ঢাকা, শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ আপডেট : ২৫ মিনিট আগে

ল্যানসেটের গবেষণা প্রতিবেদন

ওষুধ প্রতিরোধী সংক্রমণে বিশ্বে মারা যান লাখ লাখ মানুষ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২২, ১৩:৪৮  
আপডেট :
 ২০ জানুয়ারি ২০২২, ১৪:৩১

ওষুধ প্রতিরোধী সংক্রমণে বিশ্বে মারা যান লাখ লাখ মানুষ
প্রতীকী ছবি।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্বব্যাপী ২০১৯ সালে ১২ লাখের বেশি মানুষ মারা গেছেন এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে। এক বৃহৎ গবেষণার বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

এ সংখ্যা ম্যালেরিয়া অথবা এইচআইভি সংক্রমণে বার্ষিক মৃত্যুর চেয়েও বেশি।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া বিশ্বের প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। তবে দরিদ্র দেশগুলো এর খারাপ প্রভাবের সবচেয়ে বড় শিকার।

তাহলে এর প্রতিকার কি? গবেষকরা বলছেন, নতুন ওষুধ (বিশেষ করে এন্টিবায়োটিক) আনতে হবে। তা না পারলে, সঠিকভাবে প্রচলিত ওষুধগুলো রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব (ব্যাকটেরিয়া) সংক্রমণের কারণে লোকজন মারা যাচ্ছেন, সেগুলো আগে চিকিৎসার মাধ্যমে সেরে উঠতো।

কিন্তু এখন সে সংক্রমণগুলো আর সেরে উঠছে না। কারণ, ব্যাকটেরিয়া ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে পড়েছে। তাই কাজ করছে না এন্টিবায়োটিকে।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সম্প্রতি সতর্ক করে বলেন, ব্যাকটেরিয়ার ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠা একটি ‘নীরব মহামারি।’ এটা করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে বাড়তে পারে।

এ কারণে তারা দায়িত্বের সঙ্গে রোগীদের এন্টিবায়োটিক খাওয়ার পরামর্শ দিতে চিকিৎসকদের আহ্বান জানিয়েছেন।

গবেষণা প্রতিবেদনটি চিকিৎসা বিষয়ক বিখ্যাত ম্যাগাজিন ল্যানসেটে প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ব বিদ্যালয়ের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক একটি গবেষক দল ২০৪টি দেশে তা গবেষণা পরিচালনা করে।

তারা দেখেছেন যে, ২০১৯ সালে ৫০ লাখ মানুষ মারা গেছেন, যাদের ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক কাজ করেনি। এদের মধ্যে ১২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে সরাসরি ওষুধপ্রতিরোধী সংক্রমণে।

ওই বছরে এইচআইভি এইডস-এ আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে মারা গেছেন ৮ লাখ ৬০ হাজার মানুষ। আর ম্যালেরিয়া প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ৬ লাখ ৪০ হাজার জনের।

যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের অধিকাংশই ভুগেছেন নিউমোনিয়া বা রক্তপ্রবাহ সংশ্লিষ্ট ফুসফুসের নিম্নভাগের সংক্রমণে। অবশেষে ফুসফুসে পচনের কারণে তারা মারা গেছেন।

গবেষকরা ই-কুলি, এমআরএসএ ধরনের কয়েকটি ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করেছেন, যেগুলো এ ক্ষেত্রে ভয়ঙ্কর। এ ব্যাকটেরিয়াগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওষুধ প্রতিরোধী হিসেবে তারা চিহ্নিত করেছেন।

এসব ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের ওপর গবেষণা ও তথ্য যাচাই করে গবেষকরা বলছেন, কম বয়সী শিশুরা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ ধরনের সংক্রমণে প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে একটির মৃত্যু হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলে ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ায় মৃত্যু সবচেয়ে বেশি। তবে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে এ হার অনেকটাই কম।

এ প্রসঙ্গে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ মেট্রিক্স এন্ড এভলুশন বিভাগের অধ্যাপক ক্রিন মুরে জানান, নতুন তথ্য থেকে বিশ্বব্যাপী ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা পাওয়া গেছে, যা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনিয়তার স্পষ্ট সংকেত দিচ্ছে।

অন্য গবেষকরা বলছে, বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী ওষুধ কতোটা কার্যকারিতা দেখাচ্ছে, সেটা ভালোভাবে নির্ণয় করাটাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ জার্নাল/ টিটি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত