ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯ আপডেট : ১১ মিনিট আগে

‘বড় পর্দার জন্য যে চ্যালেঞ্জটা নিতে চেয়েছিলাম, এই ছবিতে তা পেয়েছি’

  ইমরুল নূর

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২২, ১৩:৪৯  
আপডেট :
 ০৭ মে ২০২২, ১৪:১৬

যা চেয়েছিলাম তার চেয়েও বেশি পেয়েছি, তাই আর না করিনি: ফারিণ
ইমরুল নূর

অল্প সময়ের ক্যারিয়ারেই বাজিমাত করেছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। শুরুর দিকে অভিনয় নিয়ে খুব বেশি সিরিয়াস না থাকলেও গেল দুয়েকবছর ধরে ভীষণ সিরিয়াস। নানামাত্রিক গল্পে ও চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক মন ভুলিয়েছেন, হয়েছেন তুমুল প্রশংসিত। বাজিমাত করেছেন ওয়েবেও, অভিষেকেই দুর্দান্ত সাফল্য তার। সব মাধ্যমে সফল পদচারণার পর অবশেষে নাম লেখালেন বড় পর্দায়।

বড় পর্দায় অভিনয়ের ইচ্ছে সবারই থাকে, ফারিণেরও ছিলো। এরমধ্যে অনেক প্রস্তাব পেলেও ব্যাটে-বলে মিলছিলো না। অবশেষে নিজের প্রথম সিনেমার জন্য যেমন ক্রাইটেরিয়া খুঁজছিলেন, তা পেয়ে গেলেন ফারিণ। আর তাই, হ্যাঁ বলে দিলেন। ফারিণের প্রথম সিনেমার নাম ‘আরও এক পৃথিবী’। এটি পরিচালনা করবেন কলকাতার নামকরা পরিচালক অতনু ঘোষ, যার সর্বশেষ ‘রবিবার’ সিনেমায় অভিনয় করে ভারতের ফিল্মফেয়ার পুরস্কার লাভ করেন জয়া আহসান।

গেল মাসে কলকাতা সফরে গিয়েছিলেন ফারিণ। তখনই সিনেমার বিষয়ে আলাপ এবং সবকিছু চূড়ান্ত করেন তিনি। তাসনিয়া ফারিণ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘আমার ‘লেডিস এন্ড জেন্টেলম্যান’ সিরিজটা অতনু দা দেখেছিলেন। এই কাজটা দেখার পর উনি আমাকে নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছিলেন। ওই সময়েই হয়তো উনি উনার নতুন সিনেমার কথা ভাবছিলেন এরপর এসকে মুভিজের কর্ণধারও এই সিরিজটি দেখেছিলেন। সেখানে আমার কাজ তাদের ভালো লেগেছে। এরপর অতনু দা’র কাস্টিং ডিরেক্টর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিচালক তার গল্পের জন্য যেমন নায়িকা খুঁজছিলেন, আমার মধ্যে তিনি সেটা পেয়েছেন বলেই জেনেছি। এরপর আমার সঙ্গে মার্চ মাসে কথা হয়, কলকাতা গিয়ে সিনেমাটি সম্পর্কে বিস্তারিত কথা বলি। তখনই সবকিছু চূড়ান্ত হয়। যেহেতু এটার শুটিং হবে লন্ডনে, ভিসা প্রসেসিংয়ের একটা ব্যাপার আছে; সেটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম আমরা। এখন সবকিছুই ঠিক আছে।’

এরমধ্যে সিনেমার জন্য অনেক প্রস্তাব পেয়েছেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজি হলেন। নিজের প্রথম সিনেমা হিসেবে এই ছবিটিকেই আপনার কেন বিশেষ মনে হলো? এমন প্রশ্নে ফারিণের উত্তর, ‘হ্যাঁ, এটা ঠিক; এর আগে অনেকগুলো সিনেমার প্রস্তাবই পেয়েছি কিন্তু কোথায় যেন ব্যাটে-বলে মেলেনি। কিন্তু এই ছবিটাকে সিলেক্ট করার কারণ হলো- সিনেমায় অভিনয়ের জন্য আমার যে ক্রাইটেরিয়াগুলো দরকার ছিলো তার সবগুলোই এখানে পেয়েছি, আমি বলবো তার চেয়েও বেশি পেয়েছি, যার কারণে কাজটি করতে রাজি হয়েছি। বড় পর্দার সিনেমার জন্য যেরকম চ্যালেঞ্জটা আমি নিতে চেয়েছিলাম, এই ছবিটাতে সেটা পেয়েছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, এটা বেশ ইন্টারেস্টিং এবং এটাই আমার প্রথম সিনেমা হতে পারে। আমি ভীষণ খুশি কাজটির জন্য এবং অত্যন্ত আনন্দিত যে অতনু দা কাজটির জন্য আমাকে সিলেক্ট করেছেন।’

সেই ক্রাইটেরিয়াগুলো কি ছিলো আসলে? ফারিণ বলেন, প্রথমত ছবির গল্প, চরিত্র তারপর পরিচালক, প্রোডাকশন হাউজ এবং দর্শক এক্সপোজার কতটুকু; এই বিষয়গুলো নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমি বড় পর্দার জন্য কাজ করতে সাহস পাচ্ছিলাম না। প্রথম সিনেমাটা আসলে অনেক কিছুই ম্যাটার করে, অনেকটা প্রথম সন্তানের মত। এরজন্য আমি আসলে পারফেক্ট কিছুর অপেক্ষা করছিলাম এতদিন। অবশেষে সবকিছু মিলে গেলো।

প্রথম সিনেমা, সেখানে গল্পের ‘প্রতীক্ষা’ চরিত্রের জন্য বিশেষ কি প্রস্ততি নিচ্ছেন? ফারিণ বলেন, ‘বলতে গেলে অনেকটুকুই প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। সিনেমাটি কলকাতার অর্থাৎ আমার দেশ-ই পরিবর্তন। দেশ পরিবর্তন মানেই সবই পরিবর্তন! আমার কথা-বার্তা, পোশাক, গেটাপ, লুক সবকিছুই পরিবর্তন করতে হচ্ছে। আমার ভাবনার জায়গায়ও পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। আমাকে অনেক কিছুই জানতে হচ্ছে কলকাতা ও ভারত সম্পর্কে, তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে। দুই দেশই একই ভাষাভাষীর হলেও কিছু কিছু বিষয়ে কিন্তু পার্থক্য আছেই।

আমি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা ডেমোগ্রাফিতে বড় হয়েছি। সেই জায়গা থেকে আরেকটা ডেমোগ্রাফি সম্পর্কে জানা এবং সেখানকার চিন্তাভাবনাগুলো নিজের মতো করে ধারণ করা খুব কঠিন একটি বিষয়। কিন্তু আমার টিমের সবাই ভীষণ হেল্পফুল, তারা সবাই আমাকে সহযোগীতা করছে এ বিষয়ে।’

কলকাতায় থাকার কারণে এবার ঈদের জন্য খুব বেশি নাটকে কাজ করা হয়নি। এখন সিনেমায় ব্যস্ত হলে নাটকে কোন প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন কি? তার সহজাত উত্তর, আমার এমনটা মনে হয় না। কারণ, কাজ না করেও এখন প্রতিদিন আমার ৩/৪টা করে নাটক রিলিজ হচ্ছে। দর্শক তো আমাকে দেখতে পাচ্ছেই। আমি হিসেব করে দেখলাম এই ঈদে খুব সম্ভবত ২২টির মত নাটক প্রচারে যাচ্ছে, এরমধ্যে ৬টি ঈদের আগে করা আর বাকিগুলো তারও অনেক আগে করা। আমার মনে হয় না যে দর্শক আমাকে খুব একটা মিস করবে। আর যেহেতু একটা লম্বা সময়ের জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছি এখনও বলতে পারছি না সামনে কোরবানি ঈদে কাজ কতটুকু করতে পারবো!

আগামী ২০ মে লন্ডনে শুরু হবে সিনেমাটির শুটিং। সেখানে টানা ১৮ দিন চলবে কাজ এরপর কলকাতায় ফিরে তিনদিন শুটিংয়ের পর ক্যামেরা ক্লোজ হবে। শুটিংয়ে অংশ নিতে ১৭ মে ঢাকা ছাড়বেন ফারিণ, ফিরবেন ২০ দিন পর। এখানে ফারিণ ছাড়া আরও অভিনয় করবেন কৌশিক গাঙ্গুলি, অনিন্দিতা বসু, সাহেব ভট্টাচার্য প্রমুখ।

এসকে মুভিজের প্রযোজনায় তৈরি এই চলচ্চিত্র বছরের শেষ দিকে কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। অতনু ঘোষ জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে ট্যামসেন কোর্টনের লেখা ‘ফোর ফিট আন্ডার’ নামের একটি বই পড়েছেন তিনি। এটি লন্ডনের রাস্তায় ৩০-৩৫ জন মাথার ওপর ছাদহীন মানুষের জীবনের গল্প। ‘আরও এক পৃথিবী’ সিনেমার সূত্র সেই বই।

বাংলাদেশ জার্নাল/আইএন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত