ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯ আপডেট : ৬ মিনিট আগে
শিরোনাম

চট্টগ্রামে ভালো ফলাফলেও ভর্তির সুযোগ নেই সরকারি কলেজে

  চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:২০

চট্টগ্রামে ভালো ফলাফলেও ভর্তির সুযোগ নেই সরকারি কলেজে
চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন। চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য চট্টগ্রাম নগরে মোট আসন খালি রয়েছে ৫১ হাজার ৪৭৪টি। তারমধ্যে ৮টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার ৭০০ আসনের জন্য লড়বে এসএসসি পাস শিক্ষার্থীরা। আর এবছর চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে পাস করেছে ১ লাখ ৩০ হাজার ১৩ জন শিক্ষার্থী।

তবে ভালো ফলাফল করেও অনেক শিক্ষার্থীর নগরীর ৮ সরকারি কলেজে ভর্তির সুযোগ হবে না। কারণ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের তুলনায় নগরীর সরকারি কলেজগুলোতে আসন সংখ্যা কম। এসব শিক্ষার্থীকে বিভাগ পরিবর্তন করে অথবা নগরীর বাহিরে অন্য কোনো কলেজে ভর্তি হতে হবে।

জানা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের তুলনায় চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় সরকারি কলেজের আসন সংখ্যা অনেক কম। ফলে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ সরকারি কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে না। এবার এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বোর্ড থেকে ১৮ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ১৮ হাজার ৬৬৮ জনের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ২২৩ জন। আর চট্টগ্রাম নগরীর ৮টি সরকারি কলেজের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের জন্য আসনসংখ্যা বরাদ্দ রয়েছে ৩ হাজার ৪০০টি। সে তুলনায় সরকারি কলেজগুলোতে আসন নেই।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম নগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট আসনের মধ্যে বিজ্ঞানে বিভাগের জন্য রয়েছে ১৬ হাজার ৭৫৯টি, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের জন্য ১৯ হাজার ৬৬৫টি এবং মানবিকে বিভাগের জন্য আসন খালি রয়েছে ১৫ হাজার ৫০টি। নগরের ৮টি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আসন খালি রয়েছে ৩ হাজার ৪০০টি। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আসন খালি রয়েছে ২ হাজার ৬৫০টি। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আসন খালি রয়েছে ৩ হাজার ৬৫০টি।

এরমধ্যে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে মোট আসন সংখ্যা ১ হাজার ৪০টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৬৬০টি এবং মানবিক বিভাগে ৩৮০টি। সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে মোট আসন সংখ্যা ১ হাজার ৭৩৫টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৬৬০টি, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৬১৫টি এবং মানবিক বিভাগে ৪৬০টি। সরকারি কমার্স কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৯০০ আসন রয়েছে। চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে দুই শিফটে (দিবা ও নৈশ) মোট আসন সংখ্যা ২ হাজার ১৮০টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে (দিবা) ৬৬০টি, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের দিবা ও নৈশ শাখায় ৩৮০টি করে মোট ৭৬০টি আসন রয়েছে। এছাড়া, মানবিক বিভাগের দিবা ও নৈশ শাখায় ৩৮০টি করে মোট ৭৬০টি আসন রয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজে মোট আসন সংখ্যা ১ হাজার ৪০০টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫০০টি, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৫০০টি এবং মানবিক বিভাগে ৪০০টি আসন রয়েছে। বাকলিয়া সরকারি কলেজে মোট আসন সংখ্যা ১ হাজার ৪২৫টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৪৫০টি, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৫২৫টি এবং মানবিক বিভাগে ৪৫০টি। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজে মোট আসন সংখ্যা ১৮০টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৯০টি এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৯০টি আসন রয়েছে। চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজে মোট আসন সংখ্যা ৮৪০টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৩৮০টি, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ২৬০টি এবং মানবিক বিভাগে ২০০টি আসন রয়েছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক মো. জাহেদুল হক জানান, কলেজের সক্ষমতা বিবেচনা করে কয়েক ধাপে আসন বাড়ানো হয়েছে। এ বছর আর আসনসংখ্যা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। এছাড়া এ বছর নগরীর ৮টি সরকারি কলেজে মোট আসন সংখ্যা ৯ হাজার ৭০০টি। জিপিএ-৫ পাওয়া অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীর হয়তো নগরীর সরকারি কলেজগুলোতে ভর্তির সুযোগ হবে না। কিন্তু নগরীর বাইরে অনেক কলেজ আছে, সেগুলোতেও শিক্ষার মান যথেষ্ট ভালো। সেখানে ভর্তির সুযোগ হবে। সুতরাং অভিভাবকদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।

বাংলাদেশ জার্নাল/নুসরাত/জিকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত