ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে

ডাকাতির পর ছদ্মবেশে গা ঢাকা দিতো শহিদুল

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২২, ১৬:৩৭

ডাকাতির পর ছদ্মবেশে গা ঢাকা দিতো শহিদুল
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডাকাতি, অস্ত্র আইনসহ আট মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ডাকাত সর্দার শহিদুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

তার নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি সুসংগঠিত ডাকাত দল রয়েছে। এক জায়গায় ডাকাতি শেষে অন্য জায়গায় অবস্থান নিয়ে ফল বা সবজি বিক্রেতার ছদ্মবেশে থাকতো। এরপর বাসা রেকি নতুন ডাকাতির পরিকল্পনা করতো শহিদুল।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার মো. শহিদুল মোল্লাকে গ্রেপ্তারের পর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এসব তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব।

বুধবার দুপুরে মালিবাগ সিআইডির সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।

গ্রেপ্তার শহিদুলকে জিজ্ঞাসাবাদে সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি জানায়, ডাকাতির সময় বা পরে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা কর্তৃক গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন হাজতবাস করেছে শহিদুল। জামিনে বেরিয়ে পুনরায় দল গঠন করে নতুন উদ্যমে ডাকাতি শুরু করে সে।

মুক্তা ধর বলেন, অনেকে আবার বড় ধরনের ডাকাতি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য ঘটনাস্থল থেকে দূরবর্তী এলাকায় অবস্থান নিয়ে সাময়িকভাবে নতুন পেশা বেছে নেয়। তাদের কেউ কেউ আদালত থেকে জামিন নিয়ে পুনরায় হাজির না হয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। তাদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের অপেক্ষায় বছরের পর বছর মূলতবি থাকে।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের ডাকাত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও তাদের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান করে আসছিল সিআইডি। এরই ধারাবাহিকতায় একাধিক ডাকাত সদস্যকে শনাক্ত করে মঙ্গলবার রাতে ৮ মামলার এজাহারনামীয় ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. শহিদুল মোল্লা গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার শহিদুলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, শহিদুলের নেতৃত্বে ১০/১২ সদস্যের একটি সুসংগঠিত ডাকাত দল রয়েছে। সে দল নিয়ে বরিশালের উজিরপুর, বিমানবন্দর থানা, গৌরনদী, মাদারীপুরের কালকিনীসহ বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করেছে। তার বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতির প্রস্তুতি, দুটি অস্ত্র আইনে মামলা, দুটি চুরি, একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও একটি অন্যান্য ধারার আইনের মামলা রয়েছে। ৭টি মামলায় আদালত থেকে জামিন নিয়ে সে আত্মগোপনে চলে যায়।

তিনি আরও বলেন, শহিদুল রাজধানীর উত্তরা এলাকায় মৌসুমী ফল ও সবজি বিক্রেতার বেশ ধরে বসবাস করে আসছিল। পাশাপাশি ডাকাতি জন্য এলাকা ও বিভিন্ন বাসা রেকি করে আসছিল।

মুক্তা ধর বলেন, আদালত থেকে ৭টি মামলায় তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। বরিশাল অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে উজিরপুর থানায় দায়ের করা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন, যা তামিলের অপেক্ষায় মূলতবি রয়েছে।

শহিদুল আন্তঃজেলা ডাকাতদলের সর্দার। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে তার নামে নিজস্ব ডাকাত বাহিনী রয়েছে। ২০১০ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি করে আসছে বলেও জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।

বাংলাদেশ জার্নাল/এফজেড/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত