ঢাকা, শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮ আপডেট : ৩ মিনিট আগে

ডিজিটালে ঠকছে মানুষ

  সরদার অহিদুজ্জামান

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫৫

ডিজিটালে ঠকছে মানুষ
ফাইল ছবি
সরদার অহিদুজ্জামান

সাধারণ মানুষ ঠকেই চলেছে। যেন ঠকায় তাদের নিয়তি। তবে এখন ঠকানোর ধরন ভিন্ন। আগে ঠকাত ম্যানুয়ালি এখন ডিজিটালি। এদিকে সরকার পদক্ষেপ নেয় কিন্তু সেটা জনগণ নিঃস্ব হওয়ার পরে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। এহসান গ্রুপ, ইভ্যালিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপের বিষয়ে বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। তারপরই টনক নড়েছে সরকারের।

এভাবে প্রত্যেকটি ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর নড়েচড়ে বসে সরকার। বাজেয়াপ্ত করা হয় কোম্পানির সম্পত্তি। আইনে সুস্থ প্রতিকার থাকলেও প্রয়োগ চোখে পড়ে না। বিচার বিভাগও আফসোস করেন। এসব কাজ হওয়ার আগে কোথায় থাকেন সরকার?

অন্যদিকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ। ৫০ বছরে এসে বাংলাদেশের মূল স্লোগান ও উন্নয়নের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ। কিন্তু মানুষ এখনো প্রতারিত হচ্ছে সেই ডিজিটাল মাধ্যমেই। ফলে খোদ বিচার বিভাগও প্রশ্ন তুলেছেন। যাতে করে এই ধরনের প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সঙ্গে আর প্রতারণা না করতে পারে।

এত সব ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য জনমণে সন্দেহ তৈরি করছে। মানুষ হচ্ছে বিভ্রান্ত। বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার প্রাথমিক দায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে। তিনি আরও বলেছেন, যেহেতু এসব প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র এই মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া হয় ফলে তাদের দায়িত্ব বেশি।

আর ইপিবি সম্মেলন কক্ষে ‘সোর্সিং বাংলাদেশ ২০২১-ভার্চুয়াল সংস্করণ’ অনলাইন মেলায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের জেলে নেওয়াটাই একমাত্র সমাধান নয়। সম্প্রতি ই-অরেঞ্জ, ইভ্যালি, ধামাকাসহ অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা নিয়ে পণ্য না দিয়ে শত শত কোটি টাকা লোপাট ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে, যা আদালতে বিচারাধীন। এসব প্রতিষ্ঠানের সবাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র নিয়ে ব্যবসা করে আসছিল।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু এসব প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র এই মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া হয় ফলে তাদের দায়িত্ব বেশি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্য প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বও আছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারিত গ্রাহকরা যাতে তাদের অর্থ ফেরত পায় সে ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব নিতে হবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইভ্যালির সিইও ও চেয়ারম্যানকে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে। এটা কোনো সমাধান নয়। গ্রাহকরা যেন তাদের টাকা ফেরত পায়, আবার অভিযুক্তরাও যেন শাস্তি পায়-উভয় বিষয়েই পদক্ষেপ নিতে হবে। বাণিজ্যসহ চার মন্ত্রণালয়ে (অর্থ, বাণিজ্য, আইন ও স্বরাষ্ট্র) বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি।

টিপু মুনশি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার অনলাইন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার মধ্যে মাত্র ১০-১২টির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তাই সামগ্রিকভাবে অনলাইন প্রতিষ্ঠানকে খারাপ বলা যাবে না। এর আগে দেখেছি- ডেসটিনির মতো প্রতিষ্ঠানের সম্পদ কাজে লাগানো হয়নি। সেগুলো অন্যরা ভোগদখল করছে। অথচ লাখ লাখ গ্রাহক তাদের পাওনা বুঝে পায়নি। ইভ্যালির ক্ষেত্রেও যেন এমনটা না হয়, গ্রাহকরা যেন টাকা যাতে ফেরত পায়- সেই বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

তিনি আরও বলেন, অনেক বড় গ্রুপ অব কোম্পানি বিনিয়োগ করতে চেয়েছিল, কিন্তু নেতিবাচক এসব ঘটনার কারণে সরে দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারকেও দায়িত্ব নিতে হবে উল্লেখ করে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বিভিন্ন সময় নানা ফর্মে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সাধারণ গ্রাহকরা প্রতারিত হয়। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে।’

এর আগেও ডেসটিনি, ইনিপেটুইউ ছাড়াও নানান ধরনের এমএলএম ব্যবসা ও অনলাইনে গড়ে তোলার প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকরা প্রতারিত হয়েছে। কিন্তু কোনো ঘটনারই শেষ হয়নি। গ্রহকরা ফিরে পাননি কোনো অর্থ। সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে দায়িত্ব নিতে হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত