ঢাকা, শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

‘শুধু একটা দৃশ্যের লুকের জন্য ৩০ দিন অন্য কোন কাজ করিনি’

  ইমরুল নূর

প্রকাশ : ০১ মে ২০২২, ১৫:১৭  
আপডেট :
 ০১ মে ২০২২, ১৫:৫০

ঈদ উৎসবে জোভানের ২৩ নাটক
ইমরুল নূর

এবার ঈদে ২৩ টির মতো নাটক নিয়ে পর্দায় হাজির হয়েছেন ছোট পর্দার তরুণ জনপ্রিয় অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান। সংখ্যা গুণে নয়, চেষ্টা করেছেন ভিন্নতা রেখে এবং মানসম্মত কিছু কাজ করার। তবে ২৩ টি কাজের মধ্যে শুধু ১৭ টি নাটকের কাজ করেছেন ঈদের আগে আর বাকি ৬ টি কাজই ছিলো গেল ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে করা। সেসময় মুক্তি না পাওয়া কাজগুলো এবার ঈদে প্রচারের তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ফারহান আহমেদ জোভান বলেন, আসলে আমরা তো সংখ্যায় হিসেব করে কাজ করি না কখনও, এমন চিন্তা কখনোই মাথায় আসে না। দেখা যায় যে গল্পগুলো শুনে ভালো লাগে শুধু সেগুলো করার চেষ্টা করি। আগের চেয়ে এখন কাজ বাছাইয়ে অনেক সচেতন হয়েছি। সংখ্যাটা জানতে পারি ভক্তরা যখন কাজগুলোর লিস্ট করে ফ্যানগ্রুপে পোস্ট করে তখন।

আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে হাজারেরও বেশি পরিচালক রয়েছেন, তাদের মধ্য থেকে যদি দুইশো জনও আমার সঙ্গে কাজ করতে চান, সেখান থেকে ফিল্টার করে বা চুজ করে হয়তো বিশজন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করতে হয়। সবার সঙ্গে কাজ করা তো আসলে কখনোই সম্ভব হয়ে উঠে না। এতজনের মধ্য থেকে চুজ করাটা আমার জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। আমি সময় নেই, যখন অবসর থাকি চেষ্টা করি কাজগুলোকে ফিল্টার করার, গল্পগুলো পড়ার। তারপর দেখা যায় প্রায় দুই থেকে তিনশো এর মত গল্প পাই সেখান থেকে যাচাই বাছাই করে হয়তো ২০/২৫ টা গল্পে কাজ করতে পারি। এতগুলো গল্প পড়া বা শোনাও কিন্ত অনেক সময়ের ব্যাপার। যখন অনেক গল্প জমা পড়ে যায় তখন আমার দুইটা বন্ধু আছে লিংকন ও আরাফ, আমাকে ভীষণ সহযোগিতা করে। তারা আমাকে গল্পগুলো পড়ে শোনায় তারপর সেখান থেকে যেটা ভালো লাগে সেটা চূড়ান্ত করি তারপর পরিচালকদের বলি যে, চলেন, বসি; গল্পটা নিয়ে কাজ করি।

এবারের কাজগুলো নিয়ে প্রত্যাশা কেমন? 'বেস্ট ফ্রেন্ড' খ্যাত এ তারকা বলেন, যেহেতু চেষ্টা করেছি সবগুলো কাজই বেছে করার তাই সবগুলো নিয়েই আমি আশাবাদী। তবে প্রবীর চৌধুরী রায় দাদার কাজটা (লাভ ভার্সেস ক্রাশ ২) নিয়ে আমার প্রত্যাশা একটু বেশিই। কারণ উনি সবসময় একটু ভিন্ন ধরণের কাজ করতে পছন্দ করেন। উনার কাজগুলোতে দৃশ্যায়ন, সম্পাদনা, সংগীত এসব বিষয়গুলোতে একটু ভালো কিছু করার।

আমরা এটার জন্য পাঁচদিন শুটিং করেছি এরপর দুইদিন প্যাচওয়ার্ক করেছি, মোট সাতদিন কাজ করেছি। সিলেটের টাঙুয়ার হাউড়ে একদিন শুটিং করেছি। ওখানে কোন দৃশ্য ছিলো না, শুধু কিছু শট নিয়েছেন উনি চমৎকার করে। এরপর ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে কাজ করেছি।

এ কাজটির কিছু দৃশ্যে আমার লুকের জন্য আমাকে এক মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে, লুকে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে। এরজন্য এক মাস কোন কাজ করিনি আমি, বাসায় ছিলাম। গল্পের ডিমান্ড ছিলো এরকম যে, ছেলেটি ৪০ দিন লুকিয়ে থাকে, এরপর তার মধ্যে কিছু পরিবর্তন আসে। এত অল্প সময়ে তো আসলে সম্ভব না তারপরও ত্রিশ দিন পর মোটামুটি লুকটা এসেছে এরপর শুট শুরু করি সিলেটে। এরপর আবার লুক পরিবর্তন করে ঢাকায় শুট করি। এটার মধ্য দিয়ে মেহজাবীনের সঙ্গে ১ বছর পর কাজ করা হয়েছে আমার।

এই কাজটি ছাড়া মহিদুল মহিমের 'লাভ ট্রিপ' নাটকটা নিয়েও অনেক আশাবাদী। গল্পটা সুন্দর এবং কাজও বেশ ভালো হয়েছে। আমরা চারদিন শুটিং করেছি। তিনদিন চট্টগ্রামে শুট করেছি ট্রেনের মধ্যে এরপর একদিন করেছি সিলেটে। এরপর মাহমুদুর রহমান হিমির পরিচালনা ও সাফা কবিরের গল্পে 'টাচ' নাটকে কাজ করেছি। এ গল্পটাও বেশ সুন্দর, প্রেমের গল্প। এ কাজটা করেও ভালো লেগেছে। এরপর জাকারিয়া সৌখিনের 'চমন বাহার', মিফতাহ আনানের 'এক জনমে'-তে কাজ করেছি, একটু অন্যরকম গল্প, বেশ সুন্দর। তারপর আরেকটি গল্পে কাজ করেছি যেটার নাম 'শেষ বিকেল', হাসান রেজাউলের। ওই কাজটাও একটু ভিন্ন আমার জন্য, শহুরে গল্পের বাইরে গিয়ে অন্যরকম একটা চরিত্র। রাফাত মজুমদার রিংকুর একটা কাজ করেছি 'প্রশ্রয়', এটা একটু অফট্র্যাকের গল্প। গত ভালোবাসা দিবসের জন্য সাগর জাহানের 'নিঃশ্বাসে বিষ' করেছি, যেখানে তিশা, আমি আর একটা লাশ নিয়ে পুরো গল্প; খুবই প্রিয় একটা কাজ আমার, আরেকটা প্রিয় কাজ হচ্ছে 'পুকুরে ভাসা সংসার', এখানে তিনটা চরিত্র, তিশা, আমি আর একটি ছাগল; ছাগলের নাম থাকে অভিমানী। এটাও খুব সুন্দর। সাগর জাহানের আরেকটা কাজ আছে 'মনোফোবিয়া' এটাও একটু অন্যরকম। এবার চেষ্টা করেছি সব ধরণের গল্পেই কাজ করতে, এখন বাকিটা দর্শক দেখার পরই বলতে পারবেন যে কেমন করেছি!

এই ঈদে প্রচার হতে যাওয়া জোভান অভিনীত ২৩ টি নাটকের মধ্যে রয়েছে- প্রবীর রায় চৌধুরীর 'লাভ ভার্সেস ক্রাশ ২' (মেহজাবীন চৌধুরী), অনন্য ইমনের 'গ্রেট গার্লফ্রেন্ড' (মেহজাবীন চৌধুরী), রাফাত মজুমদার রিংকুর 'প্রশ্রয়' (মেহজাবীন চৌধুরী), সাগর জাহানের দুটি 'মনোফোবিয়া' ও 'পুকুরে ভাসা সংসার (তানজিন তিশা), মহিদুল মহিমের 'লাভ ট্রিপ' (তানজিন তিশা), রাফাত মজুমদার রিংকুর 'পুষ্প শুনছো' (তানজিন তিশা), তুহিন হোসেনের 'টুনাটুনির রিসোর্ট' (তানজিন তিশা), রুবেল হাসানের 'হাফ বাড়িওয়ালা' (তানজিন তিশা), ওসমান মিরাজের 'বিয়ে পাশ' (তানজিন তিশা), সাগর জাহানের 'নিঃশ্বাসে বিষ' (তানজিন তিশা), মাবরুর রশীদ বান্নাহর 'লাভ ড্রাইভ' (সাফা কবির), মাহমুদুর রহমান হিমির 'টাচ' (সাফা কবির), হাসান রেজাউলের 'শেষ বিকেল' (সাফা কবির), মাবরুর রশীদ বান্নাহর 'তোমার পাশে হাঁটতে চাই' (তাসনিয়া ফারিণ), ইমরাউল রাফাতের 'ক্রাশের বিয়ে' (তাসনিয়া ফারিণ), মেহেদি হাসান জনির 'সাপোর্ট' (তাসনিয়া ফারিণ), মিতুল খানের 'ঘর শাশুড়ী' (তাসনিয়া ফারিণ), ওসমান মিরাজের 'মিশন ফেইল' (কেয়া পায়েল), মোহাম্মদ মিফতাহ আনানের 'এক জনমে' (কেয়া পায়েল), মারুফ হোসেন সজীবের 'ঘোড়ার ডিমের বিয়ে' (কেয়া পায়েল), জাকারিয়া সৌখিনের 'চমন বাহার' (কেয়া পায়েল), পনির খানের 'শেষ বিকেলের বৃষ্টি' (মুমতাহিনা টয়া) ইত্যাদি। এছাড়াও আরও তিনটি কাজ প্রচার হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা যায়।

বাংলাদেশ জার্নাল/আইএন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত