ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯ আপডেট : ৩ মিনিট আগে
শিরোনাম

ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে প্রধান শিক্ষকের যাবজ্জীবন

  রাঙামাটি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৬:০২

ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে প্রধান শিক্ষকের যাবজ্জীবন
দণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। ছবি: প্রতিনিধি
রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার আটার কছড়া ইউনিয়নে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে লংগদুর করল্যা ছড়ি আর এস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুর রহিমকে (৪৬) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকার অর্থদণ্ড দিয়েছে রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার দুপুর ১টায় রাঙামাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ ই এম ইসমাইল হোসেন এ রায় দেন।

যাবজ্জীবন রায় ছাড়াও ভিক্টিমকে আগামী ৯০ দিনের মধ্য ১০ লাখ টাকা প্রদানের আদেশ দেন। এ টাকা দিতে ব্যর্থ হলে জেলা প্রশাসকের কালেক্টর নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুসরণ করে আব্দুর রহিমের সব স্থাবরঅস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালে ২৫ সেপ্টেম্বর ১৬ বছরের এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী ছাগল খুঁজতে করল্যা ছড়ির আর এস উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের দিকে যান। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বিদ্যালয়ে ছিলেন। তৎকালীন করোনায় ছাত্রাবাসে কোন শিক্ষার্থী ছিল না। এ সুযোগে ঐ ছাত্রীকে লেবু নেয়ার কথা বলে ডাকেন। ছাত্রী লেবু নিতে গেলে আব্দুর রহিম তাকে ধরে রুমে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে ধর্ষণ করেন। এর পর এ বিষয়টি কাউকে না জানাতে ছাত্রীকে হুমকি দেন। পরবর্তীতে এ ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সাম্প্রদায়িক বিরোধ সৃষ্টির চেষ্টা করেন।

এ ঘটনার পর ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর ভিকটিমের মা লংগদু থানায় মামলা করেন। এ মামলা তদন্ত শেষে গত ২০২১ সালে ২৮ অক্টোবর আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করা হয়।

রায়ে বলা হয়, আব্দুর রহিম অপরাধ থেকে বাঁচতে ধর্ষিতাকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করার কাগজপত্রও আদালতে দাখিল করেন। রায়ে আরও বলা হয়, আসামি একজন বিবাহিত। এ ঘটনায় আব্দুর রহিম যেমন পরিবারের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেন তেমনি শিক্ষকতার মহান পেশাকে কলঙ্কিত করেছেন। বিচারক তাঁর রায়ে বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে রাঙামাটি জেলায় বসবাসরত পাহাড়িবাঙালি সবাই আইনের দৃষ্টিতে সমান। বিচার বিভাগ সকলের জন্য উন্মুক্ত।

ভিকটিমের পক্ষে আইনজীবী রাজীব চাকমা বলেন, আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি আব্দুর রহিম কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। বিজ্ঞ আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। আসামিপক্ষের আইনজীবী মোকতার আহমেদ বলেন, এ রায়ে আসামি ন্যায় বিচার পায়নি। আমরা উচ্চ আদালতে যাব।

রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী (পিপি) মো. সাইফুল ইসলাম অভি বলেন, ২০২০ সালের এ মামলাটি দ্রুততার সাথে নিষ্পত্তি হয়েছে।আসামির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ছিল সেগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত এ রায় দিয়েছেন। এ রায়ে আমরা সুন্তুষ্ট।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমপি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত