ঢাকা, শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮ আপডেট : ১০ মিনিট আগে

ছাত্রদলের শ্রাবণ-শ্যামলের আর্থিক কেলেঙ্কারির অডিও ফাঁস

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২১, ১৯:১৬  
আপডেট :
 ০৪ আগস্ট ২০২১, ২০:৪৫

ছাত্রদলের শ্রাবণ-শ্যামলের আর্থিক কেলেঙ্কারির অডিও ফাঁস
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ ২৭ বছর পর ২০১৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ফজলুর রহমান খোকন ও ইকবাল হোসেন শ্যামল। তাদের নেতৃত্বেই হয় ৬০ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি। মেয়াদের ২২ মাস অতিবাহিত হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেননি তারা। তাদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে পদ দেয়ার অসংখ্য অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এমন কেলেঙ্কারির কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতে রয়েছে বিএনপি।

অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে বাছ-বিচার ছাড়াই কমিটি দেয় ছাত্রদলের সুপার ফাইভের নেতারা। ভাগ-বাটোয়ারা করেই নানা পদে লোক বসাচ্ছেন তারা। এতে অযোগ্যরা গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারলেও ত্যাগীরা উপেক্ষিত হচ্ছেন। কমিটি দেয়ার ক্ষেত্রে সিনিয়র নেতাদের সুপারিশও মানছেন না তারা। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাসান শ্যামল ও সিনিয়ার সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের বিরুদ্ধে। তাদেরকে জমি বিক্রি করেও টাকা দিয়েছেন কোনো এক উপজেলার পদপ্রত্যাশী।

ছাত্রদলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কমিটি দিতে গিয়ে দুই পক্ষ থেকে ২৩ লাখ নিয়েছেন ছাত্রদলের সুপার ফাইভের দু’জন নেতা। এরসঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান। পরে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কমিটি স্থগিত করা হয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাসান শ্যামল ও সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। তাদরে আর্থিক লেনদেনের একটি অডিও এসেছে। সেখানে কথা বলছেন, রূপগঞ্জের ছাত্রদলের ২ নং যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ এবং আরেক নেতা সুজন।

অডিওতে শোনা গেছে, রূপগঞ্জে টাকা দেয়ার পরও যারা কমিটিতে জায়গা পাননি তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আহ্বায়ক করার কথা বলে মাসুম বিল্লাহর থেকে টাকা নিয়েছেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শ্রাবণ-সাধারণ সম্পাদক শ্যামল এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান। এরমধ্যে মধ্যস্থা করেছেন রাজীব-আকরাম কমিটির জয়েন সেক্রেটারি মাহফুজ।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘যার অডিও ফাঁস হয়েছে তিনি পরে ফেসবুকে সেটা অস্বীকৃতি জানিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। আমার জানার মধ্যে এ বিষয়টি নেই।’

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাসান শ্যামল বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘ফাঁস হওয়া অডিওতে আমার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। সেখানে বলা হয়েছে, অমুককে দিয়েছি, অমুক নিয়েছে। আপনি অডিওটি ভালো করে শুনুন।’

অডিওটিতে আপনার কথা বলা হয়েছে, যা শোনা গেছে এমন প্রশ্নের জবাবে শ্যামল বলেন, ‘আমার কথা বলেনি, আপনি আবার অডিওটি শুনুন।’

জানতে চাইলে মাসুম বিল্লাহ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, এটা আমার কাছেও এসেছে। কিন্তু তাদের সঙ্গে আমার কোন লেনদেন হয়নি। আর এই কণ্ঠটাও আমার না।

৮ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের অডিওতে মাসুম ও সুজন যা বলছেন..

মাসুম: খালি মোবাইলে ব্যস্ত মিয়া।

সুজন: মোবাইল ব্যস্ত দেখাচ্ছে? আমিতো কারো সাথে কথা বলতেছি না।

মাসুম: ধুর মিয়া কখন থেকে তোমারে ট্রাই করতেছি, খালি ব্যস্ত দেখাইতেছে। কারলগে এতো কথা কইতেছে।

সুজন: আমিতো মাত্র খাওয়া দাওয়া করলাম। কারো সাথে কথাও কইলাম না।

মাসুম: তুমি কই?

সুজন: আমিতো বাসায়।

মাসুম: যেই কথাটা যেই বিষয়টা। যেটা নাকি তুমি টাকাটা শ্রাবণ ভাইকে দিয়েছো, সেটা কি মাহফুজ ভাই জানে।

সুজন: হুম

মাসুম: মাহফুজ ভাই জানে?

সুজন: হ

মাসুম: ১ লাখ টাকা দিছো এটা কি তোমার নিজের। মাহফুজ ভাই ইনস্টান্ড ওই জায়গায় ছিলো? একলাখ টাকা শ্রাবণ ভাইকে দিছো।

সুজন: আমি নিজে দিছি।

মাসুম: শ্রাবণের সাথে আর কোনো লোক ছিলো? সাক্ষী রাখছো কোনো? ডায়রেক্ট নাকি পারসোনাল দিছো।

সুজন: না, উনি (মৃদু হাসি) টাকা লইছে রাত দেড়টা বাজে। তখন সব ক্লিয়ার করে লইছে না? এটা আমি ওনার বাসায় গেছিলাম আমার কাছে পারসোনাল চাইছে টাকা।

মাসুম: টোটাল কত চাইছে?

সুজন: আমার কাছে চাইছে আরো বেশি। আমি বলছি, আমার কাছে ব্যবস্থা নাই। বলছে কারো কাছে বলিস না? আমি যেহেতু ওনারে চিনি মাহফুজ ভাইকে দিয়ে, মাহফুজকে না জানিয়ে ইয়া করে ফেলবো।

মাসুম: হুম

সুজন: উনি বলছে কেউ যেন না জানে। ভাইরে কিভাবে কি বলি। একদিন গেছি ওনার বাসার নিচে। ওইদিনও টাকা নিয়ে গেছি। ওই দিন কম নিয়ে গেছি। ওইদিন মনে হয় ৪০ (৪০ হাজার) না যেন কত নিয়ে গেছি। বলতেছে, রাখ এটাতো আমার জন্য না। টিমেরে দিতে অইবো, টিমেরে দিতে অইবো। তখন টিমেরে দিতে অইবো পরে কয়, টিমে মনে করো চারজন আছে হ্যাগো লাগবে মনে করো মিনিমাম এক। পরে সেন্ট্রালরা আছে। এইডা হেইডা বেশি। ওনারটা বেশি।

মাসুম: পরে

সুজন: আমি মাহফুজ ভাইকে বলছি ভাই- এই এই ঘটনা। মাহফুজ ভাইরা কাছের লোক বা ছোট ভাই। আমারতো এইডা পারতে হইবো। কিন্তু যার মাধ্যমে এখানে গেলাম তারেতো জানাইতে হইবো বিষয় এইটা।

মাসুম: না, অবশ্যই। কি কয়।

সুজন: পরে ভাই কইতেছে। সে আবার বলছে কাউকে না জানাতে। ভাইয়ে যাতে না জানে।

মাসুম: কেডা না জানে? মাহফুজ ভাই?

সুজন: হ, মাহফুজ ভাই যেন না জানে।

মাসুম: ইশ!

সুজন: এইটা শ্রাবণ ভাই আমারে কইছে।

মাসুম: সরম সরম না?

সুজন: হ, সরম। উনি কইলেই কি? আমি মাহফুজ ভাইকে না জানাবো নাকি?

মাসুম: হুম

সুজন: পরে আমি ভাইরে ফোন দিলাম। বাহির হয়েই ফোন দিলাম। ভাই এই এই ঘটনা। সঙ্গে সঙ্গেই ফোন দিছি। উনি কইছে-কি কইতাম কন। ভাই দরকার নাই আর। এগুলো ঝামেলা। কারণ আমরা টেহা দিয়া পারতাম না। ভাইরে কইছি। কয়, আচ্চা ঠিক আছে। তুমি আইয়ো। পরে সোহেলরে কইছি। এই এই ঘটনা। সোহেল কয় আচ্ছা ঠিক আছে? নির্ধারিত একটা ডেট দিছে এতোদিন লাগতে পারে। তহন ওইতো টাকা যেটা ম্যানেজ করলেন সবাই মিলে। এই অবস্থা।

মাসুম: হ্যারে কত দিছিলা? ভাইরে?

সুজন: অ্যা

মাসুম: শ্রাবণ ভাইরে কত দিছিলা?

সুজন: ওইদিন পুরো

মাসুম: ১ লাখ টাকা দিছো। পরে আরো টেহা দিছো ভাইরে।

সুজন: উনারে আগে পরে এগুলো আমার হাত দিয়ে কিছু হয় নাই। ওই জিনিসটা যে উনি মাহফুজ ভাইয়ে না জানাইতে। বিষয়টা মাহফুজ ভাই জানেই। যেহেতু কেউ না জানে- একলা যাইয়ো। তাই একলা গেছি।

মাসুম: ওই শুধু ১ লাখ টাকা দিয়া আইছো? টাকা নিয়েও কাজ করে নাই? না।

মাসুম: মজাটা বুজবো হ্যায়। টেহা খাওয়ার মজাডা।

সুজন: কাজ করলেতো হইতোই।

মাসুম: আরেকটা বিষয় হইছে— আকরাম ভাই আমাগো থেকে কতো নিছে টোটাল।

সুজন: অনেক অনেক

মাসুম: আমি মাসুম বিল্লাহ আমি যে তোমাকে কথাগুলো বলছি। এগুলো তোমার আর আমার মধ্যে থাকবে। এগুলো মাহফুজ ভাই ও সোহেল ভাইরে জানার দরকার নাই। আমাকে সেন্ট্রাল থেকে একজন ফোন দিছি তার সঙ্গে কথা হইছে। কাউকে বলার দরকার নাই। আকরাম ভাই তোমার থেকে কতো নিছে। আমরাতো একদিন গিয়ে ২০ হাজার দিয়েছি। আর তোমার থেকে ভেঙে ভেঙে কতো নিছে?

সুজন: বলতে গেলে উনি একদিন গাড়ি পারপাস অনেক টাকা নিছে। গাড়ি ভাড়া করে দিতে হইছে। আমার জন্য একজনে উনাকে ৫০ হাজার টাকা নিছে।

মাসুম: কেডা এইডা

সুজন: এক বড় ভাই। উনি রাজনীতির বাইরে।

মাসুম: তোমাকে কমিটিতে রাখার জন্যইতো টাকা দিছে?

সুজন: হুম

মাসুম: শ্যামল ভাইয়ের কথা বলে নিয়েছে না আকরাম ভাই নিজে নিয়েছে।

সুজন: ওই বড় ভাইয়ের দুই ব্যাজ জুনিয়র আকরাম ভাই। ওই বড় ভাইকে আমি বলছি। বড় সে বলছে আমার অফিসে ডেকে এনে বলবোনে। পরে শ্যামল ভাইয়ের অফিসে গিয়ে টাকা আনছে। এগুলো মাহফুজ ভাই জানে। ওই বড় ভাই বলছে আমার এলাকার ছোট ভাই যে কোনো ভাবে তারে একটা জায়গা দিতে হবে। আমার পারপাসে কয়েকবারে টাকা নিয়েছে।

মাসুম: শ্যামল ভাইকে তুমি টাকা দিয়েছো?

সুজন: আমি তাকে দিই নাই।

মাসুম: কোনো পারপাসে গেছে কিনা?

সুজন: সোহেল দিছে, মাহফুজ ভাই দিয়েছে। আরো একজন আকরাম ভাইকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে। সেই পরিচয়টাও মাহফুজ ভাইয়ের দিয়ে। আমি চিনছি মাহফুজ ভাইকে দিয়ে। আরেকদির আমার সামনে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে।

মাসুম: কাকে? শ্যামলরে?

সুজন: আকরাম ভাইকে।

মাসুম: শ্যামল ভাইয়ের সাথে তুমি লেনদেন করো নাই?

সুজন: না। আমাকে রেখে সোহেল ভাই আর মাহফুজ ভাই কয়েকদিন করছে। কারণ আমার সামনে রেখেতো দেয়া যাইতো না। যেদিন শফিউল বারী বাবু ভাই মারা গেছে সেদিনও দিছে।

মাসুম: মউতের দিনও টেহা খাইছে।

সুজন: বাবু ভাই যে হসপিটালে ছিলো সেখানে।

মাসুম: কত দিছে ওইদিন?

সুজন: ওইদিন মনে হয় ২০ হাজার দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে টাকা নেয়ার পর অন্যগ্রুপ সুলতান মাহমুদ ও মাসুম বিল্লাহর থেকে ২৩ লাখ টাকা নিয়ে তাদের পদ দিয়েছে শ্যামলরা। সেই কমিটিতে সুলতান মাহমুদ বিবাহিত হওয়া সত্বেও আহ্বায়ক পদ দেয়া হয়েছে। এবং মাসুম বিল্লাহ জয়েন কনভেনার করেছে তারা। কিন্তু মাসুম বিল্লাহকে প্রত্যাশিত সদস্য সচিব না করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এই অডিও ফাঁস করেন বলে নেতা কর্মীরা জানান।

এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে রূপগঞ্জ থানা ছাত্রদল কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁও থানা কমিটি গঠনেও শ্যামল ও শ্রাবণের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান নাহিদকে বাদ দিয়ে নজরুল ইসলাম বাবুকে আহ্বায়ক করেন শ্যামল। অথচ সিদ্দিকুর রহমান দীর্ঘ ৮ মাস গুম ছিলেন। ১২টি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই কমিটি ঘোষণার পর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলকে নরসিংদীতে অবাঞ্চিত করা হয়। তার বিরুদ্ধে জেলার বিক্ষুব্ধ নেতা কর্মীরা ব্যানার ফেস্টুনসহ বিলবোর্ড টানিয়ে দেয়। ছাত্রদলের ইতিহাসে এটাই প্রথম কোনো কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদককে এরকম অবাঞ্চিত করার ঘটনা।

সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ জানান, সাংগঠনিক কমিটি নরসিংদীতে সরেজমিন পরিদর্শন করেই আমার নাম কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন। জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পরামর্শ অগ্রাহ্য করে ইকবাল হোসেন শ্যামল তার পছন্দের লোককে আহ্বায়ক করেছেন।

সারাদেশে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বেশ কয়েকজন ছাত্র নেতা জানান, বিশেষত সিলেট, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, মুন্সীগঞ্জ, নেত্রকোনা, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ বেশকয়েকটি জেলার থানা কমিটি গঠনে সবচেয়ে বেশি আর্থিক লেনদেন হয়েছে।

পটুয়াখালীর গলাচিপা ও দশমিনা এই দুই উপজেলার কমিটি গঠন নিয়ে অভিযোগের পাহাড় রয়েছে। এখানে বিতর্কিত কমিটি হওয়ায় তারেক রহমান ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মামুন খানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মামুন খান ওই এলাকা সরেজমিন তদন্ত করে আসলেও ত্যাগীদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি এখনো।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেএস/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত