গোপালগঞ্জে বিজয়া দশমী উপলক্ষে নৌকাবাইচ

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১১:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

  গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

বিজয়া দশমী উপলক্ষে নৌকাবাইচ। ছবি- প্রতিনিধি

সনাতন ধর্ম্বাবলম্বীদের শারদীয়া দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী উপলক্ষে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয়েছে নৌকাবাইচ। শত বছরেরও বেশী সময় ধরে এসব নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের আয়োজন ছাড়াই এ নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

পূজার আনন্দ ভাগাভাগি ও প্রাণবন্ত করতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড়ে মধুমতি নদী, কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘর নদী ও রামশীল ইউনিয়নের রামশীল নদী এবং কাশিয়ানী উপজেলার বাথানডাঙ্গার মধুমতি নদীতে এমন আয়োজন করে এলাকাবাসী।

বুধবার বিকালে সদর উপজেলার মধুমতি নদীতে অনুষ্ঠিত বাইচে ২০টি, কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘর নদীতে অনুষ্ঠিত বাইচে ১৫টি ও রামশীল নদীতে ১০টি এবং কাশিয়ানী উপজেলার বাথানডাঙ্গার মধুমতি নদীতে অনুষ্ঠিত বাইচে ১৫টি নৌকা অংশ নেয়। এবারের এসব নৌকাবাইচে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, বরিশাল, খুলনা, নড়াইল জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সরেঙ্গা, ছিপ, কোষা বাচারী নৌকা অংশ নেয়। নান্দনিক এ নৌকা বাইচ চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

এ নৌকাবাইচ দেখতে বিকেল থেকেই এসব স্থানের নদীর দু’পাড়ে জড়ো হতে থাকে হাজার হাজার দর্শনার্থী। গোপালগঞ্জ জেলা ছাড়াও আশপাশের জেলা মাদারীপুর বাগেরহাট, বরিশাল, খুলনা, পিরোজপুর, নড়াইল জেলা থেকে অসংখ্য দর্শক এসব নৌকাবাইচ উপভোগ করেন। 

এলাকার অধিকাংশ লোকই প্রতি বছর এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করে। অনেকে গ্রামের বাইরে গিয়ে নানা কাজে শহরে জীবন যাপন করেন। কিন্তু, এদিন তারা কাটান একেবারেই গ্রাম্য পরিবেশে আর গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা শিবানী সাহা বলেন, এবারই প্রথম নৌকাবাইচ দেখার সুযোগ হলো। নৌকাবাইচ দেখলে যে মন প্রাণ জুড়িয়ে যায় না দেখলে জানতে পারতাম না।

কোটালীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা সুমন হালদার বলেন, প্রতিবছর ঘাঘর নদীতে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। পরিবার পরিজন নিয়ে আমরা নৌকাবাইচ উপভোগ করি।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নীতিশ রায় বলেন, নৌকাবাইচ আমাদের দেশের সাংস্কৃতির একটি ঐতিহ্য। কিন্তু শহুরে পরিবেশের কারণে এখন তা হারিয়ে যেতে বসেছে। এ নৌকাবাইচ আমাদের ধরে রাখতে এর আয়োজন করতে হবে।

কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাহাঙ্গীর আলম, আমাদের দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি ধরে রাখতে হবে। সেজন্য আমাদের বেশি বেশি করে দেশীয় সংস্কৃতির আয়োজন কতে হবে। নৌকাবাইচ এর মধ্যে অন্যতম। আগামীতেও এমন আয়োজন করা হবে। 

কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাদল বলেন, ‘আজ থেকে প্রায় দেড়’শ বছর আগে যশোরের বিঘাপতির জমিদার খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে ঘাঘর নদীতে দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দিন এখানে মেলা ও নৌকা বাইচের আয়োজন করেছিলেন। সেখান থেকে প্রতিবছর দুর্গাপূজার সময় এখানে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘নদী ও খাল-বিল বেষ্টিত কোটালীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিশ্বকর্মা পূজা, দুর্গাপূজা, লক্ষ্মী পূজায় নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এসব বাইচে পুরস্কারও দেয়া হয় না। তারপরেও এখানে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

 

বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ