ঢাকা, বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯ আপডেট : ৯ মিনিট আগে
শিরোনাম

ফরিদপুরে মেডিকেল হাসপাতালে বাড়ছে চুরি-ছিনতাই

  ফরিদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ২১:৪৮

ফরিদপুরে মেডিকেল হাসপাতালে বাড়ছে চুরি-ছিনতাই
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ছবি: প্রতিনিধি
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল) দীর্ঘদিনের দালাল চক্রের দৌরাত্মের পাঁশাপাশি ইদানীং বেড়েই চলেছে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা। রোগী কিংবা রোগীর স্বজন কেউই রেহাই পাচ্ছে না চোরের হাত থেকে। হাসপাতালের বহিরাগত রোগীদের টিকিট কাউন্টারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং ভেতর থেকে গত দুই মাসে অন্তত শতাধিক চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও হাসপাতাল প্রশাসন রয়েছে নিরব ভূমিকায়।

স্বজনদের অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাতে সারা রাত বহিরাগতরা টহল দেয় বিভিন্ন ওয়ার্ডে। কেউ এম্বুলেন্স ড্রাইভার আবার কেউ ওষুধের দোকানের প্রতিনিধি পরিচয় দিলেও সার্বক্ষণিক দলবেঁধে ওয়ার্ডের ভিতর মহড়া দেয়। এতে হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হুমকিতে পড়েছে। এরাই সুযোগ বুঝে বহিরাগতদের সহযোগিতায় চুরি কিংবা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটাচ্ছেন।

গত কয়েকদিন আগে রাতে মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে কামরুল নামে এক রোগীর স্বজনের কাছ থেকে মোবাইল চুরি হয়। তার কয়েকদিন আগে হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা শিউলী বেগম নামে আরও একজনের মোবাইল চুরি হয়।

ভুক্তভোগী কামরুলের স্বজনরা জানান, সারারাতই প্রায় সজাগ ছিলেন। শেষ রাতে আধা ঘন্টা ঘুমাতে গেলেই উঠে আর মোবাইল পাননি তার। এরকম আরও কয়েকজনের মোবাইল ও টাকা-পয়সা চুরি হয়েছে বলে দাবি তাদের।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নারীদের টার্গেট করে হাসপাতালে চোরদের উপদ্রব বাড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন সময়ে সেবা নিতে এসে শুধু এই হাসপাতাল থেকেই অর্ধশতাধিক নারীর স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল খোয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন অসুস্থ স্বামীকে সেবা করতে আসা এক নারী। ছিনতাইকারীরা লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় তখন। হাসপাতালের এ ঘটনায় হাসপাতাল জুড়ে আলোচিত হয়।

একাধিক রোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে চোর ও ছিনতাইকারীদের হাতেনাতে ধরে থানা পুলিশে দেয়া হয়েছে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট থানাতে কোনো অভিযোগ কিংবা মামলা দায়ের না করায় সহজেই ছাড়া পায় তারা। ছাড়া পেয়ে পুনরায় এসব কাজে জড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া হাসপাতাল প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও তারা শুনেও না শুনার ভান করে প্রতিনিয়ত এড়িয়ে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে হাসপাতালটির পরিচালক ডাঃ এনামুল হক বলেন, হাসপাতালে কিছু চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে শুনছি। তবে, ভুক্তভোগী কোনো রোগী কিংবা রোগীর স্বজনরা আমাদের লিখিত কোনো অভিযোগ না দেয়ায় ব্যবস্থা নেওয়াটা একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে, আমাদের পক্ষ থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনদের এ ব্যাপারে বারবার সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।

আপনাদের পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসন কিংবা জেলা প্রশাসনকে এব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়া হয়েছে কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে এ পরিচালক বলেন, আমি এ হাসপাতালটিতে নতুন যোগদান করেছি। তাই, এখন পর্যন্ত প্রশাসনকে জানানো হয়নি। তবে, এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন এ পরিচালক।

বাংলাদেশ জার্নাল/নুসরাত/জিকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত