ঢাকা, রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯ আপডেট : ১৪ মিনিট আগে

সস্তা দামে সরঞ্জামাদি বিক্রি, শোকজ ইবির চার কর্মকর্তা

  ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৪ মে ২০২২, ২৩:৪৭

সস্তা দামে সরঞ্জামাদি বিক্রি, শোকজ ইবির চার কর্মকর্তা
ইবি প্রতিনিধি

কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই সস্তা দামে পুরোনো সরঞ্জামাদি বিক্রির অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) চার কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন এস্টেট অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান টিপু সুলতান এবং তার তিন সহযোগী বকুল হোসেন, উকিল উদ্দীন ও নাজমুল হোসেন সাবু।

শনিবার (১৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মু. আতাউর রহমান এ শোকজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অবস্থিত পুরাতন জিনিসের স্টোর রুম থেকে গত ২৬ ও ২৭ এপ্রিল ৫০ টাকা দরে ৪৩টি কম্পিউটারের পুরনো মনিটর বিক্রি করেছে এস্টেট দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান টিপু সুলতান ও তার সহযোগীরা। এছাড়াও ৪১ টাকা কেজি দরে ৪৩টি সিপিইউ, একটি পুরাতন টাইপিং মেশিন, প্রিন্টার, তিনটি ফটোকপি মেশিন, একটি পুরনো এসি, ২৩ কেজি ওজনের ৬টি লোহার পাইপ, প্রায় সাড়ে চারশ কেজি পুরনো কাগজ বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। জিনিসগুলো প্রায় ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে। এসময় দপ্তরটির সহকারী রেজিস্ট্রার বকুল হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাজমুল হোসাইন সাবু, কর্মকর্তা সমিতির সদস্য উকিল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিলাম কমিটির এস্টেট দপ্তরের প্রতিনিধি উপ-রেজিস্ট্রার গোলাম মাহফুজ মঞ্জু বলেন, সরঞ্জাম গুলো প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ।

তিনি বলেন, স্টোর রুম থেকে যে কোন সরঞ্জাম বিক্রির আগে রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করে ভিসির অনুমতি নিতে হয়। ভিসি অনুমোদন দিলে নিলাম ও বিক্রয় কমিটির মাধ্যমে এগুলো বিক্রি হয়। কিন্তু এই জিনিস গুলো নিয়ম না মেনেই বিক্রি করা হয়েছে। ভাঙড়ির দরে সস্তা দামে বিক্রি করে গেট পাস দিয়ে বের করে দিয়েছে। টাকাও সমন্বয় করেনি।

এর আগেও টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা বেশি মূল্যে ক্রয় এবং অফিসের জিনিসপত্র ক্রয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রয়েছে। এছাড়া তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। তার সহযোগী সাবুর বিরুদ্ধে লেকের ধারে গাছ কাটার পর বিক্রয়কৃত খড়ির টাকা জমা না দেয়া এবং উকিলের বিরুদ্ধে অফিস ফাঁকি দেয়া, কর্মকর্তা হওয়ার পরও অন্যের নামে কোম্পানির নাম দেখিয়ে নিজে কাজের টেন্ডার নেয়া এবং কাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের কাছের হওয়ায় বারবার দুর্নীতি করেও টিপু সুলতান পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) আতাউর রহমান বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই টিপু সুলতান ও তার তিন সহযোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো জিনিসপত্র বিক্রয় করেন। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। টিপু সুলতান ও তার তিন সহযোগী-উকিল উদ্দিন, নাজমুল হোসাইন সাবু ও বকুল হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের বিনা অনুমতিতে জিনিসপত্র বিক্রয়ের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত