ঢাকা, শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ আপডেট : ১২ মিনিট আগে

আবরার হত্যা

‘বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী’ অনলাইন ক্লাসে, বুয়েটে প্রতিবাদের ঝড়

  ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২১, ১৮:৫০  
আপডেট :
 ২৭ মে ২০২১, ১৯:০২

‘বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী’ অনলাইন ক্লাসে, বুয়েটে প্রতিবাদের ঝড়
ছবি- প্রতিনিধি
ঢাবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ প্রোকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আশিকুল ইসলাম বিটুর অনলাইন ক্লাসে যোগদানের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রেসিডেন্স এন্ড ডিসিপ্লিন উক্ত ঘটনায় অভিযুক্ত ২৬ জনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য (স্থায়ীভাবে) বহিষ্কার করে, যার মধ্যে একজন আশিকুল ইসলাম বিটু।

গত ২২ মে কেমিকৌশল ১৭ ব্যাচের একটি কোর্সের ক্লাসে তাকে উপস্থিত দেখা প্রতিবাদ জানয় তার সহপাঠীরা। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা যায়।

এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে 'বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ' ব্যানারে এ মানববন্ধন করেন তারা। মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিয়ারিং ১৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আলী আম্মার মুয়ায।

আবরার হত্যার আসামির সাথে ক্লাস করতে অনিচ্ছুক সহপাঠীরা

লিখিত বক্তব্যে আলী আম্মার মুয়ায বলেন, আমরা জানতে পারি, গত ১০ ফেব্রুয়ারি আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত আশিকুল ইসলাম বিটু তার বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আদালত হতে স্থগিতাদেশ পায় এবং বুয়েটে তার একাডেমিক কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করে। ৪ এপ্রিল তারিখে বুয়েটে প্রশাসন আবেদনের সাপেক্ষে আশিকুল ইসলাম বিটুকে ক্লাস করার অনুমতি প্রদান করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল প্রদান ও বুয়েটের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার প্ল্যাটফর্ম মাইক্রোসফট টিমসের সংশ্লিষ্ট কোর্সগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে তাকে কেমিকৌশল ১৭ ব্যাচের সাথে লেভেল-৩ টার্ম-১ এর অন্তত ৪টি কোর্সে একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।

তিনি বলেন, এ ঘটনার প্রতিবাদে আমরা বুয়েটের সকল সাধারণ শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম বিটুর সাথে একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে কোনো শর্তেই ইচ্ছুক নই– এই মর্মে বুয়েট প্রশাসনের কাছে দাবি উত্থাপন করি। এছাড়া ২৯ মে তারিখের মধ্যে কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবিগুলো কার্যকর না করলে বুয়েটের সকল সাধারণ শিক্ষার্থী ৩০ মে থেকে একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে বাধ্য হবে বলে জানিয়ে দেয়া হয়। প্রশাসন দ্রুততম সময়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যে, আশিকুল ইসলাম বিটুর কোর্স রেজিস্ট্রেশন এখনো সম্পন্ন হয়নি, বিধায় সে ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারবে না এবং কোর্সগুলোতে তার অন্তর্ভুক্তি বাতিল করা হয়েছে। বুয়েট প্রশাসন আমাদের এই মর্মে আশ্বাস দিয়েছে যে, অবিলম্বে আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। আমাদের ন্যায্য দাবির ভিত্তিতে বুয়েট প্রশাসনের এই তৎপরতাকে আমরা সাধুবাদ জানাই।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত