন পর ষষ্ঠীতে হবে দেবীর বোধন।

মহালয়ার আরও একটি দিক হচ্ছে, এই মহালয়া তিথিতে যারা পিতৃ-মাতৃহীন তারা তাদের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে অঞ্জলি প্রদান করেন। সনাতন ধর্ম অনুযায়ী, এই দিনে প্রয়াতদের আত্মা মর্ত্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রয়াতদের আত্মার এই সমাবেশকে মহালয়া বলা হয়। মহালয় থেকে মহালয়া। পিতৃপক্ষেরও শেষদিন এটি।

রোববার ভোর থেকে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ সারাদেশে মণ্ডপে-মণ্ডপে চণ্ডীপাঠ, মঙ্গলঘট স্থাপন, ঢাক-কাঁসা ও শঙ্খ বাজিয়ে দেবীকে আহ্বান জানান ভক্তরা। হিন্দু আচার অনুযায়ী, মহালয়া, বোধন আর সন্ধিপূজা- এই তিন পর্ব মিলে দুর্গোৎসব। সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম দিন হয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। আশ্বিন মাসের এই শুক্ল পক্ষকে বলা হয় দেবীপক্ষ।

রোববার ভোরে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটি। দেশের অন্যান্য মন্দিরেও এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রমেন মণ্ডল বলেন, ভোর ৬টা থেকে সকাল ৭টাটা পর্যন্ত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠান হয়েছে। এছাড়া সকাল ৯টায় পূর্ব পুরুষের আত্মার শান্তি কামনায় তিল তর্পণ এবং সাড়ে ৯টায় মহালয়ার ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/ সুজন/এমএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত