ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ১৭ মাঘ ১৪২৯ আপডেট : ১৯ মিনিট আগে
শিরোনাম

‌পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষ: তিন মামলায় আসামি ২ হাজারের বেশি

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬:৪৬  
আপডেট :
 ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬:৫৮

‌পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষ: তিন মামলায় আসামি ২ হাজারের বেশি
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন থানায় মামলা করেছে পুলিশ।

পল্টন, মতিঝিল ও শাজাহানপুর থানায় পুলিশের ওপর হামলা ও বেআইনি সমাবেশ এবং বিস্ফোরক আইনে করা এসব মামলায় ৫৩০ জনের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে বিএনপির দুই হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে।

বৃহস্পতিবার পল্টন মডেল থানা, মতিঝিল ও শাহজাহানপুর থানায় এসব মামলা করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট তিনটি মামলা করা হলো।

আরও পড়ুন-বিএনপির কার্যালয় ঘিরে রেখেছে পুলিশ, চলছে না যানবাহন

পল্টন মডেল থানার ওসি মো. সালাহউদ্দীন মিয়া বলেন, বুধবারের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় ৪৭৩ জনকে এজাহারনামীয় আসামি ও পনেরশো থেকে দুই হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা ও বিস্ফোরক আইনে এ মামলা করা হয়েছে।

মতিঝিল থানায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এ মামলায় আসামি করা হয়েছে বিএনপির ২৮ নেতাকর্মীকে। ওই মামলায় ২০ জন গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মতিঝিল থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে নাশকতার অভিযোগ এনে বিএনপির তিন শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করেছে। এতে ৫২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেনসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন মোল্লা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শাহজাহানপুর থানার মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনের সামনে মহাসমাবেশের অনুমতি না পেয়ে শাহজাহানপুরের চাঁনমারী বাটক্রসিং এলাকায় লাঠিসোঠা, লোহার রড, ইট-পাটকেল, ককটেল ও বিভিন্ন মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাস্তায় যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ও সরকার বিরোধী স্লোগান দেয়। এসময় তারা নাশকতামূলক ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম করতে থাকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা করে। এসময় কালো টেপ লাগানো জর্দার কৌটা সদৃশ পুরাতন টিনের কৌটা, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

এর আগে নয়াপল্টন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হয়। এতে বিএনপির ৪৭৩ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫০০ থেকে ২০০০ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। পুলিশ বাদী হয়ে এই মামলাটি করেছে।

আরও পড়ুন-‌পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষ: পল্ট‌ন থানায় মামলা

বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন অনেকে। পরে বিএনপি কার্যালয়ে অভিযান চালানো হলে চাল, পানি, খিচুরি ও নগদ টাকা পাওয়া যায় বলে জানায় পুলিশ।

অভিযান চলাকালে নয়াপল্টন থেকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত