টেলিভিশন সব ধরণের কন্টেন্ট দেখানোর জায়গা না: মনোজ

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২২, ১৭:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

  ইমরুল নূর

শিক্ষকতা পেশার বাইরেও মনোজ প্রামাণিক এখন টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির একজন ব্যস্ত অভিনেতা। নিজেকে শুধু নাটকেই আবদ্ধ রাখেন নি, নিজেকে মেলে ধরেছেন ওয়েব কিংবা সিনেমাতেও। সব অঙ্গনেই নিজের অভিনয়শৈলীর জানান দিয়েছেন, হয়েছেন প্রশংসিতও। আসছে ঈদকে ঘিরে এখনও শুটিং করে চলেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় এ অভিনেতা।

বর্তমানে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন একটি ঈদের নাটকের শুটিংয়ে। নাটকের নাম ‘এন্ডলেস’। রুম্মান রশীদ খানের গল্পে এটি পরিচালনা করছেন মাহমুদুর রহমান হিমি এবং এখানে মনোজের বিপরীতে অভিনয় করছেন তানজিন তিশা। শুটিং চলাকালীন সময়েই সেটে আড্ডা হয় এ অভিনেতার সঙ্গে। সেই আলাপচারিতার চুম্বকাংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

প্রথমেই জানতে চাই, ‘এন্ডলেস’ কাজটি প্রসঙ্গে...

এখন যে কাজটি করছি তার নাম ‘এন্ডলেস’। রুম্মান রশীদ খানের গল্পে এটি পরিচালনা করছেন মাহমুদুর রহমান হিমি। এখানে আমার সঙ্গে রয়েছেন তানজিন তিশা। নাটকের গল্পটি খুব সুন্দর, ফ্যামিলি ড্রামা। পারিবারিক মূল্যবোধ, পরিবারের যে সাপোর্টগুলো আমাদের জীবনে প্রয়োজন; এরকম নানা সুন্দর মুহূর্তের গল্প নিয়েই নাটকটি। গল্পে আমাকে দেখা যাবে তিশার স্বামীর চরিত্রে। 

আর অভিজ্ঞতার কথা যদি বলি, হিমি ভাই এবং তিশা; দুজনের সঙ্গেই আলাদা আলাদাভাবে আমার কাজ করা হয়েছে। হিমি ভাইয়ের মধ্যে যে বিষয়টা দেখেছি আমি তা হলো, উনি একটা গল্পে কাজ করার সময় ওই গল্পটা নিজে অনুভব করে সেটে আসেন এবং সেটার মুহূর্তগুলো শিল্পীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।  এটা আমার খুবই ভালো লাগে এবং উনি খুবই ফ্লেক্সিবল। যেহেতু নাটকের কাজগুলো আমাদের অনেক অল্প সময়ের মধ্যেই করতে হয় তাই এই বিষয়টার কারণে আমরা খুব সুন্দরভাবে কাজটা শেষ করে বের হয়ে আসতে পারি।

তিশার প্রসঙ্গে নতুন করে কিছু বলার নেই। আমরা এর আগে যতবারই কাজ করেছি খুব কমফোর্টেবলের সাথেই কাজ করেছি। আমাদের বন্ধুত্বের জায়গা খুব ভালো যার কারণে কাজে আমাদের দুজনের সিংকটা বেশ ভালো হয়। চরিত্রগুলো নিয়ে দুজন আলোচনা করে নিতে পারি; এরপর দুজন দুজনের মত করে কাজটা সুন্দর করার চেষ্টা থাকে। বলতে গেলে আমাদের রসায়নটা বেশ ভালো। 

ঈদের আগে আপনাদের কাজের ব্যস্ততা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে কাজের মান কতটুকু ধরে রাখতে পারেন?

হ্যাঁ, এটা সত্যি। ঈদের আগে আমাদের কাজের চাপ একটু বেশিই থাকে। যেহেতু ব্যাক টু ব্যাক কাজ করতে হয় এবং সেটা খুবই অল্প সময়ের মধ্যে তখন তো অবশ্যই কাজের মানের সাথে একটু কম্প্রোমাইজ করতেই হয়। কিন্তু ঈদের কাজগুলো নিয়ে একটা পজেটিভ দিক হলো- সবার প্রস্ততিটা ভালো থাকে। ঈদের কাজ, সেজন্য আগে থেকে প্ল্যানিং করা, স্ক্রিপ্টিং করা, সহশিল্পীদের সঙ্গে বোঝাপড়া করা; বিষয়গুলোর একটা প্রস্ততি থাকে ভালো। যার কারণে অল্প সময়ের ঘাটতিটা আমরা এই জায়গা থেকে কাভার করে নিতে পারি। আমরা যারা শিল্পী তারা প্রত্যেকেই ভালো কাজের জন্য পিপাসার্ত। এত এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা চেষ্টা করছি ভালো গল্পে, চরিত্রে, পরিচালনায় ভালো ভালো কাজ উপহার দিতে। সবার চেষ্টাতেই কিন্তু ভালো কিছু হয়ে উঠে। 

এবারের ঈদে দর্শকদের জন্য আপনার বিশেষ কি কাজ থাকছে?

গত ঈদে আমার দর্শকদের অনেকেরই অভিযোগ ছিল যে, টেলিভিশনে খুব কম কাজ করেছি। তাদের জন্য এবারের ঈদে টেলিভিশনের জন্য বেশ কিছু কাজ করা হয়েছে। এবার ওটিটির কোন কাজ করিনি, টেলিভিশনের জন্যই করেছি। সব মিলিয়ে ৮/১০ টার মত কাজ হয়তো আসবে। 

আপনার তো ওটিটিতে অভিষেক হয়ে গিয়েছে বেশ আগেই, কিছু কাজ করেছেন, প্রশংসিতও হয়েছেন। এই মাধ্যমে কাজ করতে গিয়ে সম্ভাবনা কতটুকু দেখছেন?

আমি বলবো, সম্ভাবনা খুবই ভালো। কারণ- এই মাধ্যমটাতে সীমাবদ্ধতা খুবই কম রয়েছে। সেখানে ভিন্ন ধরণের গল্পের প্র্যাক্টিস করা যাচ্ছে, যেটা টেলিভিশনে করা কিছুটা কঠিন। টেলিভিশনের চেয়ে বাজেট ভালো থাকে, ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করা যাচ্ছে, সময় নিয়ে কাজ করা যাচ্ছে; সব মিলিয়ে একটু ভালো সুযোগ তো অবশ্যই। যখন ইউটিউবের প্রচলন শুরু হলো তখন অনেকেই কিন্তু বলেছিলো এই মাধ্যমে দর্শক কাজ দেখবে কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান ছিলো। কিন্তু দর্শক ইউটিউবে কাজ দেখেছে এবং দেখছেও। এখন ইউটিউবের পর ওটিটি একটা নতুন মাধ্যম। গত এক বছর আগেও কিন্তু এটা নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিলো, এখন কিন্তু দর্শকরা টাকা দিয়ে ওটিটিতে কাজ দেখছে। ওটিটিতে দর্শকরা সাবস্ক্রাইব করছে এবং সামনে আরও করবে। ভালো কন্টেন্ট যখন পাবে তখন দর্শকরা অভ্যস্ত হয়ে যাবে। কীভাবে ওটিটিতে সাবস্ক্রাইব করে কাজ দেখতে হয়; এই বিষয়টা যখন দর্শকরা বুঝতে শিখে যাবে তখন দর্শক অটোমেটিক্যালি বাড়বে। 

আর মানুষের জীবনটা এখন কিন্তু অনেকটাই টেকনোলজি ভিত্তিক হয়ে গিয়েছে। সবারই এখন হাতে মোবাইল ফোন বা ট্যাব রয়েছে। আগে যখন মানুষ বিনোদনের জন্য হলে গিয়ে সিনেমা দেখতো কিংবা টেলিভিশনের সামনে বসে কাজ দেখে এখন সেটা নিজের ব্যস্ততা এবং জীবনযাত্রার কারণে মুঠোফোনে চলে এসেছে। যার কারণে বেশিরভাগ মানুষ বা দর্শক নিজেদের সুবিধামতো সময়ে মোবাইলে কাজ দেখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। ইউটিউবের পর ওটিটি সেই বিষয়টা পরিবেশনা করতে পারছে।

ওটিটির উত্থানে দর্শক হল বিমুখ পড়ছে না?

ওটিটির উত্থানে কিংবা লকডাউনের কারণে এমনিতেই দর্শক অনেকটা হল বিমুখ হয়ে পড়েছে। তবে আমার মনে হয়, পরিবর্তন আসবে। হলে গিয়ে সিনেমা দেখার যে পরিসর, সে পরিসর মানুষের জীবনযাত্রা থেকে কমে যাচ্ছে, তাদের হাতে অন্য সুবিধা আসছে যেমন ইউটিউব বা ওটিটি। তারা চাইলে ঘরে বসেই এখন সবকিছু দেখতে পারছে ইন্টারনেটের কল্যাণে। সেক্ষেত্রে হলে গিয়ে সিনেমা দেখার প্রবণতা তো কিছুটা কমবে স্বাভাবিক। তবে কিছু কিছু সিনেমা যেমন- নতুন নতুন ডাইমেনশনের সিনেমা; যে সিনেমা হলে গিয়ে না দেখলে সেই ফিলটা বা ডাইমেনশনটা পাওয়া যাবে না, বাসার টেলিভিশন স্ক্রিণে কিংবা মোবাইল ফোনে দেখলে সেই মজাটা পাওয়া যাবে না; তখন দর্শক ঠিকই সিনেমাহলে যাবে। সিনেমার মধ্যে নতুন ডাইমেনশন থাকলে দর্শক হলে ফিরবেই। তা নাহলে দর্শক কমে যাবেই বলে আমার ব্যক্তিগত ধারণা।

শিল্পী-নির্মাতারা এখন ওটিটির দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। এতে করে টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির ওপর কোন নেগেটিভ প্রভাব পড়ছে বা পড়বে কিনা?

টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির ওপর অলরেডি নেগেটিভ প্রভাব পড়েছে। টেলিভিশন হচ্ছে একটা সামাজিক মাধ্যম যেখানে পরিবারের সবাই একসাথে কাজ দেখে। টেলিভিশন সব ধরণের কন্টেন্ট দেখানোর জায়গা না বলেই আমি মনে করি। যেহেতু অনেক ধরণের কন্টেন্ট নির্মিত হয় তার সব কন্টেন্ট সেখানে দেখানো যায় না, বিধি-নিষেধ থাকে। তাছাড়া বিজ্ঞাপনের কারণে সময়েরও একটা চাপ থাকে। 

যেহেতু ওটিটিতে কাজের পরিসর বড় সেহেতু ভালো ভালো নির্মাতারা ওটিটিতে ঝুঁকছে যার কারণে টেলিভিশনে কাজ কম করছে। সেদিক থেকে হিসেবে করলে নেগেটিভ প্রভাব তো পড়ছেই। এতে করে যারা যুতসই পরিচালক না তাদের কাজ টেলিভিশনে চালাতে হচ্ছে; যেটা খুবই দুঃখজনক। 

বাংলাদেশ জার্নাল/আইএন