ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯ আপডেট : ২০ মিনিট আগে

‘অভিনয় ছাড়া হয়তো এক জীবনে এত অভিজ্ঞতা নেয়া সম্ভব হতো না’

  ইমরুল নূর

প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২২, ১৫:৪৫  
আপডেট :
 ১৩ জুন ২০২২, ১২:৩৩

‘অভিনয় ছাড়া হয়তো এক জীবনে এত অভিজ্ঞতা নেয়া সম্ভব হতো না’
অ্যাম্বুলেন্স চালকের চরিত্রে মেহজাবীন চৌধুরী; ছবি: আপন
ইমরুল নূর

গত ঈদের আগে শুটিংয়ে টানা ব্যস্ততা কাটিয়ে লম্বা একটা বিরতিতে ছিলেন মেহজাবীন চৌধুরী। বিরতির এই সময়টা একদম নিজের মত করেই কাটিয়েছেন। ছুটি শেষে ফিরেছেন কাজেও, তবে ৩৮ দিন পর। শনিবার (৪ জুন) আসছে ঈদের জন্য নির্মিতব্য একটি নাটকের শুটিংয়ের মধ্য দিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান ছোট পর্দার এ সুপারস্টার।

নাটকটির নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি। রেবেকা সুলতানা কেয়ার গল্পভাবনা এবং জাহান সুলতানার চিত্রনাট্যে এটি নির্মাণ করছেন অনন্য ইমন। নারীপ্রধান গল্পের এ নাটকটিতে মেহজাবীনকে দেখা যাবে ভিন্ন এক চরিত্রে, যা আগে কখনও করেননি তিনি। এমন গল্পের এই চরিত্রটি নিয়ে এর আগে কোন নাটক নির্মিত হয়নি। যার দরুণ ভিন্ন গল্প ও চরিত্রের লোভ সামলাতে না পেরে অভিনেত্রী এটা দিয়েই শুরু করলেন ঈদের কাজ।

মেহজাবীন চৌধুরী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘ঈদের আগে বেশ ভালো কাজের প্রেশার ছিলো যার কারণে ঈদের পর নিজের জন্য সবসময়ই চেষ্টা করি একটু সময় রাখার জন্য। এই সময়টা একদম নিজের মত করে উপভোগ করেছি, টার্কি, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ ঘুরেছি। দেশে ফেরার পরপরই হাতে অনেকগুলো স্ক্রিপ্ট পাই। গত দুই-তিন দিনে সেগুলো পড়ছি। তার মধ্যে এই নাটকটির গল্প এবং চরিত্র আমার কাছে একটু আলাদা এবং নতুন মনে হয়েছে, সেইসাথে চ্যালেঞ্জিং তো অবশ্যই। যার কারণে এটা দিয়েই কাজ শুরু করলাম।

একটু ভিন্ন এবং চ্যালেঞ্জিং কিছু করার জন্য আমি সবসময়ই মুখিয়ে থাকি। আমি চাই নাট্যকাররা, নির্মাতারা তাদের গল্পে, চিত্রনাট্যে এবং চরিত্রে আমাকে চ্যালেঞ্জিং কিছু দিক কিংবা আমার দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিক। তারপর দেখি আমি সেসব কতটুকু পূরণ করতে পারি।’

কাজে ফেরা প্রসঙ্গে ‘চিরকাল আজ’ খ্যাত এ অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি প্রতিবারই যখন ছুটি শেষে কাজে ফিরি তখন আমার নিজেকে নতুন নতুন মনে হয়, অনেকটা নার্ভাস লাগে। তাছাড়া এই গল্পের চরিত্রটাও আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং, যার কারণে আরও বেশি নার্ভাস লাগছিলো। সবকিছু মিলিয়ে পারবো কিনা বারবার সংশয় জেগেছিলো। তবে এখন স্বাভাবিকই লাগছে। সুন্দর করে কাজটি করার চেষ্টা করছি।’

নতুন এই নাটকটিতে নুসরাত চরিত্রে অভিনয় করেছেন মেহজাবীন, যিনি কিনা একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক। নিজে গাড়ি ড্রাইভ করলেও কখনও মাইক্রো বা অ্যাম্বুলেন্স চালানো হয়নি তার। এটা তার জন্য একদমই নতুন অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, ‘খুব নার্ভাস ছিলাম, এত বড় অ্যাম্বুলেন্স চালাতে পারবো কি না! কারণ, কার ড্রাইভ করলেও আগে কখনো মাইক্রো ড্রাইভ করিনি। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সের এক্সেলেটরে পা রাখার পর যেন নতুন এক নিজেকে আবিষ্কার করলাম আমি। অভিনয় পেশার কারণে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরণের চরিত্র করার সুযোগ হয় এবং সে পেশাগুলো সম্পর্কে নতুন করে জানা এবং এক নতুন অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়। যদি অভিনয় না করতাম তাহলে হয়তো কখনও এক জীবনে এত ধরণের অভিজ্ঞতা নেওয়া সম্ভব হতো না।’

গত ঈদে প্রচারিত হওয়া নাটকগুলো থেকে সাড়া প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, ‘ঈদের জন্য তো খুব বেশি কাজ করতে পারিনি। তারপরও যে কয়েকটা নাটক প্রচারে এসেছে তার অনেকগুলো থেকেই ভালো সাড়া পেয়েছি। দর্শকদের ভালো ভালো মন্তব্য পেয়েছি। আর একটা বিষয় খেয়াল করলাম অনেক নির্মাতারাই এবার গল্প এবং মানের দিকেই বেশি নজর দিয়েছেন, যেটা খুবই ভালো দিক। অনেক ভালো ভালো কাজ হয়েছে। এভাবে যদি সবাই মানের দিকে গুরুত্ব দেয় তাহলে টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি সামনে অনেক কিছুই বয়ে আনবে।’

আসছে ঈদের জন্য বিশেষ কোন পরিকল্পনা করেছেন কি না, এমন প্রশ্নে এই মেহজাবীনের উত্তর, ‘পরিকল্পনা করে আসলে কিছু হয় না, যা হবার এমনিতেই হয়। গত ঈদের আগেও কিন্তু তেমনভাবে কোন পরিকল্পনা করিনি, কাজের জন্য খুব বেশি সময়ও পাইনি। তারপরও যতটুকু সম্ভব কাজ করেছি, দর্শকরা কাজ দেখে পজেটিভ ফিডব্যাক দিয়েছেন।

এবারও তেমন কোন পরিকল্পনা নেই বললেই চলে। স্ক্রিপ্ট আসছে সেগুলো পড়ছি, যেগুলো ভিন্ন এবং নতুন সেগুলো নিয়ে কথা বলছি। কিছু ডেইট দিয়েছি আর কিছু কাজ নিয়ে কথাবার্তা চলছে। সামনে বিজ্ঞাপনের শুট আছে, আরও বেশকিছু কাজ আছে। দেখা যাক, কি হয়। সময়ই বলে দেবে সবকিছু।’

ঈদের ছুটিতে দেশের বাইরে ঘুরে বেড়ানোর সময় নিজের একটি স্বপ্ন পূরণ করেছেন মেহজাবীন। আমেরিকান গায়িকা টেলর সুইফটের ‘ওয়াইল্ডেস্ট ড্রিম’ গানের একটি দৃশ্যের আদলে তুরস্কে একটি ভিডিওতে অংশ নিয়েছেন তিনি। এটি নির্মাণ করেছেন তুর্কি আলোকচিত্রী সাবান সিফজিবাসসা।

বাংলাদেশ জার্নাল/আইএন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত