ঢাকা, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ৩ কার্তিক ১৪২৮ আপডেট : ৩ মিনিট আগে

‘নগদ’র আয়ের ৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা পেলো ডাক বিভাগ

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৩০

‘নগদ’র আয়ের ৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা পেলো ডাক বিভাগ
জার্নাল ডেস্ক

সাধারণ মানুষের জীবন যাপনের অংশ হয়ে ওঠা ‘নগদ’ ২০২০-২১ অর্থবছরে তাদের আয় থেকে ডাক বিভাগের অংশ হিসেবে ৩ কোটি ৩১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৭৭ টাকার রাজস্ব বুঝিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে ‘নগদ’ কর্তৃপক্ষ ডাক বিভাগের প্রাপ্য অংশের চেক হস্তান্তর করে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো. আফজাল হোসেন ‘নগদ’র নির্বাহী পরিচালক মো. সাফায়েত আলমের হাত থেকে চেকটি গ্রহণ করেন। এ সময় ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিনসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি অনুসারে, ‘নগদ’র সেবা থেকে মোট আয়ের ৫১ শতাংশ ডাক বিভাগের প্রাপ্য। বাকি ৪৯ শতাংশ পায় ‘নগদ’ লিমিটেড। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছর ‘নগদ’ থেকে ডাক বিভাগ ১ কোটি ১২ লাখ টাকা আয় পেয়েছিল। শেষ হওয়া অর্থ বছরে যা বৃদ্ধি পেয়ে তিন গুণ হয়।

চেক গ্রহণের পর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আফজাল হোসেন বলেন, ডাক বিভাগ ও থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেড ২০১৭ সালে চুক্তির মাধ্যমে ‘নগদ’ সেবা চালু করে। সময়ের পরিক্রমায় নানা চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে ‘নগদ’ এখন ভালো একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সচিব মো. আফজাল হোসেন বলেন, দেশে যতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবা রয়েছে, তার মধ্যে ‘নগদ’ একটি শক্ত জায়গা করে নিয়েছে। ‘নগদ’র গ্রাহক ও আয় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে ১০ হাজার টাকা দিয়ে ‘নগদ’র লেনদেন শুরু করেন। ‘নগদ’-এ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মালিকানা রয়েছে, এটা সর্বজন স্বীকৃত। জনগণের সেবায় ‘নগদ’ ব্যাপকভাবে ভূমিকা রাখবে এবং একসময় ক্যাশলেস সোসাইটি গড়তে বিশেষভাবে অবদান রাখবে বলে আমি বিশ্বাস রাখি। ‘নগদ’র চলার পথে যেসব বাধাবিঘ্ন বা অসুবিধা রয়েছে, সেগুলো অতিক্রম করে আগামী দিনে একটি পরিপূর্ণ তথ্যসমৃদ্ধ প্রযুক্তিগত সার্ভিস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। বর্তমানে আমরা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছি, খুব শিগগির ‘নগদ’ প্রথম স্থানে গিয়ে দেশ ও জনগণের সেবা দিতে পারবে বলে আশি বিশ্বাস করি।

এ সময় ‘নগদ’র নির্বাহী পরিচালক মো. সাফায়েত আলম বলেন, শুরু থেকে ‘নগদ’ ডাক বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। শেষ হওয়া বছরে ডাক বিভাগ যে আয় পেয়েছে তা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। আগামী দিনে দেশের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে ‘নগদ’ ডাক বিভাগকে আরো বেশি রাজস্ব দিতে পারবে বলে আশা করেন তিনি।

ডাক বিভাগের সেবা হিসেবে বাজারে আসার মাত্র আড়াই বছরে দেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবার বাজারে বড় রকমের পরিবর্তন ঘটিয়েছে ‘নগদ’। ফলে সর্বনিম্ন ক্যাশ আউট চার্জসহ অত্যাধুনিক সব সেবা উপভোগ করতে পারছে দেশের সাধারণ মানুষ। যেকোনো জায়গা থেকে যেকোনো সময় যেকোনো মোবাইলে *১৬৭# ডায়াল করে কয়েক সেকেন্ডে খুলতে পারছে ‘নগদ’ অ্যাকাউন্ট।

তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন সহায়তা ও ভাতার টাকা উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে ‘নগদ’। করোনাভাইরাস মহামারী ও লকডাউনের সময়ও ‘নগদ’ নিরবছিন্ন সেবা দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনকে স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মানুষের আগ্রহ ও আস্থার কারণে খুব কম সময়ে বাজারে একটি অবস্থান গড়তে সক্ষম হয়েছে ‘নগদ’। এর প্রেক্ষাপটে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের ডাক বিভাগের সংগঠন এশিয়া প্যাসিফিক পোস্টাল ইউনিয়ন এক অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপানসহ নয়টি দেশ ‘নগদ’র মডেল নিজ নিজ দেশের ডাক বিভাগে চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত