নাম্বার ওয়ানের চেয়ে ভালো অভিনেত্রী হওয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ: সাবিলা

প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

  ইমরুল নূর

বছর শেষে সাবিলা নূর

চলতি বছরটা সাবিলা নূরের পক্ষেই ছিলো। বছরের শুরু থেকেই বেশ কিছু কাজ দিয়ে আলোচনায় ছিলেন। শুধু তাই নয়, ছক ভেঙে নিজেকে তৈরি করেছেন ভিন্ন আঙ্গিকে। রোমান্টিক কিংবা ফানি চরিত্র থেকে বের হয়ে কাজ করেছেন নানামাত্রিক চরিত্রে। সেসব কাজের সুবাদে হয়েছেন প্রশংসিত এবং আলোচিত। এ বছর প্রচারে আসা ৩৮টি নাটকের মধ্যে ‘রক্ত’, ‘ষ্টোর রুম’, ‘তেজপাতা’, ‘পাশের বাসার ছেলেটা’, ‘রঙ্গিলা ফানুস’, ‘পারাপার’, ‘ভুলবশত’  ‘রুনু ভাই’, ‘ব্রেকিং নিউজ’ নাটকগুলোতে তিনি নিজেকে মেলে ধরেছেন নতুনভাবে। যার কারণে অন্যান্যবারের তুলনায় এ বছর বেশ আলোচনায় ছিলেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী।

সাবিলা নূর বলেন, ‘করোনা মহামারীর রেশ তো এ বছরও ছিলো। তারপরেও সুস্থ থেকে ভালোভাবে কাজ করতে পেরেছি এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পেরেছি, এরজন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা। আলহামদুলিল্লাহ, খুব ভালো একটা বছর ছিল আমার জন্য। যদি কাজের জায়গা থেকে বলি তাহলে বলবো, এ বছরটা আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। এছাড়া এ বছর প্রথমবারের মত একটি নাটকের (পারাপার) গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছি  এবং সেটাতে অভিনয়ও করেছি। এই সাহসটা করতে পেরেছি, দর্শকরা পছন্দও করেছেন।’

প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রাপ্তিটাই বেশি। দর্শকরা অনেক সময় বলছিলো যে, আমাকে একই ধরণের গল্প, চরিত্রে বেশি দেখা যাচ্ছে! সেই জায়গাটা থেকে বের হবার মত সাহস করতে পেরেছি এ বছর। ভিন্ন ভিন্ন গল্প ও চরিত্রে কাজ করতে পেরেছি এবং সেগুলো বেশ দর্শক প্রশংসিতও হয়েছে। সেদিক থেকে নিজেকে খোলস থেকে বের করতে পেরেছি। ‘এমন যদি হতো’, ‘রক্ত’, ‘রঙ্গিলা ফানুস’ ‘ব্রেকিং নিউজ’ কাজগুলোতে নিজেকে ভাঙতে পেরেছি। এই কাজগুলো আমাকে দর্শকের নানারকম পজেটিভ ক্রিটিসিজম দিয়েছে। কাজের জায়গা থেকে অনেক কিছু পেয়েছি, বিভিন্ন চরিত্র করার সুযোগ পেয়েছি। তাই বলবো, আমার প্রাপ্তিটাই বেশি।

অপ্রাপ্তি বলতে তেমন কিছু নেই। তবে এই বছরটাতে আমার পরিবারকে অনেক কম সময় দেওয়া হয়েছে। কাজের জন্য পরিবারকে খুব একটা সময় দিতে পারিনি। নতুন বছরে চাইবো কাজ এবং পরিবারকে যেন ব্যালেন্স করে চলতে পারি। এরজন্য কাজ কম করবো নাকি বেশি করবো সেই হিসেবে যেতে চাই না। আমি আসলে সংখ্যাতে বিশ্বাসী না। অনেক সময় অনেকে আমার ফোন বন্ধ পান। একটু ফ্রি সময় পেলে ওই সময়টাতে আমি ঘুমাই। কাজ কাজের জায়গায় থাকবে আর চেষ্টা করবো এর মাঝের ফ্রি সময়টা পরিবারকে দেওয়ার।’

এই বছরটতে নতুন করে কিছু উপলব্ধি করতে পেরেছেন কি? এমন প্রশ্নে সাবিলার উত্তর, ‘হ্যাঁ, কাজের জায়গা থেকে পেরেছি। এমনিতে আমার কনফিডেন্স খুবই কম। যার কারণে অনেক সময় সাহস করে কিছু বলতে বা করতে পারি না। আমি সেই সাহসটা পাই না কারও সাথে গল্পগুলো শেয়ার করার। আমার মনে হয়, যদি কারও কাছে ভালো না লাগে। এর আগে আপনার (প্রতিবেদক) সাথে শেয়ার করেছিলাম যে, আমার মাথায় অনেক গল্প ঘোরে বিভিন্ন সময়, সেগুলো এক্সপ্লোর করতে চাই। এবার সাহস করে বলতে পেরেছিলাম যার কারণে ‘পারাপার’ কাজটা করতে পেরেছি। এটা আমার জন্য খুবই দারুণ একটা অভিজ্ঞতা। এই কাজটার মাধ্যমে আমার সেই ভয়টা ভেঙে গেছে। এটাই উপলব্ধি করলাম যে, এবার সাহস করে আরও কিছু গল্প বলার চেষ্টা করবো এবং ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে এক্সপ্লোর করবো। আগে গ্রামের চরিত্র করতে খুব ভয় পেতাম, নিজেকে ভেঙে কাজ করার ক্ষেত্রেও সেইম। সেই ভয়ে এরকম চরিত্রগুলো করা হতো না। শুধু শহরের চরিত্রই করা হতো বেশি। আমার মনে হতো, দর্শকরা মনে হয় পছন্দ করবে না। কিন্তু এবার সেই ধারণাটা ভেঙে গেলো। ভালো কিছু করতে হলে কিছু সময় ঝুঁকি নিতেই হয়, সাহসের সঙ্গে এখন থেকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে রূপদান দেওয়ার চেষ্টা করবো।’ 

নাম্বার ওয়ান নাকি ভার্সেটাইল অভিনেত্রী, কোনটা হওয়ার ইচ্ছে ? অভিনেত্রীর স্পষ্ট জবাব, ‘আমাকে নাম্বার ওয়ান হতে হবে, এই থিওরীতেই আমি কখনও যাই নি। আমার কাছে মনে হয়, আজকে আমি নাম্বার ওয়ান হলে কালকে হয়তো অন্য কেউ হবে। সময় বদলায়, অনেক কিছুই বদলায়। সারাজীবন কিন্তু একটা পজিশনে থাকা যায় না। আমার কাছে মনে হয়, একটা ভালো কাজ একজন শিল্পীকে দর্শকের কাছে সারাজীবন মনে রাখাতে পারে। আমি যদি একটা ভিন্ন কিংবা ভালো কাজ উপহার দিতে পারি তাহলে নাম্বার ওয়ান না হলেও একজন ভালো অভিনেত্রী হিসেবে দর্শক আমাকে সারাজীবন মনে রাখতে পারে। আর আমি সেটাই করতে চাই। এবছর চেষ্টা করেছি ভালো কিছু কাজ করার। নতুন বছরে এর চেয়েও ভালো কিছু করার চেষ্টা থাকবে।’

‘নতুন বছরের পরিকল্পনা সেভাবে করিনি এখনও। কিছুদিন একটু আরাম করে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চাই। এরপর দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে কাজ শুরু করবো। ভালোবাসা দিবসের জন্য বেশ কিছু কাজ করবো। চেষ্টা করবো আরও ভালো স্ক্রিপ্টে কাজ করার, ম্যাচিউরড চরিত্র করার, নিজেকে আরও এক্সপ্লোর করার।’

চলতি বছরে প্রচারে আসা সাবিলা নূরের নাটকের তালিকার মধ্যে রয়েছে- স্টোর রুম, রোড ট্রিপ, আগডুম বাগডুম, এমন যদি হতো, তেজপাতা, পাশের বাসার ছেলেটা, দেবদাস ২.০, মেডেল, পান্তা ভাতে ঘি, রঙ্গিলা ফানুস, বড্ডু নাটুকে, প্রেমে পড়ে প্রেমিক, তোমার হাতটি ধরে, অদ্ভুত, পারাপার, মোক্ষ, শার্লক হোমস ইন লাভ, বিয়ে বিড়ম্বনা, রক্ত, গল্পটা তোমার আমার, ফিজিক্স ক্যামিস্ট্রি ম্যাথ, রুনু ভাই, ভুলবশত, আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে, ভালোবাসার বটি কাবাব, প্রিয় আদনান, বেলা বয়ে যায়, টিপু সুলতানা, কাভার পেজ, পল্লব ভাই এক কাপ চা খাইবার চাইছিলো, সদা সত্য কথা বলিবো, ব্রেকিং নিউজ, সুগার ফ্রি, শুক্রবার, মোবাইল সোয়াপ, দ্য ডিরেক্টর ও তুমি আমার নও ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য, শৈশবে নাচের প্রতি খুব আসক্তি ছিলো সাবিলা নূরের। বুলবুল ললিতকলা একাডেমি থেকে নাচ শিখে প্রথম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময়েই পদ্ম কুঁড়ি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন তিনি। এরপর ২০১৪ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে পা রাখেন। এরপর গ্রামীণ ফোন, নেসকেফে বিজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পান। একই বছরে তার অভিনীত প্রথম নাটক ‘ইউ টার্ন’ দিয়ে দর্শক সাড়া পেতে থাকেন। এরপর ২০১৫ সালে ‘শত ডানার প্রজাপতি’ নাটক দিয়ে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি।

বাংলাদেশ জার্নাল/আইএন