ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

বিচার চাই‌লেন উত্তরায় গার্ডারচাপায় নিহত আইয়ু‌বের স্ত্রী

  নিজস্ব প্রতি‌বেদক

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২২, ১৭:০৬

বিচার চাই‌লেন উত্তরায় গার্ডারচাপায় নিহত আইয়ু‌বের স্ত্রী
নিজস্ব প্রতি‌বেদক

রাজধানীর উত্তরায় বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের উড়ালসড়কের গার্ডারের চাপায় নিহতদের মর‌দেহ বু‌ঝে পে‌তে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে অপেক্ষা কর‌ছি‌লেন স্বজনেরা। এসময় অনেককেই কান্নাকাটি করছি‌লেন।

মঙ্গলবার দুপু‌রে মর্গের সামনে বসে আহাজারি করা নিহত আইয়ুব আলীর স্ত্রী রেহেনা আক্তার বলেন, আমি বিচার চাই। স্বামী হত্যার বিচার চাই। বিচার ছাড়া তো আর কিছু চাওয়ার নেই। আমি চাই, আমার মতো এমন ঘটনা যেন আর কারও জীবনে না ঘটে।

এসময় মর্গের সামনে রুবেলের স্ত্রীর সংখ্যা নিয়ে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। চার নারী নিজেকে রুবেলের স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছেন। তাদের মধ্যে প্রথম স্ত্রী রেহানার সঙ্গে বিয়ে হয় ৩০ বছর আগে। সেই ঘরের প্রথম ছেলে সন্তান হৃদয় সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরেন।

রেহানার বোনজামাই ও রুবেলের ভায়রাভাই রহমত বলেন, আমরা শরিয়তপুরে থাকি। রুবেল বায়িং হাউজের ব্যবসা করতেন বলে জানতাম। আমরা তেমন একটা ঢাকায় আসতাম না। মৃত্যুর খবর শুনে আসলাম। শুনেছিলাম সে দ্বিতীয় আরেকটা বিয়ে করেছেন।

রুবেলের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম জানা যায় শাহেদা। তার ঘরে রত্না নামে ১৪ বছরের একটি মেয়ে আছে। তার বাড়ি মানিকগঞ্জ সিংগাইর এলাকায়। ঢাকায় উত্তরা থাকেন। ত‌বে শাহেদা নিজেকে প্রথম স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দি‌য়ে ব‌লেন, আমার সঙ্গে ১৯৯৯ সালে বিয়ে হয়েছে। আমিই প্রথম। আমাকে সে কখনো বলেনি তার আরেকজন স্ত্রী আছে। রুবেলের তৃতীয় স্ত্রী দাবিদার আরেক নারী সালমা আক্তার পুতুল ব‌লেন, মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় থাকেন তিনি। ঘরে বসে সেলাই মেশিনের কাজ করেন। ২০১৪ সালে রুবেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। রুবেলের সম্পর্কে তিনি জানতেন সে একজন ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ী। তবে রুবেলের সঙ্গে কোনো বিয়ের কোনো সনদ নেই তার।

পুতুল বলেন, আমাকে বিয়ে করেছে মিথ্যা কথা বলে। আমি জানতাম তার স্ত্রী আছে মাত্র একজন। প্রথম ঘরের স্ত্রী অসুস্থ বলে আমাকে বিয়ে করেছে। কিন্তু বিয়ের পর দেখি আরও অনেকের সঙ্গেই তার সম্পর্ক আছে। পাতা খন্দকার নামে তার আরেক জন স্ত্রী আছে। তার সঙ্গে কথা বললে আমাকে বলতো মামাতো বোনের সঙ্গে কথা বলছি। পরে আমি প্রতারণার মামলা করি। মামলা আমার পক্ষেও আছে। এমনটাই দাবি তার।

প‌রে পাতা খন্দকার বলেন, আমার সঙ্গে বিয়ে হয়েছে অনেক দিন আগে। তবে কবে হয়েছে স্পষ্ট বলেননি তিনি। তিনি নি‌জে‌কে দ্বিতীয় স্ত্রী হি‌সে‌বে দা‌বি ক‌রেন। পাতা খন্দকারের দাবি, তিনি এ পর্যন্ত রুবেলের পেছনে অনেক টাকা খরচ করেছেন। যে গাড়িটি চাপা পড়ে দুমড়েমুচড়ে গেছে, সেটিও কেনার সময় ৬ লাখ টাকা দিয়েছিলেন রুবেলকে। মারা যাওয়ার আগেও তার বাসায় গিয়ে ছিলেন রুবেল। তার সঙ্গে সবারই ভালো সম্পর্ক। প্রথম স্ত্রীর বাড়িতেও তিনি যাতায়াত করতেন বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে প্রথম স্ত্রীর ছেলে সন্তান বেঁচে যাওয়া হৃদয় বলেন, তার জন্ম ১৯৯৫ সালে। অন্যদিকে শাহেদার সঙ্গে বিয়ে হয় ১৯৯৯ সালে। কিন্তু শাহেদা আরেক স্ত্রী আছে জানতেন না বলেই নিজেকে প্রথম স্ত্রী দাবি করেন তিনি।

অপর‌দি‌কে নিহত পাঁচ আরোহীর ময়নাতদন্ত মঙ্গলবার বেলা পৌনে একটার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে সম্পন্ন হ‌য়ে‌ছে।

ময়নাতদন্ত শে‌ষে ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক নাসেদ জামিল বলেন, নিহত ব্যক্তিদের বিষয়ে সুরতহাল প্রতিবেদনে যা লেখা আছে, আমরা ময়নাতদন্তে তাই পেয়েছি, ব্যতিক্রম কিছু নয়। নিহত প্রত্যেকের একাধিক পর্যবেক্ষণ (মাল্টিপল ফাইন্ডিংস) রয়েছে। প্রতিটির আলাদা করে বর্ণনা (ডেস্ক্রাইব) দেওয়া সম্ভব নয়। সুরতহাল প্রতিবেদনে যেভাবে বর্ণনা করা আছে, হুবহু আমরা তা–ই পেয়েছি।

মর‌দেহ কখন হস্তান্তরের বিষ‌য়ে চিকিৎসক বলেন, ‘আমাদের কাজ শেষ। এখন পুলিশ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত