প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব লুটে নিতো চক্রটি

প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৩, ২১:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ছবি: প্রতীকী

আকর্ষণীয় ছবি, সুন্দর বচনভঙ্গি আর মোহনীয় রূপে আকৃষ্ট হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় হৃদিতা রহমানের সাথে মাত্র পাঁচ দিনের পরিচয়েই নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসেন ফতুল্লা নিবাসী ইউনুস (২৭)।

রাজধানীর ওয়ারীর সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ প্রাঙ্গণে দেখা হওয়ার স্থান নির্ধারিত থাকায় ইউনুসের মনে বিশ্বাস অনেক বেড়ে যায়। গভীর বিশ্বাস নিয়ে গত ১৪ মার্চ হৃদিতার সাথে দেখা করতে ঢাকায় আসেন ইউনুস। সেখানে পৌঁছামাত্রই হৃদিতার কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে এগিয়ে যান দুই যুবক। 

তাদের সঙ্গে ইউনুস এগিয়ে যেতে থাকেন এক গলি ধরে। কিন্তু হৃদিতার দেখা আর মেলে না। ততক্ষণে ইউনুস বুঝলো হৃদিতা নামে কেউ নেই; অবশ্য পেছনে ফেরারও আর কোন উপায় নেই! দুই যুবক ইউনুসকে নিয়ে যান এক লেপ তোষকের গোডাউনের সামনে।

ওই গোডাউনের আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন আরও দুই যুবক। পরে সকলে মিলে ইউনুসকে গোডাউনে আটকিয়ে তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, দামি ঘড়ি ও নগদ টাকা ছিনিয়ে মুক্তিপণের জন্যে ফোন দেয়া হয় ইউনুসের বন্ধুকে।

ফোন পেয়েই বিপদ বুঝে বন্ধু সরাসরি ওয়ারী থানা পুলিশের সহায়তা চায়। সংবাদ পেয়ে ওয়ারী থানার একটি টিম দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তামিম, আদনান ও জিসানসহ চক্রের অন্যদের গ্রেপ্তার ও ভিকটিমকে উদ্ধার করে।  

ওয়ারি থানা পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত আদনান আগেও এরকম ১২-১৪টি সোশ্যাল মিডিয়ায় অনলাইনে প্রেমের ফাঁদ পেতে প্রতারণার মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে জিম্মি ও সর্বস্ব লুটের ঘটনা ঘটিয়েছে। সঙ্গী জয়কে নিয়ে ইতোপূর্বে আদনান নিজের বাড়ির খোলা ছাদে সমস্ত ঘটনা ঘটিয়েছে। সেসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা হয়তো লোকলজ্জার ভয়ে পুলিশের কাছে কোন অভিযোগ করেননি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় চক্রান্তের এই চক্রকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাংলাদেশ জার্নাল/সুজন/এমএস