ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯ আপডেট : ২ মিনিট আগে
শিরোনাম

আলঝেইমার্স রোগের চিকিৎসায় 'যুগান্তকারী' ওষুধ আবিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫:১৭

আলঝেইমার্স রোগের চিকিৎসায় 'যুগান্তকারী' ওষুধ আবিষ্কার
প্রতিকী ছবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আলঝেইমার্স আক্রান্ত মস্তিষ্কের কোষ ধ্বংসের গতি কমিয়ে দেয়ার মতো প্রথম কোন ওষুধ আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। কয়েক দশক ব্যর্থতার পর এই ওষুধটিকে এই রোগের চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আলঝেইমার্স রোগের চিকিৎসার উপায় খুঁজতে গিয়ে ৩০ বছর আগে যখন বিশ্বের বিজ্ঞানীরা ঠিক করে যে, এজন্য প্রথমে অ্যামিলয়েড লক্ষ্য করে গবেষণা করতে হবে, তাদের একজন প্রফেসর জন হার্ডি। নতুন এই ওষুধ আবিষ্কারের পর তিনি একে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি আশা করছেন, এর ফলে আলঝেইমার্স রোগের চিকিৎসার নতুন নতুন উপায় বেরিয়ে আসতে শুরু করবে।

বর্তমানে যারা আলঝেইমার্স রোগে আক্রান্ত হয়, তাদের এমন ওষুধ দেয়া হয়, যাতে তাদের উপসর্গগুলো সামলাতে পারেন। কিন্তু এর কোনটাই রোগটি ঠেকাতে কোন ভূমিকা রাখতে পারে না। কিন্তু এখন বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, নতুন এই ওষুধের সাফল্য প্রাথমিক পর্যায়ে আলঝেইমার্স শনাক্ত রোগীদের চিকিৎসায় কাজে আসবে। সেই সঙ্গে এর ধারাবাহিকতায় নতুন ওষুধ আবিষ্কারের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

এদিকে আলঝেইমার্স রিসার্চ ইউকে জানিয়েছে, যদিও লিকেনেম্যাব নামের ওষুধটির প্রভাব এখনো কম। কিন্তু মস্তিষ্কের ক্ষতি হওয়ার হার চারভাগের একভাগ কমিয়ে দিতে পারে। মূলত আলঝেইমার্স আক্রান্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে বেটা অ্যামিলয়েড নামে যে আঠালো পদার্থ তৈরি হয়, সেটিকে আক্রমণ করে লিকেনেম্যাব।

অ্যামিলয়েড হচ্ছে একটি প্রোটিন, যা মস্তিষ্কের নিউরনের মাঝের জায়গাগুলো জমা হতে থাকে। এর ফলে মস্তিষ্কের কোষগুলো ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। এরকম অ্যামিলয়েড তৈরি হওয়া আলঝেইমার্স রোগের অন্যতম উপসর্গ।

মানুষের শরীরে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করলে সেটি দূর করতে শরীরের ভেতরে যেরকম অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, লিকেনেম্যাব হচ্ছে সেরকম একটি অ্যান্টিবডি। কিন্তু এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বলবে যে, মস্তিষ্ক থেকে অ্যামিলয়েড দূর করে ফেলে।

তবে বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, ওষুধটি কাজও করে এই রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে। ফলে এই রোগে আক্রান্ত অনেক রোগী হয়তো এর সুফল পাবেন না।

উল্লেখ্য, সারা পৃথিবীতে সাড়ে পাঁচ কোটির বেশি মানুষ আলঝেইমার্স রোগে আক্রান্ত। কিন্তু ২০৫০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা ১৪ কোটিতে পৌঁছবে যাবে বলে ধারণা করা হয়।

সূত্র: বিবিসি

বাংলাদেশ জার্নাল/এমআর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত