ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৮ জুন ২০২৩, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০ আপডেট : ২০ মিনিট আগে
শিরোনাম

রমজান ও ঈদ ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তায় র‌্যাব-পুলিশ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৩, ২১:১৯

রমজান ও ঈদ ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তায় র‌্যাব-পুলিশ
প্রতীকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক

রমজান ও ঈদ সামনে রেখে ইতোমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেটগুলোতে বেড়েছে জনসমাগম। নগরবাসী ঈদ উৎসবের কেনাকাটায় ব্যস্ত। নগরবাসীর চলাচল ও কেনাকাটা নির্বিঘ্নে করতে পারে সেজন্য সমগ্র রাজধানীর নিরাপত্তায় কাজ করছে র‌্যাব-পুলিশ সদস্যরা।

মোবাইল, মোটরসাইকেল ও টাকা চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধ ঠেকাতে রমজান শুরুর আগে থেকেই বিশেষ তৎপরতা শুরু করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও র‌্যাব। চলবে ঈদ পর্যন্ত।

বিশেষ করে রাজধানীর বিভিন্ন শপিং মল ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে ওঁৎ পেতে থাকা পকেটমার ও ছিনতাইকরীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে রমজানের শুরু থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর সব কয়টি থানা পুলিশকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, সদরঘাট, শপিংমলসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল রাখা হচ্ছে। রাজধানীর প্রবেশ ও বহির্গমন পথেও থাকছে পুলিশের চেকপোস্ট। ঈদের কেনাকাটা করতে যাওয়া জনসাধারণ ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীর নিরাপত্তায়ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি করছে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানী জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে র‌্যাবের প্রতিটি ব্যাটালিয়ন কাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নগরবাসীর নিরাপত্তায় কাজ করবে ডিএমপির ৫০টি থানা। এছাড়া অজ্ঞান ও মলম পার্টি, ছোঁ মারা পার্টি, বিভিন্ন সড়কে ও মোড়ে মোড়ে কিংবা বিভিন্ন শপিং মলে ইভটিজারদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে নিয়োজিত থাকবে সাদা পোশাকের পুলিশ। শপিং মলে আসা নারী ক্রেতা এবং বিভিন্ন শপিংমলে কর্মরত নারী বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় দায়িত্বে থাকবেন নারী পুলিশের সদস্যরাও। রয়েছে মোটরসাইকেলে থাকা টহল টিমও।

রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমল বা মার্কেটগুলোতেও সন্দেহভাজনদের তল্লাশি যেমন চালানো হচ্ছে, সড়কেও বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি। মানুষ যাতে যাতায়াত এবং কেনাকাটা শেষে নির্বিঘ্নে ঘরে ফিরতে পারে, সে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

রমজান শুরুর আগেই বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও গণপরিবহন মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে থানা পুলিশ ও ডিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগ।

রাজধানীর নিরাপত্তার বিষয়ে ডিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে নগরীর নিরাপত্তায় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। চুরি, ছিনতাই, পকেটমার, মলমপার্টি, অজ্ঞানপার্টির হাত থেকে রাজধানীবাসীকে রক্ষা করতে বিশেষ অভিযান চলছে। ডিএমপি’র বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা মার্কেট ও শপিংমলে নিরাপত্তা দেয়া এবং যানজট নিরসনে শুরু থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন।

যানজট কমাতে ডিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের ১৫ নির্দেশনা

নগরবাসীরা যেন রমজান মাসে রাজধানীতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সেজন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে ১৫টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সেগুলো হলো-

ঢাকা মহানগরীতে দূরপাল্লার ও আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের অভ্যন্তরে কোন বাসই সড়কে বাস রেখে বা থামিয়ে যাত্রী ওঠাবে না। যাত্রীরা টার্মিনালের ভিতরে থাকা অবস্থায় বাসের আসন গ্রহণ করতে পারেন। সংশ্লিষ্ঠ বাসের প্রতিনিধিদের এ বিষয়টি খেয়াল রাখা।

ঢাকা মহানগরীতে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাসগুলো টার্মিনাল সংলগ্ন প্রধান সড়কের অংশ দখল করে না দাঁড়ানো।

ভ্রমণকালে ঢাকা মহানগরের প্রবেশ ও বাহির পথের গণপরিবহনগুলো শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে যেন কোন অযাচিত যানজটের সৃষ্টি না হয়।

ঢাকা মহানগরী থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার যানবাহনগুলোকে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন থেকে নিবৃত থাকা।

আন্তঃজেলা পরিবহনের যাত্রীরা বা গমন প্রত্যাশীদের প্রধান সড়কে এসে অপেক্ষা বা দাঁড়িয়ে না থেকে টার্মিনালের ভিতরে অবস্থান করা।

ঢাকা মহানগরী থেকে দূরপাল্লার রুটপারমিটবিহীন বা অননুমোদিত রুটে কোন বাস চলাচল না করা। বাসের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে এ বিষয়টি কঠোরভাবে মেনে চলা এবং কর্তৃপক্ষকে সহায়তা কর।

বাসের ভিতর যাত্রীদের অপরিচিত কারও কাছ থেকে কিছু না খাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা অবশ্যই যানবাহনে টিকিট বহন করবেন।

যাত্রীদের মালামাল নিজ হেফাজতে সাবধানে রাখা।

কোন যানবাহনেই ছাদের উপর অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা।

যাত্রী তোলার ক্ষেত্রে বাসের চালকদের এমন কোনো অসম প্রতিযোগীতায় অংশ না নেয়া, যেন সড়কের শৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটে ও জীবনহানীর সম্ভবনা থাকে।

সকালে অফিসে যাতায়াতকারী প্রত্যেককে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে বাসা থেকে রওনা হওয়া।

ইফতার সন্নিকটে বাসায় রওনা না দিয়ে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া।

স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের ক্ষেত্রে রিকশা, সিএনজি ও বাস ইত্যাদি বাহন ব্যবহার না করে পায়ে হেটে চলাচল করা।

টার্মিনাল ভিত্তিক কাউন্টারগুলোতে ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন করা।

বাংলাদেশ জার্নাল/সুজন/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত