ইফতার নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রলীগ

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২২, ০৮:২০ | অনলাইন সংস্করণ

  ছৈয়দ মোছাদ্দেকুন নবী, হারুন-অর-রশীদ

ছবি: বাংলাদেশ জার্নাল

গতবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতার কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে প্রথম রমজান থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য রমজান মাসব্যাপী থাকবে নানা ধরনের ইফতার আয়োজন। 

অনাড়ম্বর এ কার্যক্রমে কোন শিক্ষার্থীদের ছবি তোলা হয় না, গোপন রাখা হয় পরিচয়। প্রয়োজন হয় না কারোর সুপারিশের। আইডি কার্ড চেক করে শিক্ষার্থীদের বিব্রত না করার প্রত্যয়ে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে কেবল শিক্ষার্থী পরিচয়েই মিলছে ইফতার। তাছাড়া ইফতারগুলো দেয়া হচ্ছে প্যাকেট করে, যাতে বহন করে নিতেও কোনো শিক্ষার্থী দ্বিধাগ্রস্থ না হয়।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য-এর নেতৃত্বে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জন্য বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছাত্রীদের দেয়া হচ্ছে অগ্রাধিকার। শিক্ষার্থীদের সাথে সমন্বয় করছেন ছাত্রলীগের সমাজসেবা সম্পাদক শেখ স্বাধীন শাহেদ এবং ধর্ম সম্পাদক তুহিন রেজা।

এ প্রসঙ্গে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য জানান ‘করোনার পর শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হলেও আমরা বিবেচনায় রেখেছি একজন শিক্ষার্থীর কী কী জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইফতারকে একজন শিক্ষার্থীর অতি জরুরি প্রয়োজন মনে করেই এ আয়োজন করেছে।’

ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় জানান, ‘শুধু করোনা নয়, যেকোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকে, এই আয়োজন তারই প্রমাণ।’

ছাত্রলীগের সমাজসেবা সম্পাদক শেখ স্বাধীন মো. শাহেদের সাথে কথা হয় বাংলাদেশ জার্নালের।  ইফতার কার্যক্রমটি নিজেদের তত্ত্বাবধানে, নিজেরাই বাজার করে, নিজেদের হাতে প্রস্তুত করেন বলে জানান তিনি। 

তিনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের দুঃখ-কষ্ট-দুশ্চিন্তার ভাগিদার হতে চাই। সারাদিন পড়ালেখার পর একজন শিক্ষার্থীর যাতে ইফতার নিয়ে দুশ্চিন্তা না করতে হয়, সেইলক্ষে দেশরত্ন শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আমাদের এই আয়োজন।’ 

এ দিকে শিক্ষার্থীরাও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদেরই একজন ইরফানুল ইসলামের (ছদ্মনাম) সাথে কথা হয় বাংলাদেশ জার্নালের। বন্ধুবান্ধব নিয়ে এখানে কয়েকদিন যাবত ইফতার করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। 

হলের খাবারের দাম বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সমস্যার কথা বর্ণনা করে তিনি বলেন, রোজা-রমজানে আমাদের খরচ বেড়ে যায়। শুরুর দিকে হলে সেহরিতে খাবার দাম বৃদ্ধি করে ৬০ থেকে ৭০ টাকা করা হয় (একবেলা)। যেখানে আমরা আগে ৩০/৪০ টাকায় খাবার সেরে ফেলতে পারতাম। তারপর হল মেসে কার্ড করিয়ে দৈনিক ৭০ টাকা খরচে করে সেহরি খেতে হয়। খাবারের মান তুলনামূলক ভালো বলে মেসে খাই। ইফতারির সময়ও দেখা যায় ৫০/৬০ টাকার নিচে কিছু হয় না। আমরা যারা নিম্ন-মধ্যবিত্ত আছি আমাদের অনেকেই এই টাকা ব্যয় করার সাধ্য রাখি না। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এই ইফতার কার্যক্রম আমাদের জন্য অনেক সহায়ক হয়েছে। পাশাপাশি উদ্যোগটিকে মানবিক ও দায়িত্বশীল বলে তিনি ‌অন্যান্য সংগঠনগুলোকেও এ ধরণের কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। 

পাশাপাশি গোপনীয়তা রক্ষা করে খাবার বিলির বিষয়টির কথা উল্লেখ করে আরেক শিক্ষার্থী জানান, ‘অনেকেই আছেন যারা দেয়ার চাইতে ছবি তোলেন বেশি। অথচ ধর্মে বলা আছে এমনভাবে দান করতে যাতে এক হাতে দান করলে অন্য হাত না জানে। শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো যদি মূল্য উদ্দেশ্য হয় তবে কাজগুলো এমন গোপনে হওয়া উচিত বলে জানান তিনি।

মেয়েদের অগ্রাধিকার ও পরিচিতি যাচাইয়ের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘পুরো উদ্যোগটিতে এই কাজটিই সবচেয়ে বেশি সুন্দর। ভিড় করে খাবার বিতরণ করলে দেখা যায় কেউ বেশি পায় আবার কেউ একেবারেই পায় না। আবীর অনেক সময় পরিচয় যাচাই করতে গিয়েও নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বসার সুব্যবস্থা করায় যারা বসে খাওয়ার তারা সুন্দরভাবে বসে খেতে পারে। মেয়েদেরও ঝামেলায় পড়তে হয় না। এ ধরণের সুশৃঙ্খল কাজ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।’

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যেকদিন অন্তত সহস্রাধিক শিক্ষার্থী মধুর ক্যান্টিনে ইফতার করেন। মাসব্যাপী এ কার্যক্রম ঈদের দিন সেমাই ও মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে শেষ হবে।


বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ