ঢাকা, রোববার, ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ৯ মাঘ ১৪২৮ আপডেট : ২ মিনিট আগে

প্রকৃতির বিস্ময় ভালকান দ্বীপ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫:৫৭  
আপডেট :
 ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৬:৩১

প্রকৃতির বিস্ময় ভালকান দ্বীপ
ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার দক্ষিণে আছে প্রকৃতির এক আশ্চর্য বিস্ময় ভালকান দ্বীপ। সেখানে এক দ্বীপের (লুজন দ্বীপ) মাঝে আছে এক হ্রদ (লেক তাল), সে হ্রদের মাঝে এক আগ্নেয়গিরি (তাল ভলকানো), আগ্নেয়গিরির মাঝে আবার একটি ছোট হ্রদ (ক্রেটার লেক), হ্রদের মাঝে আরেকটি ছোট্ট দ্বীপ (ভালকান পয়েন্ট)। খুঁজলে এমন বিস্ময়কর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হয়তো পৃথিবীতে আরো মিলবে।

তবে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত থার্ড অর্ডার আইল্যান্ডগুলোর (হ্রদের মধ্যে দ্বীপ, দ্বীপের মধ্যে হ্রদ, তার মধ্যে দ্বীপ) মধ্যে ভলকান পয়েন্টই সবচেয়ে বড় (৪০ মিটার)। শুধু তা-ই নয়, দ্বীপের মধ্যে হ্রদ রয়েছে এমন তালিকা বানালে ক্রেটার লেক হবে পৃথিবীর বৃহত্তম। রেকর্ডবুকে জায়গা করে নেওয়ার জন্য এই-ই যথেষ্ট। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এর নয়নাভিরাম সৌন্দর্য, যার টানে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটকের ঢল নামে ফিলিপাইনের এই ছোট এলাকাজুড়ে।

তবে সৌন্দর্যের অন্তরালে লুকিয়ে আছে আগ্নেয়গিরির ভয়ংকর বিপদের হাতছানি। তাল ভলকানো ফিলিপাইনের সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মধ্যে রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। ইতিহাস ৩৩টি অগ্ন্যুত্পাতের ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, যার মধ্যে কয়েকটি রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। বিভিন্ন সময় আশপাশের লোকালয়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার প্রাণ গেছে এই আগ্নেয়গিরির কারণে। কখনো ফসলি জমি ঢেকে গেছে আধা ইঞ্চিরও বেশি পুরু ছাইয়ে। অম্লের প্রভাবে ক্রেটার হ্রদের পানি গাঢ় রঙের। তবু অনেকের বিশ্বাস, এই পানিতে সাঁতার কাটা ভালো। আশা জাগানিয়া খবর হচ্ছে, তাল ভলকানোর ভয়াবহতা বিবেচনা করে একে নিয়মিত গবেষণা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়, যেন ভবিষ্যতে অগ্ন্যুত্পাতের আগাম সতর্ক বার্তা দেওয়া সম্ভব হয়। ১৯৭৭ সালে শেষবারের মতো অগ্ন্যুত্পাত হয়েছিল। ১৯৯১ সালের পর থেকে মাঝেমধ্যেই ভূমিকম্প আর পাহাড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে, তার মানে অদূর ভবিষ্যতে জেগে উঠতে পারে তাল ভলকানো। এত কিছুর পরও ঠেকানো যাচ্ছে না রোমাঞ্চপ্রিয় অভিযাত্রীদের। বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে তাদের আনাগোনা।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত